ছয় জেলায় বন্দুকযুদ্ধে নিহত ১০

নিউজ ডেস্ক:: ঢাকা, যশোরসহ ছয় জেলায় র‌্যাব ও পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় ১০ জন নিহত হয়েছেন। গতকাল সোমবার দিবাগত রাত থেকে আজ মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত এসব বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে।

ঢাকার দক্ষিণখানে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে সুমন মিয়া ওরফে খুকু সুমন (৩২) নামের এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন।

গতকাল সোমবার রাত ১২টার দিকে এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে দক্ষিণখানের একটি মাঠে মাদক বিক্রেতাদের সংঘবদ্ধ দলকে আটকের উদ্দেশ্যে পুলিশ অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক বিক্রেতারা গুলি ছুড়োলে আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি ছুড়ে।

এক পর্যায়ে তারা পিছু হটলে ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় এক মাদক বিক্রেতাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

অপরদিকে,যশোর সদর উপজেলার রায়পাড়া ও নঙ্গরপুর এলাকায় পৃথক বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় ৩ মাদক কারবারি নিহত হয়েছেন বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের নাম পরিচয় উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

যশোর কোতয়ালী থানার এসআই মঞ্জুরুল ইসলাম সাংবাদিকদের’কে জানিয়েছেন, গতকাল দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে চাঁচড়া এলাকায় দুইদল মাদক ব্যবসায়ীর মধ্যে গোলাগুলি হচ্ছে বলে খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে হাজির হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সশস্ত্র মাদক বিক্রেতারা পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল তল্লাশি করে দুটি মরদেহ মেলে। পরে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে দুটি পিস্তল, পাঁচ রাউন্ড গুলির খোসা এবং দুই প্যাকেট ইয়াবা উদ্ধার করা হয় । ভোর পৌনে চারটার দিকে পুলিশ কর্মকর্তা মঞ্জুরুল ইসলাম লাশ দুটি যশোর জেনারেল হাসপাতালে পৌঁছে দেয়।

তবে ঘটনাস্থল রায়পাড়া এলাকায় খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে, পুলিশ যে সময়ের কথা উল্লেখ করছেন সে সময় ওই এলাকায় ওই ধরনের গোলাগুলির কোন খবর তাদের জানা নেই।

এর আগে মধ্যরাতে ডাকাতি করার সময় গণপিটুনির শিকার হয়ে যশোর-মাগুরা মহাসড়কে এক ব্যক্তি নিহত হন বলে পুলিশ দাবি করেছে। যশোর কোতয়ালী থানার ইনসপেক্টর (অপারেশন) শামসুদ্দোহা জানান, মধ্যরাতে যশোর-মাগুরা মহাসড়কের নোঙরপুর বাজারের কাছে গাছে গুঁড়ি ফেলে একদল দুর্বৃত্ত ডাকাতি করছিল। এই সময় স্থানীয় জনতা ধাওয়া করে ধরে একডাকাতকে পিটুনি দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ আহত অবস্থায় উদ্ধার করে রাত তিনটার দিকে ওই ব্যক্তিকে জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে পুলিশের বক্তব্যকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন ঘটনাস্থলের আশেপাশের লোকজন। তারা বলছেন, গত রাতে নঙ্গরপুর বা কোদালিয়া বাজারের আশেপাশে যশোর-মাগুরা সড়কে কোন ডাকাতির ঘটনা তাদের জানা নেই। ওই এলাকায় এ ধরনের কোন ঘটনাই ঘটেনি বলে এলাকাবাসী জানিয়েছে।

সাতক্ষীরার কলারোয়ায় ইয়াবা সম্রাট আনিসুর রহমান (৪০) মাদক ব্যবসায়ীদের অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপ্লব কুমার নাথ জানান, গতকাল রাত সোয়া ২ টায় তার কাছে খবর আসে যে দেয়াড়া ইউনিয়নের চিতলার মাঠে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে মাদকের ভাগাভাগি নিয়ে চোরাচালানিদের দুটি বিবদমান গ্রুপ গোলাগুলি করছে। এ খবর পেয়ে খোরদো পুলিশ ক্যাম্পের উপপরিদর্শক (এসআই) সিরাজুল ইসলাম একদল পুলিশ সদস্য নিয়ে সেখানে পেঁছে তাদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশ তিন রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। ওসি আরও জানান, কিছুক্ষণ পর গোলাগুলি থেমে গেলে ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় এক ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে কলারোয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার মৃত ঘোষণা করেন। এসময় ঘটনাস্থল থেকে একটি ওয়ান শুটার গান, ২রাউন্ড গুলি ও ৭০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। নিহতের বিরুদ্ধে সাতক্ষীরা জেলায় ১০ টি মাদক মামলা রয়েছে বলেও নিশ্চিত করেছেন তিনি।

তবে নিহতের স্ত্রী নাজমা বেগমের দাবি তার স্বামীকে সোমবার সকালে বাড়ি থেকে চোখ বেঁধে তুলে নিয়ে গেছে সাদা পোশাকধারীরা। পরে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের শেহালা মাঠে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে দুই মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন মুকাদ্দেস আলী (৪২) ও ফজলুর রহমান ওরফে টাইটেল (৪৮)।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে মাদক লেনদেনের সময় দৌলতপুর উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের শেহালা মাঠে একদল মাদক ব্যবসায়ীকে আটকের উদ্দেশ্যে পুলিশ অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পুলিশও পাল্টা গুলি চালালে দুজন মাদক ব্যবসায়ী গুলিবিদ্ধ হয়। পরে তাদের দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় ঘটনা স্থল থেকে বিপুল পরিমান মাদিক উদ্ধের করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়ায় মাদক ব্যবসায়ীদের অভ্যন্তরীন বন্দুকযুদ্ধে জনি মিয়া নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, গতকাল মধ্যরাতে পৌরসভার খালাজোড়ায় গোলাগুলির শব্দ শুনে থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। ঘটোনাস্থল থেকে তারা জনিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয় গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি দেশীয় পাইপগান, একটি কার্তুজ, দুটি বড় ছোরা, একটি চাপাতি উদ্ধার করা হয়।

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার পাঁচঘড়িয়া এলাকায় পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে হারুন (৪৫) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছেন।
হরিপুর থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে , গতকাল রাত দুইটার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার পাঁচঘড়িয়া এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানের সময় মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পুলিশও পাল্টা গুলি ছুড়লে হারুন গুলিবিদ্ধ হন। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এসময় ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ১১০ বোতল ফেনসিডিল ও বেশকিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

বরগুনায় র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মো. ফিরোজ মৃধা নামের এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন।

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বেতাগীর কাজিরাবাদ ইউনিয়নের কুমড়াখালী এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালায় র‌্যাব-৮ এর পটুয়াখালী ক্যাম্পের সদস্যরা। এসময় র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে ফিরোজ ও তার সহযোগীরা র‌্যাবকে উদ্দেশ্য করে গুলি ছোড়ে। পরে র‌্যাবও আত্মরক্ষার জন্য পাল্টা গুলি চালায়। উভয়পক্ষের গুলিবিনিময়ের একপর্যায়ে পিছু হটলে ঘটনাস্থল তল্লাশি করে ফিরোজের গুলিবিদ্ধ মৃতদেহ উদ্ধার করে র‌্যাব। এসময় ঘটনাস্থল থেকে একটি রিভলবার, রিভলভারের দুই রাউন্ড গুলি, একটি শুটারগান, বন্দুকের তিন রাউন্ড গুলি, ২৫০টি ইয়াবা ও ৯০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করেছে র‌্যাব।

বেতাগী থানার ওসি মো. মামুনুর রশিদ এ তথ্য নিশ্চত করে জানান, নিহত ফিরোজ মৃধা মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবী ছিল। ফিরোজের বিরুদ্ধে থানায় ৯টি মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রয়েছে। তার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

কমেন্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *