বাসায় অবৈধ ক্লিনিক, ওসমানী মেডিকেলের নার্স আটক

190 total views, 1 views today

সুমন ইসলাম:: সিলেট নগরীর ১০ নং ওয়ার্ড শামীমাবাদে সিলেট এম এ জি ওসমানি মেডিকেল হাসপাতালের নার্স পরিচালিত একটি ক্লিনিকে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ।

শামীমাবাদের ৭নং গলির শান্তিকুঞ্জ নামের একটি ভাড়া বাসায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে গর্ভপাত করার খবর পেয়ে সেখানে অভিযান চালানো হয়। এসময় পুলিশ ওই ক্লিনিকের নার্সকে আটক করেছে।

সরজমিনে দেখা গেছে সিলেট নগরীর শামীমাবাদ ৭ নম্বর রোডের ৫ নম্বর শান্তিকুঞ্জ বাসার লোকচক্ষু ফাঁকি দিতে টয়লেটর“মেই ক্লিনিকের নামে অবৈধ গর্ভপাতের আস্তানা খুলেছিলেন নার্স আসমা বেগম। তিনি সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যালের ৪র্থ তলার ৫নং ওয়ার্ডে সার্জারি বিভাগে বর্তমানে কর্মরত। তার স্বামী হানিফ মিয়ার সহযোগিতা গত ১০ বছর ধরে তিনি এ ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (২৭ নভেম্বর) রাত সাড়ে নয়টার দিকে ওই বাসায় অভিযান চালায় পুলিশ। লামাবাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই কামাল হোসেনের নেতৃত্বে অভিযানে আটক করা হয় নার্স আসমাকে। তবে তার স্বামী হানিফ মিয়া পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

এময় অভিযান এর খবর শুনে আসা প্রত্যক্ষদর্শী ৪ নং রোডের ১৮৬ নাম্বার বাসার বাসিন্দা, নুর মিয়ার ছেলে সাগর হুসেন জানান, আসমা বেগম এর বাসার আশে পাশেই রয়েছে কিছু ছাত্র হোস্টেল,এই রোডে বসবাসকাকারী ছাত্ররা প্রায় রাত্রই অই বাসা থেকে মহিলাদের চিৎকার এর আওয়াজ শুনে অনেক বার আমাকে অবগত করেছে, কিন্ত আমি এ বিষয়টা এত জঠিল হবে জানতাম না। আজ বুঝতে পারলাম এখানে দালালাদের মাধ্যমে রোগী ম্যানেজ অবৈধভাবে গর্ভপাত করাতেন।

অভিযানকালে গর্ভপাতের কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন জিনিসপত্র উদ্ধার করে পুলিশ। এসময় দালালের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকার চুক্তিতে গর্ভপাত করতে আসা এক মহিলাকেও আটক করা হলেও ঘটনাস্থলেই ছেড়ে দেওয়া হয়।

এসআই কামাল হোসেন জানান, অভিযুক্ত নার্সকে আটক করার পাশাপাশি ওই বাসার জিনিসপত্র জব্দ করা হয়েছে। জানা গেছে একই অভিযোগে ২০১৭ সালে একটি মামলায় জেল খাটেন নার্স আসমা বেগম।

এ বিষয়ে ওসমানী মেডিকেল হাসপাতাল’র প্রশাসন ও প্রশিক্ষণ সহকারী পরিচালক ডাঃ আবুল কালাম এর কাছে জানতে চাইলে তিনি  জানান, আসমা বেগম এর বিষয়টি আমরা পুলিশ এর মাধ্যমে অবগত হয়েছি, বিষয়টি অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক এবং এ বিষয়ে পুলিশ তার আইনি ব্যাবস্থা নিবে, এবং আমাদের প্রতিস্টানে আমরা এবিষয়ে তদন্ত করে যথাযথ ব্যাবস্থা নেব, ২০১৭ সালে কারাভোগ করে কিভাবে সপদে আসমা বেগম বহাল রয়েছেন এমন প্রশ্নে তিনি কুন উত্তর দিতে পারেন নি।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কোতয়ালী থানার ওসি সেলিম মিয়া জানান, কোন অভিযুক্তকারী না থাকায় আসামীকে বুধবার কোর্ট এ চালান দেয়া হয়।

কমেন্ট
শেয়ার করুন
  • 356
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    356
    Shares