ধর্মপাশায় সেতুর সংযোগ সড়কে ভয়াবহ ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে: ৬ গ্রামের দুর্ভোগ

129 total views, 1 views today

নিজস্ব প্রতিনিধি :: সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার সদর ইউনিয়নের দশধরী গ্রামের সামনে বদরখাল খালের ওপর নির্মিত সেতুটির দক্ষিণপাশের সংযোগ সড়কের একাংশ ভয়াবহ ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে এখানকার ছয়টি গ্রাম ও পাশের একটি উপজেলার কয়েকটিগ্রামের মানুষজনকে চলাচল করতে গিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

সংযোগ সড়কটি নাজুক অবস্থায় থাকায় যানবাহন উল্টে প্রায়সই ঘটছে দুর্ঘটনা।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডির) উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা সদরের দশধরী গ্রামের সামনের সেতুটির দৈর্ঘ্য ১৬ মিটার।

এলজিইডির অধীনে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় দরপত্রের মাধ্যমে ৭৫ হাজার টাকা ব্যয়ে এই সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়কের কাজটি পান মেসার্স ইকবাল এন্টার প্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ২০১৬ সালের জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে সেতুটির সংযোগ সড়কের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়। কাজ শেষ হওয়ার দুই মাস যেতে না যেতেই সেতুটির সংযোগ সড়কের দক্ষিণপাশের অংশে ভাঙনের সৃষ্টি হয়। যতই দিন যাচ্ছে সংযোগ সড়কের ভাঙন ততই বড় হচ্ছে। এই সড়ক দিয়ে এখানকার দশধরী, দুধবহর, চকপাড়া, আতকাপাড়া, দাসপাড়া, নোয়াগাঁওসহ পাশের নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার সুখদেবপুর, ফিরোজপুর, বানিয়াহারী, গাজীনগর, বরুংকা গ্রামের মানুষজন চলাচল করে থাকেন। এই সেতুটির ওপর দিয়ে রিকশা, ইজিবাইক, মোটরসাইকেল, ঠেলাগাড়িসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করে থাকে। সংযোগ সড়কের দক্ষিণের অংশে ভাঙনের সৃষ্টি হওয়ায় যানবাহনে প্রায়সই ঘটছে দুর্ঘটনা।

সেতুর দক্ষিণ পাশের চা-বিস্কুটের দোকানদার ও দশধরী গ্রামের বাসিন্দা দুলাল মিয়া বলেন, ঠিকাদার এই রাস্তার কাম ভালা কইর‌্যা করছইন না। দুই মাস যাইতে না যাইতেই এইডার ভাঙন দেহা দিছে। হামেসাই এই ভাঙ্গা অংশে একসিডেন্ট অইতাছে। এইডা লইয়া কারও কুনু মাথা ব্যথা নাই।

রিকশা চালক আপন মিয়া বলেন, বিরিজ লাগাাইল সড়কডা ভাইংগা গ্যাছে। অহন রিকশা লইয়া বিরিজডার উফরে উডার আগে বুকটাত কাফুনী উডে। নিরুফায় অইয়া বিরিজ উডার আগেই প্যাসেঞ্জার লামাইয়া দেই। তাড়াতাড়ি এইডা ঠিক করণ দরহার।
দুধবহর গ্রামের বাসিন্দা কবি আনিসুল হক লিখন বলেন, এই সেতুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এখানকার ছয়টি গ্রামের মানুষজন ছাড়াও পাশের মোহনগঞ্জ উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রাম মিলিয়ে ত্রিশ হাজারেরও বেশি মানুষজন চলাচল করে থাকে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

ঠিকাদার ইকবাল আহমেদ বলেন, সংযোগ সড়কটির কাজ ভালোভাবেই করা হয়েছিল। এতে কোনো অনিয়ম করা হয়নি। কাজ করার পরই পরই এটির ওপর দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে এই অংশটি ভেঙে গেছে।

এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী শাহ মো.আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, এ সমস্যা সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

কমেন্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.