ভারতীয় ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তরুণীর

জানা যায়, অভিযোগ করা ওই তরুণীর নাম স্বপ্না গিল। সে নিজেও পৃথ্বীর ওপর হামলার মামলায় আসামিদের একজন!

ওই তরুণীর অভিযোগ, পৃথ্বী ব্যাট দিয়ে তার বুকে ও হাতে মেরেছেন। এমনকি পরে তার কাছে ক্ষমাও চান পৃথ্বী। এছাড়াও, আঘাতের ঘটনায় যাতে পুলিশের কাছে কোনো অভিযোগ না করা হয়, সেজন্য পৃথ্বী টাকা দিতে চেয়েছেন বলেও জানান ওই তরুণী।

বৃহস্পতিবার রাতে মুম্বাইয়ের ওশিয়াড়া থানায় অভিযোগ জানাতে গিয়েছিলেন স্বপ্না গিল এবং তার বন্ধুরা। কিন্তু স্বপ্নার কথাবার্তা অসংলগ্ন থাকায় তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পৃথ্বীর বন্ধুর অভিযোগ অনুযায়ী, আট জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিল পুলিশ। স্বপ্না তাদেরই একজন। পরদিন তাকে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়।

স্বপ্ন জানায়, ‘আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সত্যি নয়। বরং পৃথ্বীই আমার বুকে এবং হাতে মেরেছেন। আঘাত করার পর তিনি আমার কাছে ক্ষমাও চান। একইসঙ্গে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের না করার অনুরোধও করেন। এমনকি তারা আমাদেরকে নগদ ৫০ হাজার টাকা দিয়ে মিটিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। উনি মদ্যপ অবস্থায় থানার সামনেই দাঁড়িয়ে ছিলেন। চাইলে তো তখনই এফআইআর করতে পারতেন। তবুও আমরা পুলিশের কাছে সাহায্যের জন্য যাই। সেখানে উল্টো আমাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।’

তবে এ সময় পৃথ্বীর সঙ্গে সেলফি তুলতে চাওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন স্বপ্না। তিনি বলছেন, ‘আমি তাকে চিনি না। কখনো কোথাও দেখিনি। তাই তাকে একবারও সেলফি তোলার জন্য অনুরোধ করিনি।’

এদিকে, স্বপ্নার সেলফি তোলার বিষয়ে দেওয়া মন্তব্যের সঙ্গে তার আইনজীবীর কথায় মিল পাওয়া যায়নি। আইনজীবী আলি কাসিফ খান জানান, ‘ওই বিলাসবহুল হোটেলে পৃথ্বীর সঙ্গে স্বপ্না সেলফি তুলতে গিয়েছিলেন। অনেক দিন ধরেই সে পৃথ্বীর ভক্ত। কিন্তু পৃথ্বী তখন পার্টিতে মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। ওর হাতে একটা ব্যাট ছিল। সেই ব্যাট দিয়ে সে স্বপ্নাকে আঘাত করেন। পরদিন পুলিশের কাছে গিয়ে স্বপ্নার বিরুদ্ধেই অভিযোগ দায়ের করেন তিনি।’

অন্যদিকে, পৃথ্বী এবং ওই তরুণীর বাদানুবাদ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। সেখানে স্বপ্নার হাতে একটি ব্যাট দেখা যায়। আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্বপ্নাকে পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

এর আগে বুধবার রাতে মুম্বাইয়ের এক হোটেলে বন্ধুদের সঙ্গে নৈশভোজে যান পৃথ্বী। সেখানে কয়েকজন ভক্ত তার সঙ্গে সেলফি তোলার আবদার করলে তিনি তা মেটান। কিছুক্ষণ পরে আরও কয়েকজনের সঙ্গে নিয়ে আবারও সেলফির আবদার করলে ক্ষেপে যান পৃথ্বী। ওই সময় হোটেলে দায়িত্বরতদের ডেকে তাদের বাইরে পাঠিয়ে দেন। এর পরই তার গাড়িতে এই হামলার ঘটনা ঘটে।

কমেন্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *