কিংবদন্তি ফুটবলার রনজিৎ দাসের মহাপ্রয়াণ শ্রদ্ধা ভালবাসা আর চোখের জলে শেষ বিদায়

অন্তিম যাত্রায় সিলেটের ভক্ত, ক্রীড়ানুরাগী, শিল্পী, সাহিত্যিক, রাজনীতিবীদ, সাংবাদিক, সংস্কৃতিকর্মী সকলের অকৃত্রিম শ্রদ্ধা-ভালবাসায় সিক্ত হলেন বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গোলরক্ষক কিংবদন্তি ক্রীড়াবিদ রণজিৎ দাস।

সোমবার রাত আটটায় সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানান সিলেটের সর্বস্তরের মানুষ।
সোমবার ভোরে সিলেটের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস করেন সর্বজন শ্রদ্ধেয় ক্রীড়াবিদ রণজিৎ দাস। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর। তাঁর মৃত্যুতে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রণজিৎ দাসের মরদেহে পুষ্পস্তবক অর্পন করে শেষ শ্রদ্ধা জানান সিসিকের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি কাইয়ুম চৌধুরী, বর্ষীয়ান রাজনীতিবীদ বেদানন্দ ভট্টাচার্য, সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা, সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থা, সিলেট জেলা ফুটবল এসোসিয়েশন, সিলেট জেলা ক্লাব সমিতি, সম্মিলিত নাট্য পরিষদ, উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী, বাংলাদেশ মণিপুরী সাহিত্য সংসদ, সোনালী ব্যাংক রিটায়ার্ড অফিসার্স ক্লাব, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ, চারণ, শ্রুতি, নৃত্যশৈলী, কথাকলি, পাঠশালা, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, পূজা উদযাপন পরিষদ, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, সিলেট এক্সট্রিম রানার্স, সিলেট ইউনাইটেড ক্লাব, প্রথম আলো বন্ধুসভা, গ্রীণ সিলেট ফুটবল একাডেমী।
রণজিৎ দাস আজাদ স্পোর্টিংয়ের হয়ে ঢাকার মাঠ কাঁপিয়েছেন। এ ক্লাবে তিনি ক্যারিয়ারের সোনালী সময় কাটিয়েছেন। ১৯৫৮ সালে তাঁর অসাধারণ অধিনায়কত্বে আজাদ স্পোর্টিং ক্লাব ঢাকা প্রথম বিভাগ ফুটবল লিগে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছিল।
১৯৫৫ থেকে ১৯৬১ সাল পর্যন্ত তিনি নিয়মিতভাবে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান দলের গোলবার সামলেছেন। তাঁর অসামান্য রিফ্লেক্স এবং সাহসিকতা তাকে সমসাময়িক সেরা গোলরক্ষকদের কাতারে নিয়ে গিয়েছিল। তিনি কেবল ফুটবলারই ছিলেন না, একজন উঁচু মানের হকি খেলোয়াড়ও ছিলেন। পূর্ব পাকিস্তান হকি দলের গোলকিপার হিসেবেও আলো কাড়েন। ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তানের হয়ে তিনি হকি লিগে অংশ নিতেন। এছাড়া ক্রিকেটেও তাঁর বিশেষ পদচারণা ছিল।
অবসরের পর তিনি সিলেটের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন ফুটবলার তৈরির কারিগর হিসেবে কাজ করেছেন। দেশের অনেক নামী ফুটবলার তাঁর হাত ধরেই উঠে এসেছেন।
বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতা ও হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে সিলেট শহরের একটি হাসপাতালে তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।
তিনি জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার, প্রথম আলো ক্রীড়া পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরষ্কার পেয়েছেন। তাঁর প্রয়াণে শোক প্রকাশ করেছেন ক্রীড়া সংগঠক, সাবেক সতীর্থ এবং তাঁর অগণিত গুণগ্রাহী।
সোমবার রাতে নগরীর চালিবন্দর শ্মশানঘাটে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে।

কমেন্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *