নবীগঞ্জ প্রতিনিধি–
নবীগঞ্জ পৌর শহরে দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাত দখল করে অবৈধ স্থাপনা ও দোকান বসানোর ফলে পথচারীদের চলাচলে চরম ভোগান্তি ও তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছিলো। এ পরিস্থিতি নিরসনে গতকাল সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ফুটপাত দখল, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ এবং জনসাধারণের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অভিযোগে ১৪ জন’কে মোট ২ লাখ ৭৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে মধ্যবাজার ও শেরপুর সড়কসহ বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাত দখল করে বসানো অস্থায়ী দোকান, অবৈধ স্থাপনা এবং সড়কে রাখা বিভিন্ন মালামাল অপসারণ করা হয়। এ সময় বেশ কিছু পণ্য জব্দ করা হয়।
প্রশাসন জানায়, জব্দকৃত মালামাল স্থানীয় বিভিন্ন এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে। পৌর শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. রুহুল আমিন। অভিযানে পুলিশ ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেন।
উপজেলা প্রশাসন জানায়, দীর্ঘদিন ধরে বাজার এলাকার ফুটপাত দখল করে দোকান বসানো এবং সড়কের ওপর পণ্য রেখে ব্যবসা পরিচালনার কারণে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে প্রায়ই তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছিল। জনদুর্ভোগ কমানো এবং বাজার এলাকায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন সংবাদ কর্মিকে বলেন, “পৌর শহরের ফুটপাত সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখতে হবে। কেউ যাতে অবৈধভাবে ফুটপাত দখল করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে চলবে এবং প্রয়োজনে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় সচেতন মহল অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করে জানায়, স্থায়ী সমাধানের জন্য নিয়মিত নজরদারি অত্যন্ত জরুরি। মাঝে মাঝে অভিযান চালিয়ে বন্ধ রাখলে পরিস্থিতি আবার আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এদিকে অভিযান শেষ হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই পৌর শহরের মধ্যবাজার ও শেরপুর সড়কের বিভিন্ন স্থানে আবারও কিছু দোকান বসতে দেখা যায়। অনেক ব্যবসায়ীকে দোকানের বাইরে ফুটপাত ও সড়কে মালামাল রেখে ব্যবসা করতে দেখা গেছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, অভিযানের সুফল কতদিন স্থায়ী হবে।


