মেয়র আরিফের বিরুদ্ধে কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ করে মানববন্ধন, প্রতিকী আত্মহুতি

1 total views, 1 views today

সিলেট নিউজ টাইমস্ ডেস্ক:: সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে ১৬ কোটি ৮ লক্ষ টাকা দুর্নীতির অভিযোগ করে মানববন্ধন করেছে প্রদীপ্ত সিলেট সংগয়ঠন। মানববন্ধনে ভুক্তভোগী নগরীর যতরপুরস্থ সম্পাতপা এন্টারপ্রাইজের প্রোপ্রাইটর সঞ্জয় রায় প্রতিকী আত্মহুতি করেন এবং পরবর্তীতে তার আত্মহত্যার জন্য মেয়র আরিফকে দায়ী করেন।

মঙ্গলবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে সিলেটের সামাজিক, রাজনৈতিক ও সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গ সহ ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।

মানববন্ধনে সঞ্জয় রায় বলেন- ২০১৪ সালে সিলেট সিটি কর্পোরেশনে নগর ভবন নির্মাণের জন্য একটি ওয়ার্ক অর্ডার হয় এবং উক্ত ওয়ার্ক ওয়ার্ডারটি ষোল কোটি আট লক্ষ টাকা মূল্যের ছিল। উক্ত ওয়ার্ক ওয়ার্ডটি ঢাকার মাহবুব ব্রার্দাসকে প্রা. লি. কে প্রদান করা হয়। মাহবুব ব্রাদার্স উক্ত কাজটি সম্পাদনের জন্য বিগত ২০১৪ইং সালের ২৩ নভেম্বর তারিখে সম্পাতপা এন্টারপ্রাইজ এর প্রোপ্রাইটর সঞ্জয় রায়ের সাথে চুক্তি করে। কাজ শুরুর পর নগর ভবন হতে মাহবুব ব্রাদার্স প্রা. লি. এর নামে বিল ইস্যু করা হত এবং মাহাবুব ব্রাদার্স অফিস থেকে তিনি নিয়মিত চেক গ্রহণ করে তার মনোনীত একাউন্টে লেনদেন করে আসছিলেন।

সঞ্জয় রায় বলেন, ‘মোট কাজের আনুমানিক ৫ শতাংশ কাজ বাকী থাকাবস্থায় আমার লিভার সিরোসিজ রোগ ধরা পড়লে আমাকে জরুরীভাবে ইন্ডিয়াতে চিকিৎসার জন্য যেতে হয়। আমি ইন্ডিয়াতে যাওয়ার পর মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী মূল ঠিকাদার মাহাবুব ব্রাদার্সকে জিম্মি করে ২ কোটি ৬৩ লক্ষ টাকার চুড়ান্ত বিল আমাকে সম্পুর্ণ অগোচরে রেখে আত্মসাৎ করেন।’

এক পর্যায়ে ২ বছর অতিবাহিত হওয়ার পর কাজের বিপরীতে সিটি কর্পোরেশনে রক্ষিত জামানতের ১ কোটি ৫৮ লক্ষ টাকা মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী আবারো একই কায়দায় মাহাবুব ব্রাদার্সকে ভয়ভীতি দেখিয়ে তার সহযোগি ক্যাপিটাল হোটেলের পরিচালক তোফায়েল খান এর ব্যাংক একাউন্টে নিয়ে আসেন। মেয়র আরিফ মাহবুব ব্রাদার্সকে এই বলে আশ্বস্থ করেন যে, এই জামানতের টাকা মেয়র নিজের তত্তাবধানে সঞ্জয়কে প্রদান করবে। জামানতের এই টাকার চেক তোফায়েল খানের একাউন্টে আনার সময় ১৫নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছয়ফুল আমীন বাকের উপস্থিত ছিলেন। চূড়ান্ত বিলের ন্যায় জামানতের টাকা আত্মসাতের খবর পেয়ে তখন সঞ্জয় রায় মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর কাছে গিয়ে তার টাকা দাবী করলে মেয়র আরিফ তাকে প্রাণে মেরে ফেলার ভয় দেখায়।

সঞ্জয় রায় আরো বলেন, মেয়র আরিফের বাসায় সঞ্জয়কে আটকে রেখে সঞ্জয়ের বাসা থেকে একটি ব্লাঙ্ক চেক আনিয়ে জোরপূর্বক স্বাক্ষর করান। ব্লাঙ্ক চেক রেখে মেয়র তাকে বলেন যে, আমি যদি চূড়ান্ত বিল কিংবা জামানতের টাকা কোনদিন চাইতে আসি তাহলে ব্লাঙ্ক চেকে ইচ্ছে মতো ফিগার বসিয়ে মামলা দিয়ে জেলে ঢুকিয়ে রাখবে।

সঞ্চয় প্রাণের ভয়ে এতোদিন উক্ত ঘটনা কাউকে বলেননি। পরে তিনি আইনের আশ্রয়ের জন্য পুলিশ স্টেশন, জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি এবং দুদকে জানানোর সিদ্ধান্ত নেন।মানববন্ধনে তিনি তার প্রাপ্য টাকা যথাশীঘ্রই ফেরত পেতে চান এবং মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী কর্তৃক যে সকল দূর্নীতি হয়েছে, তার যথাযথ তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানান।

তার দাবি পূরণ না হলে তিনি সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নগরবাসীর সামনে আত্মহূতি দিবেন বলেও মানববন্ধনে বলেন।

কমেন্ট
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •