(অভিযুক্ত নারী ও কথিত দেবরের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর মানববন্ধন)
একটি পাড়ায় ২ শতাধিক পরিবারের বাস। বাসিন্দার সংখ্যা ৫ শতাধিক। চলাচলের উপযোগী রাস্তা ছিলো না দীর্ঘ ৩০ বছর। রোগী কিংবা মৃতদেহ নিয়েও যাতায়াতের ক্ষেত্রে ছিলো চরম ভোগান্তি। এ অবস্থায় গত বছর সরকারি জায়গায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে একটি খালের অংশ ভরাট করে তৈরি করা হয় চলাচলের উপযোগী রাস্তা। এতে স্বস্তি নেমে আসে ওই পাড়ার ৫ শতাধিক মানুষের মাঝে। সদ্য হওয়া কাঁচা রাস্তাটি এখন পাকাকরণের দাবি স্থানীয়দের।
কিন্তু গ্রামীণ এই উন্নয়নে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছেন এক প্রবাসী নারী ও তার কথিত দেবর। ঘটনাটি সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঢাকাদক্ষিণ ইউনিয়নের পশ্চিম বারকোট গ্রামের। এ দুজন এক আইনজীবি ও স্থানীয় মুরুব্বিদের বিরুদ্ধে ফেসবুকসহ বিভিন্নভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। এ ঘটনায় মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিকালে স্থানীয় বাসিন্দারা ওই নারী ও তার দেবরের বিরুদ্ধে মানবব্ন্ধন করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এতে ৫ শতাধিক নারী-পুরুষ উপস্থিত ছিলেন।
মানববন্ধন কর্মসূচিতে স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন- পশ্চিম বারকোটের মৃত মাসুক উদ্দিনের স্ত্রী প্রবাসী হেনা বেগম ও তার কথিত দেবর মৃত ফলিক মিয়ার ছেলে ফয়সল আহমদ তাদের ধানি জমির পাশ ঘেষে বয়ে যাওয়া স্থানীয় মোকামের খালের (তিখালার শাখা) অন্তত ২০ ফুট অংশ জবরদখল করে ফেলেছেন। এতে সরকারি এ খালটি সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় গত বছরের ডিসেম্বরে বারকোট ১নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশ থেকে পশ্চিম দিকে যাওয়া (মোকামের খালের পাশাপাশি) ছোট রাস্তাটি বড় করার জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। বরাদ্দের পর মাটি ভরাট করে রাস্তাটি বড় করে সংস্কার করা হয়। এতে বর্তমানে পশ্চিম বারকোটের দুই শতাধিক পরিবারের ৫ শতাধিক বাসিন্দার যাতায়াতে সুবিধা তৈরি হয়েছে। শুধু এ গ্রামের বাসিন্দারাই নন, এ রাস্তা দিয়ে আশপাশের অন্তত ৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন যাতায়াত করেন। রাস্তাটি বড় করে সংস্কার করায় তাদের মাঝেও বিরাজ করছে স্বস্তি। কিন্তু রাস্তা বড় করায় এবং খাল সংকীর্ণ হয়ে পড়ায় প্রবাসী হেনা বেগম ও তার কথিত দেবর ফয়সল আহমদের সরকারি খাল দখলের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠে। পরে বিষয়টি ধামচাপা দিতে উঠেপড়ে লাগেন এ দুজন। এরই অংশ হিসেবে গত দুদিন ধরে ভার্চুয়াল মাধ্যম ফেসবুকসহ নানাভাবে এই গ্রামীণ উন্নয়নের পক্ষে থাকা স্থানীয় মুরুব্বি ও যুবসমাজের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। তাদের অপপ্রচার থেকে রক্ষা পাননি সিলেট জেলা বিএনপির যুগ্ম-সম্পাদক ও জেলা জজ কোর্টের আইনজীবি এম আবু তাহের।
অপপ্রচারে এ দুজন বলছেন- অ্যাডভোকেট আবু তাহের দলীয় প্রভাব খাটিয়ে প্রবাসীদের জায়গা দখল করে রাস্তা বড় করেছেন। এটি সম্পূর্ণ অপপ্রচার। এখানে হেনা বেগম ছাড়া আর কোনো প্রবাসীর জায়গা নেই। মূলত হেনা বেগম ও তার দেবর নিজেদের অন্যায় ঢাকতে গিয়েই এমন অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছেন।
তবে সুবিধাভোগী স্থানীয়রা বলছেন- অ্যাডভোকেট আবু তাহেরের এখানে কোনো নেতিবাচক ভূমিকা নেই। বরং দীর্ঘদিন ধরে অবহেলি এই গ্রামের মানুষের পক্ষে দাঁড়ানোর কারণেই তিনি ওই নারী ও তার কথিত দেবরের অপপ্রচাররের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছেন না।
মানববন্ধনে উপস্থিত নারী-পুরুষরা এমন অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন- হেনা বেগম ও তার দেবর ফয়সল আহমদ আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। স্বৈরশাসক হাসিনার আমলে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে ওই রাস্তাটি বড় করতে দেননি এবং সরকারির খাল ভরাট করে নিজেদের জমিতে ঢুকিয়ে দিয়েছেন। এর প্রমাণ হচ্ছে- তাদের জমির অংশ ছাড়া বাকি অংশ এখনো বড় খাল হিসেবেই বিদ্যমান আছে। এ দুজন ও তাদের সহযোগিরা বছরের পর বছরে ধরে স্থানীয়দেরকে যাতায়াতের সুবিধাবঞ্চিত করে জুলুম করে আসছেন। এছাড়া বারকোট ১নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জায়গাতেই তারা জোরপূর্বক নিজেদের চলাচলের রাস্তা বানিয়ে রেখেছেন। নির্মাণ করতে দিচ্ছেন না ওই বিদ্যালয়ের বাউন্ডারি দেওয়াল। এর ফলে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা রয়েছেন প্রাণঝুঁকিতে।
বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরাও মঙ্গলবারের মানববন্ধনে উপস্থিত হন। তারা তাদের বিদ্যালয়ের বাউন্ডারি দেওয়াল নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন।
মানববন্ধনে মকবুল আলী, ছকই মিয়া, সালাউদ্দিন, লুতু মিয়া, দুদু মিয়া, বাবুল মিয়া, আব্দুল হান্নান, শাহান আহমদ, মুন্না আহমদ, মাছুম আহমদ, কয়েস আহমদ, শাহজাহান আহমদ, রাব্বি আহমদ, পিন্টু আহমদ, আবুল মিয়া, ইসলাম উদ্দিন, রিমন আহমদ, হেনা বেগম, খালেদা বেগম ও শাহানারা বেগমসহ ৫ শতাধিক নারী-পুরুষ উপস্থিত ছিলেন।

