‘বিশ্ব শান্তির সবচেয়ে বড় হুমকি যুক্তরাষ্ট্র’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক –

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সর্বশেষ যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এক সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

সোমবারের (১১ মে) এই সম্মেলনে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি এবং তাদের ঘাঁটিগুলো মূলত এই অঞ্চলে সহিংসতা ও দাদাগিরির একটি চক্র তৈরি করছে।

ইসমাইল বাঘাই ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে উত্থাপিত যুদ্ধবিরতির শর্তগুলোকে ‘অযৌক্তিক’ বলে দাবি করেন। বিপরীতে ইরানের প্রস্তাবগুলোকে অত্যন্ত দায়িত্বশীল ও উদার হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি। ইরানের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—অবিলম্বে যুদ্ধের অবসান ঘটানো, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন অবরোধ ও জলদস্যুতা বন্ধ করা এবং বিশ্বের বিভিন্ন ব্যাংকে অন্যায়ভাবে আটকে রাখা ইরানি সম্পদ মুক্তি দেওয়া।

এছাড়া হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা এবং লেবাননসহ সমগ্র অঞ্চলে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনাও তেহরানের শর্তের অন্তর্ভুক্ত।

বর্তমানে হরমুজ প্রণালি ও ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি অবরোধের কারণে পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ। এই পরিস্থিতিতে বাঘাই ইউরোপীয় দেশগুলোকে সতর্ক করে বলেছেন, তারা যেন হরমুজ প্রণালীতে কোনো যুদ্ধজাহাজ না পাঠায়।

তিনি দেশগুলোকে তাদের নিজস্ব স্বার্থ ক্ষুণ্নকারী যে কোনো পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। ইরানের মতে, এই যুদ্ধ কেবল অনৈতিকই নয়, বরং সম্পূর্ণ অবৈধ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে এই আগ্রাসন শুরু করেছে।

ইরান নিজেকে একটি দায়িত্বশীল আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে দাবি করে বাঘাই আরও বলেন, তার দেশ কোনো ধরনের দাদাগিরিতে বিশ্বাসী নয় এবং সবসময়ই এ ধরনের আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে। ইউরোপকে মার্কিন ও ইসরাইলি প্ররোচনায় পা না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সংকটে ইরানের প্রস্তাবটিই মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনার সবচেয়ে যৌক্তিক পথ।

সূত্র: টাইমস অব ইসরাইল।

কমেন্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *