মোহাম্মদ হোসাইন,টেকনাফ- কক্সবাজার প্রতিনিধি-
বান্দরবানের সীমান্তবর্তী নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযানে বড় ধরনের সাফল্য অর্জন করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি)-এর অধীনস্থ জারুলিয়াছড়ি বিওপির বিশেষ অভিযানে মালিকবিহীন অবস্থায় ১ লাখ ৮৪১ পিস বার্মিজ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৩ কোটি ২ লাখ ৫২ হাজার ৩০০ টাকা।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (৫ জুন) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ১১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির-এর সার্বিক দিকনির্দেশনায় জারুলিয়াছড়ি বিওপির একটি বিশেষ টহল দল সীমান্তবর্তী পোয়াবন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে সীমান্ত পিলার ৪৬/৪-এস-এর নিকটবর্তী বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করা হয়।
অভিযান চলাকালে বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারীরা তাদের সঙ্গে থাকা দুটি ব্যাগ ফেলে দ্রুত পার্শ্ববর্তী পাহাড়ি জঙ্গলের ভেতর পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলে ফেলে যাওয়া ব্যাগ দুটি তল্লাশি করে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃত ইয়াবার মধ্যে খয়েরি রঙের ৯৯ হাজার ৭৮০ পিস এবং সবুজ রঙের ১ হাজার ৬১ পিস ইয়াবা ছিল। সব মিলিয়ে উদ্ধার হওয়া ইয়াবার সংখ্যা ১ লাখ ৮৪১ পিস। বিজিবির ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ৩ কোটিরও বেশি।
বিজিবি জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য প্রয়োজনীয় আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তবে অভিযানের সময় মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। পলাতক চোরাকারবারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
এ বিষয়ে অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন,
“দেশের সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করা, চোরাচালান ও মানবপাচার প্রতিরোধ, অবৈধ অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং মাদক পাচার রোধে বিজিবি নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আলোকে বিজিবি অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন,
“সীমান্ত এলাকায় মাদক ও অন্যান্য অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে বিজিবির নজরদারি ও টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। দেশের নিরাপত্তা ও জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।


