জালালাবাদ হোমিওপ্যাথি মেডিকেল কলেজকে ডিগ্রি কলেজে উন্নীত করা হবে: মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী

জালালাবাদ হোমিওপ্যাথি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ডিএইচএমএস (ডিপ্লোমা ইন হোমিওপ্যাথি মেডিসিন অ্যান্ড সার্জারি) কোর্সে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সনদ বিতরণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠানটিকে ডিপ্লোমা থেকে ব্যাচেলর (ডিগ্রি) পর্যায়ে উন্নীত করার ঘোষণা দেন।
শনিবার (২৫ জুলাই) সকাল ১১টায় সিলেট মহানগরীর ‘হোটেল নির্ভানা ইন’-এর সম্মেলন কক্ষে এ সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী কলেজের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে নিয়ে প্রতিষ্ঠানের নামে সরকারি ভেস্টেড প্রোপার্টির জমি বরাদ্দের আশ্বাস প্রদান করেন। তিনি বলেন, প্রথমে জমি বরাদ্দের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরপরই কলেজটিকে ডিপ্লোমা পর্যায় থেকে ব্যাচেলর পর্যায়ে উন্নীত করার প্রয়োজনীয় যাবতীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ঐতিহ্যবাহী কলেজটি দীর্ঘদিন যাবৎ সরকারি জমির ওপরেই পরিচালিত হয়ে আসছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার প্রতি নিজের গভীর আস্থার কথা পুনর্ব্যক্ত করে মন্ত্রী আরও বলেন, ১৯৯৯ সালে এক সড়ক দুর্ঘটনার পর থেকে আমি নিজেও নিয়মিত হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা গ্রহণ করে আসছি। মূলত কোনো ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া না থাকাই এই চিকিৎসা পদ্ধতির বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তার মূল কারণ।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সাধারণ) সায়েদা পারভীন হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার কার্যকারিতা তুলে ধরে নিজের একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সঠিক সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও গবেষণার সুযোগ তৈরি হলে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় হোমিওপ্যাথি আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
জালালাবাদ হোমিওপ্যাথি মেডিকেল কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ডা. আবদুল্লাহ আল মুজাহিদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ শামসুল ইসলাম, কলেজের উপাধ্যক্ষ ডা. এমদাদুল হক, ম্যানেজিং কমিটির অন্যতম সদস্য অধ্যাপক ফরিদ আহমদ, ডা. আসমা বেগমসহ কলেজের শিক্ষকমণ্ডলী, শিক্ষার্থীবৃন্দ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিগণ।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে ডিএইচএমএস কোর্সে সফলভাবে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মেধার স্বীকৃতিস্বরূপ আনুষ্ঠানিকভাবে সনদপত্র প্রদান করা হয়। প্রধান অতিথির এমন যুগান্তকারী ঘোষণার পর কলেজ কর্তৃপক্ষের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিকে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ ডিগ্রি কলেজে রূপান্তরের প্রক্রিয়ায় সরকারের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছেন সংশ্লিষ্টরা।-বিজ্ঞপ্তি

কমেন্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *