রমজান মাসে শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধের দাবিতে হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের বিক্ষোভ

হোটেল সেক্টরে ৩০ হাজার টাকা মজুরি ঘোষণা; আসন্ন রমজান মাসে পবিত্রতার নামে শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধের দাবিতে লাল পতাকা মিছিল ও সমাবেশ করে সিলেট জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়ন দক্ষিণ সুরমা উপজেলা কমিটি।

 

১০ ফেব্রুয়ারি’২৫ বিকেল ৪ টায় ক্বীণ ব্রীজের (দক্ষিণ পাশ্বে) মুখ হতে শুরু হয়ে এক বিক্ষোভ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে কদমতলী পয়েন্টে গিয়ে দক্ষিণ সুরমা উপজেলা কমিটির সভাপতি মনির হোসেন এর সভাপতিত্বে এবং জেলা কমিটির ক্রিড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক সুনু মিয়া (সাগর)-এর পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট সিলেট জেলা কমিটির দপ্তর সম্পাদক রমজান আলী পটু, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ শাহপরান থানা কমিটির সভাপতি খোকন আহমদ, জাতীয় ছাত্রদল সিলেট জেলার আহবায়ক শুভ আজাদ শান্ত, সিলেট জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইমান আলী, বাবনা আঞ্চলিক কমিটির সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন, বন্দর বাজার আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি মো. শাহাবউদ্দিন, চন্ডীপুল আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি মহিদুল ইসলাম, শাহপরান থানা কমিটির সভাপতি জয়নাল মিয়া, আম্বরখানা আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি রাশেদ আহমদ ভূইয়া, জালালাবাদ থানা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মখলিছ মিয়াসহ প্রমুখ।

নেতৃবৃন্দ বলেন, হোটেল সেক্টরে কর্মরত শ্রমিকরা ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবি জানিয়ে আসছে দীর্ঘদিন থেকে। বিগত স্বৈরাচারী আওয়ামী সরকারের আমলে মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলন করতে গিয়ে মালিক ও প্রশাসনের যোগসাজোসে নানা হামলা-মামলা সহ নানা ষড়যন্ত-চক্রান্তের শিকার হতে হয়। বিগত সরকার দলীয় বিবেচনায় শ্রমিকদের দাবির বিপরীতে মালিকদের স্বার্থরক্ষায় নামকাওয়াস্তে একটি মজুরি ঘোষণা করলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। প্রতি ৫ বছর অন্তর বাজারদরের সাথে সামঞ্জস্য রেখে নতুন মজুরি ঘোষণার কথা থাকলেও সর্বশেষ ২০১৭ সালের মার্চ মাসে মজুরি ঘোষণার পর ৮ বছর অতিক্রান্ত হতে চললেও নতুন মজুরি ঘোষণার প্রেক্ষিতে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ পরিলক্ষিত হচ্ছেনা। হোটেল সেক্টরে কর্মরত ৩০-৩৫ লাখ শ্রমিকদের দাবি দাওয়া নিয়ে হোটেল সেক্টরের একমাত্র সক্রিয় ফেডারেশন বাংলাদেশ হোটেল রেস্টুরেন্ট সুইটমিট শ্রমিক ফেডারেশন বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় বরাবর একাধিক পত্র প্রেরণ করে।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, সিয়াম সাধনার মাস পবিত্র রমজান মাস আসন্ন। হোটেল শ্রমিকরা মালিকের প্রতিষ্ঠানে বছরের ১১ মাস কাজ করে মুনাফা সৃষ্টি করে দিলেও রমজান মাস আসলে মালিকরা ব্যবসা মন্দার অজুহাত দেখিয়ে অতিরিক্ত মুনাফার লোভে রেস্টুরেন্টের অধিকাংস শ্রমিকদের ছাঁটাই করা হয় এবং যাদের ডিউটিতে রাখা হয় তাদের দিয়ে অতিরিক্ত ক্ষেত্রভেদে কয়েকগুন কাজ করানো হয়। মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য রমজান খুশির আমেজ বয়ে আনলেও হোটেল রেস্টুরেন্ট সেক্টরে কর্মরত শ্রমিকদের পরিবারের উপর নেমে আসে ‘মরার উপর খাঁড়ার গাঁ’। বর্তমান দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন উর্দ্ধগতির বাজারে যখন একজন শ্রমিক কাজ করেও সংসার চালানো দুরুহ হয়ে পড়ে সেখানে পুরো মাস কর্মহীন থেকে রমজান পরবর্তী ঈদ উদযাপন করা ধর্মীয় বৈকি অমানবিক বলে উল্লেখ করেন।
নেতৃবৃন্দ রমজান মাসকে কেন্দ্র করে ছাঁটাই-নির্যাতন বন্ধের জন্য মালিকদের প্রতি আহবান জানানোর পাশাপাশি বিগত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের ন্যায় সরকারের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের নের্তৃবৃন্দদের দলীয় যোগসাজোস না করে শ্রমিকদের প্রকৃত পাওনা ও দাবির প্রেক্ষিতে ভূমিকা রাখার জন্য উদাত্ত আহবান জানান।
কমেন্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *