আমার বখাটে ছেলের নির্যাতন আর সহ্য করতে পারছি না, আমাকে তোমরা বাঁচাও

সিলেট নিউজ টাইমস্ ডেস্ক: দশ বছর আগে স্বামীকে হারিয়েছেন জরিনা বেগম (৭০)। বাড়ি ছাড়া কিছুই নেই, তার ছেলে আমীর হোসেনের নির্যাতনে নিজের বাড়ি ছাড়া মা,থাকেন মেয়ের বাড়িতে। মেয়ের বাড়িতে থেকেও নিস্তার নেই, চাহিদা মতো টাকা দিলে না পারলে মাদকাসক্ত ছেলে সেখানে গিয়েও সে হামলে পড়ে মা ও বোনের ওপর।

বখাটে ছেলের অত্যচারে অতিষ্ঠ হয়ে বুধবার বিকাল সাড়ে ৫টায় মা জরিনা বেগম দোয়ারাবাজার থানায় এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন। এসময় তিনি বলেন, আমার বখাটে ছেলের নির্যাতন আর সহ্য করতে পারছি না। আমাকে তোমরা বাঁচাও। ইতোমধ্যে ৫/৬ টি বিয়ে করেছে সে। আমীর হোসেনের নির্যাতনে স্ত্রীরা কেউ টিকতে পারেনি, একে একে সবাই তাকে ছেড়ে চলে গেছে। আমি আমার ছেলের কঠিন শাস্তি চাই। সে জেল থেকে যেন আর বেরিয়ে আসতে না পারে। এমন আকুতি জানিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন বৃদ্ধা মা জরিনা বেগম।

বখাটে আমীর হোসেন উপজেলার মান্নারগাঁও ইউনিয়নের ইদনপুর মৃত. রমজান আলীর পুত্র।

তবে জানা যায়, তিন বছর আগে আমির হোসেনের নামে বাড়ি লিখে না দেওয়ায় বেধড়ক মারপিট করার পর বস্তাবন্দি করে মা জরিনা বেগম কে সে খাটের নিচে ফেলে রাখে। পরে গ্রামবাসী এসে জরিনা বেগম কে উদ্ধার করে। সেই থেকে ছেলের ভয়ে মেয়ের বাড়িতে থাকেন জরিনা বেগম। তবে মেয়ের বাড়িতে থেকেও নিস্তার নেই, চাহিদা মতো টাকা দিলে না পারলে সেখানে গিয়েও হামলে পড়ে মা ও বোনের ওপর।

বুধবার (৩১ মে) সকালে বাপের বাড়ি থেকে টাকা এনে না দেওয়ায় বখাটে আমীর হোসেন স্ত্রীর নুরুন নেছাকে মারপিট করে। এসময় চিৎকার শুনে ইউপি সদস্য জুয়েল মিয়াসহ গ্রামবাসী এসে ঘরের তালা ভেঙে নুরুন নেছা ও তার এক বছরের সন্তানকে উদ্ধার করে। পরে পুলিশের হাতে বখাটে আমির হোসেনকে তোলে দেন গ্রামবাসী।
আমির হোসেনের বড়বোন রহিমা আক্তার মায়া বলেন, আমার ভাই এলাকার চিহ্নিত বখাটে। মা, বউ, এমন কি ছোট ভাইয়ের বউও তার কাছে নিরাপদ নয়। তার অকথ্য নির্যাতনে দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে আমাদের। গ্রামবাসী আজ তাকে পুলিশে দিয়েছে, সে যেন জেল থেকে আর বের হতে না পারে। আমরা তার অত্যচার থেকে বাঁচতে চাই।

আমির হোসেনের স্ত্রী নুরুন নেছা বলেন, আমার স্বামী চিহ্নিত মাদকসেবী। বিয়ের পর থেকে নির্যাতিত হচ্ছি। বাপের বাড়ি থেকে টাকা এনে না দেওয়ায় (বুধবার) আমাকে পিটিয়েছে। এলাকাবাসী এসে আমাকে উদ্ধার করেছে। আমি বাঁচতে চাই, আমি আর নির্যাতন সহ্য করতে পারছি না।

বখাটে আমির হোসেন জানায়, আমি আমার মা’কে মারধর করেছি একথা ঠিক। মাকে বস্তায় বন্দি করেছিলাম ভয় দেখানোর জন্য।
দোয়ারাবাজার থানার ওসি দেবদুলাল ধর ঘটনার এ সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বখাটেকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কমেন্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *