একদিকে যখন বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছন্দে এগিয়ে যাচ্ছেন দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসি, অন্যদিকে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে। তবে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে পর্তুগালের দ্বিতীয় ম্যাচে জোড়া গোল করে সমালোচকদের জবাব দিয়েছেন তিনি। তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে বড় জয় পেয়েছে পর্তুগাল।
ম্যাচ শেষে স্বস্তি ফিরে পাওয়া রোনালদো আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে বলেন, ‘আই অ্যাম ব্যাক (আমি ফিরে এসেছি)।
তবে পর্তুগিজ তারকার এই মন্তব্যকে ভিন্নভাবে দেখছেন সুইডেনের কিংবদন্তি ফুটবলার জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ। তার মতে, রোনালদো কখনোই হারিয়ে যাননি, তাই ‘ফিরে আসার’ ঘোষণাটিও অপ্রয়োজনীয়।
রোনালদোর বক্তব্য নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ইব্রাহিমোভিচ বলেন, কথাটা শুনে আমি কিছুটা বিভ্রান্ত হয়েছিলাম। ‘আমি ফিরে এসেছি’— ঠিক কোথা থেকে ফিরে এলে? যতদূর জানি, ক্রিশ্চিয়ানো তো কখনোই আলোচনার বাইরে ছিল না। দুই গোল করে যদি কেউ বলে সে ফিরে এসেছে, তাহলে মনে হয় যেন সে দশ বছর কোথাও হারিয়ে ছিল, তারপর হঠাৎ অন্য কোনো গ্রহ থেকে ফিরে এসেছে!
তিনি আরও বলেন, ক্রিশ্চিয়ানো সবসময়ই খেলছে, গোল করছে, রেকর্ড ভাঙছে এবং শিরোনামে থাকছে। তাই কথাটা শুনে আমার হাসি পেয়েছে। ফুটবল বিশ্ব প্রতি সপ্তাহেই তাকে নিয়ে আলোচনা করে, ডিফেন্ডাররা এখনও তাকে নিয়ে চিন্তিত থাকে, আর তাকে দেখার জন্য স্টেডিয়াম ভরে যায়। এটা এমন নয় যে সে কোথাও হারিয়ে গিয়েছিল।
তবে ইব্রাহিমোভিচ মনে করেন, রোনালদো হয়তো সমালোচকদের উদ্দেশে নিজের সেরা পারফরম্যান্সে ফেরার বার্তাই দিতে চেয়েছেন।
‘যদি সে বোঝাতে চায় যে সমালোচকদের জবাব দিয়ে আবার নিজের সেরাটা দেখিয়েছে, তাহলে সেটা ভিন্ন কথা। কিন্তু ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো যদি ঘোষণা দেয় ‘আমি ফিরে এসেছি’, তাহলে সেটা অনেকটা সূর্যের এই ঘোষণা দেওয়ার মতো যে আগামীকাল সে আবার উদিত হবে,’ যোগ করেন সুইডিশ কিংবদন্তি।
শেষে রোনালদোর দীর্ঘস্থায়ী জনপ্রিয়তার প্রশংসা করে ইব্রাহিমোভিচ বলেন, ‘বাস্তবতা হলো, অধিকাংশ ফুটবলার পুরো ক্যারিয়ার কাটিয়ে দেয় তার মতো প্রাসঙ্গিকতা অর্জনের চেষ্টা করতে। এমনকি তার তুলনামূলক নীরব সময়েও মানুষ তাকে নিয়ে যতটা আলোচনা করে, অনেক ফুটবলারকে নিয়ে পুরো ক্যারিয়ারেও ততটা আলোচনা হয় না।’
তিনি আরও বলেন, ‘তাই যখন শুনলাম সে বলছে ‘আমি ফিরে এসেছি’, তখন মনে হয়েছে— ক্রিশ্চিয়ানো, বন্ধু আমার, তুমি তো কখনও কোথাও যাওনি। বরং অন্যরাই এখনও তোমাকে ধরার চেষ্টা করছে। আর সত্যি বলতে, ম্যাচটাও ছিল এমন যে পর্তুগালের অনেক গোল করার জন্য আদর্শ মঞ্চ তৈরি হয়েছিল।’


