মিয়ানমারে বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গে পুলিশের রবার বুলেট

19 total views, 1 views today

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: মঙ্গলবার পূর্বাঞ্চলীয় পার্বত্য রাজ্য কায়ার রাজধানী লোইকোতে এ ঘটনা ঘটেছে বলে খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের।

পুলিশ জানিয়েছে, কারেনি গোষ্ঠীর সদস্যরা লোইকোতে মিয়ানমারের স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতা জেনারেল অং সানের একটি মূর্তি স্থাপনের বিরোধিতা করে প্রতিবাদ করছে।

সংগঠকরা জানিয়েছেন, বিক্ষোভ প্রদর্শনের অনুমতি না থাকা সত্বেও জাতীয় ছুটির দিন ‘সংযুক্ত দিবসে’ অন্তত তিন হাজার লোক লোইকোর ওই সমাবেশে হাজির হয়েছিল।

একটি ঘোড়ার ওপর বসা সোনায় মোড়ানো জেনারেলের মূর্তিটি চলতি মাসেই উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। এতে স্থানীয়রা ফের প্রতিবাদে নেমেছে।

গত বছরের মাঝামাঝি রাজ্য কর্মকর্তারা এই মূর্তি স্থাপনের ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই প্রতিবাদে নামে স্থানীয়রা।

কারেনি রাজ্য যুব বাহিনীর নেতা খুন টমাস প্রতিবাদ সমাবেশে বলেছেন, “আমরা জেনারেলের মূর্তির বিরোধিতা করছি না, আগে তার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হোক, এটাই আমাদের দাবি।”

স্মার্টফোন ব্যবহার করে ফেইসবুকে প্রতিবাদ সমাবেশটি সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

প্রতিবাদে অংশগ্রহণকারীরা তাদের সঙ্গে মধ্যস্থতায় ব্যর্থ হওয়ার জন্য রাজ্যের শীর্ষ কর্মকর্তা ও অর্থমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছেন।

প্রতিবাদ ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশের নেওয়া উদ্যোগে অন্তত ১০ জন সামান্য আহত হয়েছেন বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন খুন টমাস।

ফাঁকা রবার বুলেট ছুড়ে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ভয় দেখানোর কৌশল নিয়েছিল বলে দাবি করেছেন পুলিশ প্রধান উয়িন হতাই।

“এখন পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে। বাচ্চারা শুধু তাদের মতামত তুলে ধরছে,” বলেছেন তিনি।

অনঅনুমোদিত সমাবেশ, উস্কানি ও মানহানির অভিযোগে এখান থেকে ৫৪ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পরে সন্ধ্যার দিকে কর্মকর্তারা আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে নিতে রাজি হলে সমঝোতার মধ্য দিয়ে বিক্ষোভ শেষ হয়।

দুপক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতা চলাকালীন প্রতিবাদ স্থগিত রাখা হবে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও খুন টমাস।

মিয়ানমারের প্রধান শহর ইয়াঙ্গুনেও প্রায় দুই ডজন প্রতিবাদকারী জেনারেল অং সানের মূর্তির বিরোধিতা করে ও লোইকোর প্রতিবাদকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছে।

নগরীর স্বাধীনতা স্মৃতিস্তম্ভের কাছে আয়োজিত এই বিক্ষোভকারীদের হাতে ধরা ফেস্টুনে লেখা ছিল, “আর কোনো মূর্তি নয়- আমাদের খাবার দাও।”

মিয়ানমারের নেত্রী ও স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চি-র বাবা অং সান মিয়ানমারের স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রধান নেতা। দেশটির স্বাধীনতার প্রায় বছর খানেক আগে তিনি দেশটির সংখ্যালঘু নৃগোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে একটি চুক্তির মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধ মিয়ানমার (তৎকালীন বার্মা) প্রতিষ্ঠার সূচনা করেছিলেন। ১৯৪৭ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ওই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল।

তারপর থেকে এ দিনটি মিয়ানমারে একটি ছুটির দিন হিসেবে উদযাপিত হয়ে আসছে।

চুক্তির বছরেই অং সানকে হত্যা করা হয় এবং তারপর থেকে চুক্তিটি আর বাস্তবায়ন করা হয়নি বলে অভিযোগ দেশটির সংখ্যালঘু নৃগোষ্ঠীগুলোর।

কমেন্ট
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •