নিজস্ব প্রতিবেদক কেরানীগঞ্জ,ঢাকা ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬-
সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে সরকারি-বেসরকারি দপ্তরে দালি বন্ধের জোর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সাংবাদিক লেখক ঐক্য ফোরাম। সংগঠনটি বলছে, সাংবাদিকরা কেবল সংবাদ সংগ্রহ এবং সংবাদ প্রকাশের স্বার্থেই দপ্তরে যেতে পারবেন। জনগণের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ভীতি, হুমকি-ধমকি দিয়ে কাজ করানো সাংবাদিকতার নীতি বহির্ভূত এবং এটি অপরাধ।
বুধবার সংগঠনের পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব কথা বলা হয়।
বিবৃতিতে সংগঠনের সভাপতি মোঃ কুতুব উদ্দিন বলেন- কেরানীগঞ্জসহ সারাদেশে এক শ্রেণীর মানুষ সাংবাদিকতার সত্যতা যাচাই না করেই পেশাটিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছেন। তারা সাংবাদিক পরিচয়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে দালালি করে বেড়াচ্ছেন। জনসেবার নামে চলছে দুর্নীতি। এতে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, জেলা, উপজেলা ও থানা পর্যায়ের সকল সরকারি-বেসরকারি দপ্তরে সাংবাদিকগণ অবশ্যই যাবেন। তবে তা হতে হবে শুধু সংবাদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে। সংবাদ সংগ্রহ করবেন, তথ্য যাচাই করবেন এবং বস্তুনিষ্ঠভাবে প্রকাশ করবেন। অযথা কোনো সরকারি কর্মচারীকে হয়রানি করা যাবে না।
সভাপতি বলেন- সাংবাদিকতার ধারায় জনগণের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে দপ্তরের কাজ করিয়ে দেওয়া, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হুমকি দেওয়া, ভয় দেখিয়ে ফাইল আটকে দেওয়া বা দ্রুত করিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া নেই। যারা এটি করছেন তারা সাংবাদিকতার নামে অপ-সাংবাদিকতা করছেন।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, কেরানীগঞ্জ নয়, সারাদেশেই এখন এক ধরনের অরাজকতার চিত্র দেখা যাচ্ছে। ভূমি অফিস, উপজেলা, থানা সহ বিভিন্ন দপ্তরে সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে মামলা-হামলার কাজে ‘সহযোগিতার’ নামে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠছে। এসব কর্মকাণ্ডকে ধিক্কার জানিয়ে অবিলম্বে বন্ধের আহবান জানিয়েছে সংগঠনটি।
“রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও কর্মগুণে বিশ্বাসী ফোরাম”
বাংলাদেশ সাংবাদিক লেখক ঐক্য ফোরাম রাষ্ট্রীয় মর্যাদা এবং কর্মগুণে বিশ্বাসী একটি পেশাজীবী সংগঠন। দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনটি জনকল্যাণ, সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ, সাংবাদিকদের আইনী সহায়তা এবং পেশাগত অধিকার রক্ষায় কাজ করে আসছে।
সংগঠনের নেতারা বলেন, কোনো সাংবাদিক বিপদে পড়লে তার পাশে দাঁড়ানো, নির্যাতনের শিকার হলে প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং আইনী সহায়তা প্রদান করা ফোরামের অন্যতম কাজ। একই সঙ্গে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা চর্চা এবং গণমাধ্যমের ভাবমূর্তি রক্ষায়ও সংগঠন সক্রিয় ভূমিকা রাখছে।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, প্রকৃত সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে। তবে সেই নাম ব্যবহার করে কেউ যাতে অপরাধে জড়াতে না পারে সেদিকেও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।
সরকার, প্রশাসন এবং গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহবান জানিয়ে ফোরাম বলেছে, অপ-সাংবাদিকতা দ্রুত বন্ধ করে প্রকৃত সাংবাদিকদের জন্য সম্মানজনক ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা হোক।