উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে পল্লীর উন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই: সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার

সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান বলেছেন, একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে পল্লীর উন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই। আমাদের মোট জনসংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশই পল্লী অঞ্চলে বসবাস করে। তাই গ্রামীণ জনপদের অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি ও ক্ষুদ্র উদ্যোগের প্রসার ঘটানো সম্ভব হলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।

তিনি মঙ্গলবার (৬ জুলাই) সিলেট জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের (বিআরডিবি) যৌথ উদ্যোগে ‘জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। এবারের দিবসের মূল প্রতিপাদ্য ছিল- ‘উন্নত পল্লী সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।

বিভাগীয় কমিশনার গ্রামীণ উন্নয়নের রূপরেখা তুলে ধরে বলেন, পল্লী উন্নয়ন বলতে আমরা মূলত একটি আত্মনির্ভরশীল গ্রামীণ সমাজকে বোঝাচ্ছি, যেখানে একজন মানুষ তার জীবনযাপনের মৌলিক সব সুবিধা পাবেন। কৃষক ও উদ্যোক্তারা যেন স্থানীয়ভাবেই তাদের প্রয়োজন মেটাতে পারেন এবং উন্নত স্কুল-হাসপাতালসহ আধুনিক সব নাগরিক সুবিধা যেন গ্রামেই নিশ্চিত হয়- সেটাই আমাদের লক্ষ্য। দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার পরও আমরা পল্লীর কাঙ্ক্ষিত উন্নতি পুরোপুরি স্পর্শ করতে পারিনি। তাই এই দিবসকে সামনে রেখে আমাদের নতুন করে এগিয়ে যেতে হবে। একটি আত্মনির্ভরশীল পল্লী গঠনে সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি সর্বস্তরের জনগণকে একযোগে কাজ করতে হবে।

এর আগে সকাল ১০টায় সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে দিবসের কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করা হয়। পরে একটি বর্ণাঢ্য রেলি বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। রেলি শেষে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সিলেটের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সিলেটের পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মোঃ যাবের সাদেক এবং বিআরডিবি সিলেট বিভাগের যুগ্ম পরিচালক মুহম্মদ রাশেদুল মামুন চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিআরডিবি সিলেটের উপপরিচালক মরিয়ম দিলসাদ মনি।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কর্মকর্তা সীমা রানী বিশ্বাস, সিলেট জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শাহীনা আক্তার, প্রবীণ সাংবাদিক ও কলামিস্ট আফতাব চৌধুরী এবং বিআরডিবির সুবিধাভোগী অনিবালা দেবী। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করেন আল-আমিন এবং গীতা পাঠ করেন উপ-প্রকল্প কর্মকর্তা অসীম কুমার বাড়ৈ। এ সময় বিআরডিবির কর্মকর্তা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ পল্লী উদ্যোক্তা হিসেবে পানি বালা দেবীর হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। এছাড়া ‘আমার চোখে দেখা পল্লী’ শীর্ষক চিত্রাঙ্গন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন অতিথিবৃন্দ। সবশেষে গ্রামীণ পরিবেশ রক্ষা ও টেকসই উন্নয়নের অংশ হিসেবে বিআরডিবির উপকারভোগীদের মাঝে বিভিন্ন ফলদ ও বনজ গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

কমেন্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *