বিএনপি এখনও তৈরি করেনি নির্বাচনি ইশতেহার

34 total views, 1 views today

নিউজ ডেস্ক:: ভোটারদের আকৃষ্ট করতে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রধান হাতিয়ার নির্বাচনী ইশতেহার। কিন্তু নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসলেও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন আর দলীয় প্রধানের মুক্তির দাবীতে আন্দোলন করে ব্যস্ত সময় পার করছে বিএনপি। ফলে দলটি এখনো তৈরি করেনি নির্বাচনের ইশতেহার। এখনো নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্তও চূড়ান্ত করেনি দলটি।
ক্ষমতার ভারসাম্যসহ রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে বিএনপি কিভাবে দেশ পরিচালনা করবে তার একটি রূপকল্প ২০১৭ সালের মাঝামাঝি ঘোষণা করেছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তা ভিশন ২০৩০ হিসেবে পরিচিতি পায়। দলটির নেতারা বলছেন, দলের প্রধানের দুরদর্শিতা ছিল এই ভিশন।

চলতি বছরের শুরুতে দুর্নীতির দায়ে কারাবন্দি হন খালেদা জিয়া। ফলে নির্বাচনের প্রস্তুতির চেয়ে দলীয় প্রধানকে মুক্ত করতে বেশি ব্যস্ত দলটি।

গুরুত্বের বিচারে দলের প্রধানের ভিশনে থাকা ৩৭ টি মূল দফার ২৫৬টি বিষয় থেকে কমিয়ে ১২ টি লক্ষ্য প্রকাশ করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশে ঘোষণা করেন মির্জা ফখরুল।

লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যগুলো হল- ১. রাষ্ট্রের সর্বস্তরে সুশাসন প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করা। ২. সব প্রতিহিংসার রাজনীতির অবসানে জাতীয় ঐকমত্য গঠন। ৩. রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দলীয়করণের ধারার বদলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা। ৪. রাষ্ট্রক্ষমতায় গ্রহণযোগ্য ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা। ৫. স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিচারক নিয়োগ এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও ক্ষমতা নিশ্চিত করা। ৬. স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের রক্ষাকবচ দেশপ্রেমিক সশস্ত্র বাহিনীকে আরও আধুনিক, শক্তিশালী ও কার্যকর করা। ৭. গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। ৮. দুর্নীতি প্রতিরোধে দায়িত্বরত প্রতিষ্ঠানগুলোকে যথাযথভাবে সংস্কার ও কার্যকর করা। ৯. সব নাগরিকের মৌলিক মানবাধিকারের নিশ্চয়তা বিধান করা। ১০. সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব এবং কারও সঙ্গে বৈরিতা নয় এ মূলনীতিকে অনুসরণ করে জাতীয় মর্যাদা এবং স্বার্থ সংরক্ষণ করে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করা। প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক সৎ প্রতিবেশীসুলভ বন্ধুত্ব ও সমতার ভিত্তিতে ব্যবসা-বাণিজ্য, যোগাযোগ, বিনিয়োগ ইত্যাদি ক্ষেত্রে আন্তরিকতাপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার কার্যকর উদ্যোগ ও পদক্ষেপ গ্রহণ করা। ১১. কোনো ধরনের সন্ত্রাসবাদকে মদদ না দেয়া এবং কোনো জঙ্গিগোষ্ঠীকে বাংলাদেশের ভূখন্ড ব্যবহার করতে না দেয়া। ১২. সর্বনিম্ন আয়ের নাগরিকদের মানবিক জীবন নিশ্চিত করে, আয়ের বৈষম্যের অবসানকল্পে অর্থনৈতিক নীতি গ্রহণ এবং শ্রমজীবী জনগণের জীবনযাত্রার মানের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ জাতীয় ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা। সারাদেশে বিদুৎ ও জ্বালানি নিশ্চিত করা।স্নাতক ও সমমান পর্যন্ত শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করা।

নির্বাচনের বিরোধিতা করলেও এটি হতে পারে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের মূল অনুসঙ্গ।

নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসলেও সেই নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে কি না তা নিয়ে দলে রয়েছে সংশয়। দাবী আদায় না হলে নির্বাচনে যাওয়ার অর্থ নেই বলে মনে করেন দলটির শীর্ষ নেতারা। শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে গেলে ইশতেহার তৈরি করতে বেশি সময় লাগবে না বলে মনে করেন ব্যারিস্টার মওদুদ।

তিনি বলেন, নির্বাচনী ইশতিহার তৈরিতে আমাদের বেশি সময় লাগবে না। আমাদের ভিশন ২০৩০ আছে। সেটাই আমাদের ইশতিহারের মুল ভিত্তি হবে।

বিএনপি অতীতে একাধিকবার রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকায় ইশতেহার তৈরিতে কোন সমস্যা হবে না বলেও মনে করেন ড. মঈন খান।

তিনি আরও বলেন, যেদিন নির্বাচনী ইশতিহার ঘোষণা হবে। সেদিন আমি যে প্রার্থী হবো, বা অন্য কেউ যে প্রার্থী হবে তার নির্বাচন পরিচালনার জন্যতো জনবল লাগবে, দলের পরিচালনা কমিটি ও তার কর্মীদের যদি জেলে আটকে রাখে তাহলে নির্বাচনে পরিচালনা কিভাবে হবে।

নিরপেক্ষ সরকারের দাবী আদায় করতে না পারায় ২০১৪ সালে নির্বাচনে অংশ নেয়নি বিএনপি। সেটি দলটির রাজনীতির সঠিক সিদ্ধান্ত দাবী করে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী এমাজ উদ্দিন আহমেদ।

তিনি বলেন, ২০১৪ এর ৫ জানুয়ারিতে বিএনপির নির্বাচনে অংশ না নেওয়াটা ঠিক ছিল। কিন্তু এবার নির্বাচনে তাদের যেতেই হবে। রাজনীতির প্রয়োজনেই এবার নির্বাচন বর্জন করা ঠিক হবে না দলটির।

সবাইকে নিয়ে নির্বাচন না করতে পারলে দেশ গভীর সংকটে পড়বে বলে মনে করেন এ রাষ্ট্রবিজ্ঞানী।

কমেন্ট
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •