স্ত্রীকে বাঁচাতে গিয়ে স্বামী নিজেও হলেন লাশ

1 total views, 1 views today

নিউজ ডেস্ক:: রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা এ যেন এক সিনেমার করুণ কাহিনীকেও হার মানিয়েছে রিয়া ও রিফাত ভালোবাসায়। বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে চুড়িহাট্টা মসজিদের পাশে চকবাজারের নন্দ কুমার দত্ত রোডের ‘হাজী ওয়াহিদ ম্যানশন’ ভবনের আগুন লাগে। এই ভবনের তৃতীয় তলায় থাকতেন নবদম্পতি রিয়া ও স্বামী রিফাত। গর্ভবতী নারী রিয়া অসুস্থ থাকার কারণে ভবন থেকে নামতে পারেননি, তাই তাকে রেখে নামেননি তার স্বামী রিফাতও। গর্ভের সন্তানসহ দু’জনেরই আগুনে পুড়ে করুণ মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২১ ফেব্রুয়াারি) ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মগের সামনে মরদেহ শনাক্ত করতে না পেরে অপেক্ষারত স্বজনদের সূত্রে জানা যায় এ তথ্য। বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে চুড়িহাট্টা মসজিদের পাশে হাজী ওয়াহেদ মিয়ার বাড়ির নিচে থেকে আগুনের সূত্রপাত হলে মূর্হুতে মধ্যে আশপাশের আরও চারটি ভবনে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ফায়ার সার্ভিসের ৩৭টি ইউনিট ১৪ ঘান্টা কাজ করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।

রিয়া ও রিফাত বন্ধু আল-আকসার সাজিদ জানান, রিয়া ও রিফাত তারা বন্ধু ছিলেন। দুই বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। আমাদের এই দুই বন্ধুর কোনো খোঁজ-খবর পাচ্ছি না। চেহারা দেখে মরদেহ শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। রিয়া গর্বভতী হয়ে অসুস্থ ছিল। রাতে আগুন লাগার পর রিফাত তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছিলো। কিন্তু রিয়াকে নিয়ে বাসা থেকে বের হওয়ার জন্য বার বার চেষ্ট করলেও রিয়া বেশি অসুস্থ হওয়ায় নামতে পারছিল না। তাই স্ত্রীকে রেখে সে নিজেও (রিফাত) নামেনি এবং দু’জনই আগুনে পুড়ে মারা যায়। এরকম পরিস্থিতি হওয়ার কারণে এদের পরিবারের সদস্যগণ অসুস্থ হয়ে পুড়ছে। তাদের পরিবার লোক আসতে দেরি হওয়ায় আমরাই (বন্ধু) ছবি-তথ্য নিয়ে এসেছি। তবে এখন পর্যন্ত মরদেহ শনাক্ত করতে পারিনি।

ঢামেকের মর্গ থেকে সবশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ৪১ জনকে শনাক্ত করা গেছে। যাদের চেনা যাচ্ছে না তাদের শনাক্ত করতে ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে।

এছাড়া পুলিশের কাছে এখনোও নাম জমা দিচ্ছেন অনেকেই। ওয়াহিদ ম্যানশন ভবনের চার তলার থেকে উদ্ধার করা হয়েছে পাঁচজনের মরদেহ। এছাড়া পাশের ভবনের নিচে পানের দোকানদার ইব্রাহিমের মরদেহ শনাক্ত করা যাচ্ছে না বলে জানান তার স্বজনরা।

কমেন্ট
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •