নরওয়ের বিপক্ষে শুরুর একাদশে থাকবেন নেইমার?

স্পোর্টস ডেস্ক-

শেষ আটে জায়গা নিশ্চিত করার লড়াইয়ে আজ রোববার বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় নরওয়ের মুখোমুখি হবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। ম্যাচটির আগে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে চোট কাটিয়ে ফেরা সুপারস্টার নেইমারের একাদশে থাকা না থাকা।

গ্রুপ পর্বে প্রত্যাশামতো খেলতে না পারায় ব্রাজিলকে ঘিরে সমালোচনার ঝড় উঠেছিল। তবে নকআউট পর্বের প্রথম ম্যাচে পুরোনো ছন্দে ফিরে আত্মবিশ্বাসী পারফরম্যান্স দেখিয়েছে সেলেসাওরা। তাই আর্লিং হালান্ডের নেতৃত্বাধীন নরওয়ের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে নেইমারকে শুরু থেকেই মাঠে দেখতে মুখিয়ে আছেন সমর্থকরা।

ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি নেইমারকে নিয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করলেও তার শুরুর একাদশে থাকা নিয়ে নিশ্চিত কিছু বলেননি। ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম ফোলিয়া দে সাও পাওলো-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘নেইমার এবং ভিনিসিয়ুস জুনিয়র একসঙ্গে খেলতে পারে এবং তারা একসঙ্গেই খেলবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নেইমার এখন খেলার জন্য প্রস্তুত। দলের প্রয়োজন মনে হলে আমি তাকে খেলাব। সে এখন ৯০ মিনিট খেলার মতোই ফিট।’

তবে আনচেলত্তির এমন মন্তব্য নতুন নয়। এর আগে গ্রুপ পর্বে মরক্কো, স্কটল্যান্ড ও জাপানের বিপক্ষে ম্যাচের আগেও তিনি একই ধরনের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। কিন্তু তখন নেইমারকে শুরুর একাদশে রাখা হয়নি। শুধু স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৭৬ মিনিটে বদলি হিসেবে নেমে নিজের সামর্থ্যের ঝলক দেখিয়েছিলেন তিনি।

এদিকে ম্যাচকে সামনে রেখে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেইমারের একটি ছবি পোস্ট করে লিখেছে, ‘টিক-টক… বিশ্বকাপের শেষ ১৬-র ম্যাচ আর মাত্র কিছু সময় বাকি।’ এই পোস্টও সমর্থকদের মধ্যে নেইমারের শুরুর একাদশে থাকার জল্পনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

বেঞ্চে বসে থাকতে কোনো তারকাই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। নেইমারের ক্ষেত্রেও সেটির ব্যতিক্রম নয় বলে জানিয়েছেন আনচেলত্তি। তিনি বলেন, ‘অবশ্যই সে বেঞ্চে বসে খুশি নয়। তবে সে অত্যন্ত পেশাদার আচরণ করছে এবং অনুশীলনে নিজের সর্বোচ্চটা দিচ্ছে। দলের সবাই তাকে ভালোবাসে। একজন ফুটবলার বেঞ্চে বসে খুশি না হওয়াটাই স্বাভাবিক এবং সেটি ইতিবাচক মানসিকতার পরিচয়।’

বিশ্বকাপের স্কোয়াড ঘোষণার আগেই নেইমারের সঙ্গে তার ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেছিলেন আনচেলত্তি। সে সময় নেইমার জানিয়েছিলেন, ‘আমি দলের প্রয়োজনে যেকোনো ভূমিকায় অবদান রাখতে প্রস্তুত।’ জবাবে আনচেলত্তি স্পষ্ট করেই বলেছিলেন, ‘দলের জন্য অবদান রাখা মানে প্রয়োজনে বেঞ্চে বসে থাকাও।’ সেই শর্ত মেনেই দলে যোগ দেন ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা।

কমেন্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *