ঝিকুট ফাউন্ডেশন: মানবিক পুনর্জাগরণের এক নতুন দিগন্ত

সাইয়্যেদুল বাশার-

শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, সমাজকল্যাণ ও মানবিক পুনর্জাগরণের এক নতুন দিগন্ত ঝিকুট ফাউন্ডেশন। সময়ের স্রোত বয়ে চলে নিজের নিয়মে। সমাজ বদলায়, মানুষের চাহিদা পাল্টায়, পরিবর্তিত হয় জীবনের ধরণ। কিন্তু কিছু মূল্যবোধ, কিছু মানবিক চিন্তা যুগযুগান্তর ধরে টিকে থাকে মানুষের হৃদয়ে। সেই মানবিক মূল্যবোধেরই এক নবজাগরণ ঘটাতে, সমাজকে শিক্ষার আলোয়, সাহিত্য-সংস্কৃতির আলোয়, মানুষে মানুষে সহযোগিতার বন্ধনে আলোকিত করতে ‘পরিবর্তমান পদযাত্রা’ স্লোগানকে সামনে রেখে একজন স্বপ্নবাজ ও আলোকিত মানুষ আশরাফ ইকবাল এর হাত ধরে ২০২০ সালের ২০ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ঝিকুট ফাউন্ডেশন।

এ সংগঠন শুধু একটি নাম নয়, এটি একটি আদর্শ, একটি স্বপ্ন, একটি সমন্বিত মানব পথিকদের সম্মিলন। এটি সেই মশাল, যা অন্ধকার রাত্রিতে পথ দেখায়। এটি সেই কণ্ঠস্বর, যা নীরবতার গভীরতাকে ভেঙে মানবিকতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত করেছে।
শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড, শিক্ষাই উন্নয়নের প্রধান চালিকাশক্তি- এই অমোঘ সত্যকে ভিত্তি করেই ঝিকুট ফাউন্ডেশন শিক্ষাবিষয়ক কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। সংগঠনটির শিক্ষা-কেন্দ্রিক উদ্যোগ আজ এ অঞ্চলে নতুন আলো ছড়াচ্ছে। যেমন-
১। দরিদ্র, মেধাবী ও প্রতিভাবান শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শিক্ষাবৃত্তি।

২। এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় এ প্লাস প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও অনুপ্রেরণা প্রদান।

৩। উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের পরামর্শ, দিকনির্দেশনা এবং উপকরণ সহায়তা।
৪। বিদ্যালয়-কলেজে মোটিভেশনাল সেশন, শিক্ষাকর্মশালা ও ক্যারিয়ার-গাইডেন্স।

প্রতিটি শিক্ষার্থীর চোখে যে স্বপ্ন, যে সম্ভাবনা লুকিয়ে থাকে, ঝিকুট ফাউন্ডেশন সেই স্বপ্নকে সযত্নে লালন করে। প্রজন্মকে শুধু শিক্ষার আলোয় আলোকিত করাই নয়, বরং তাদের নৈতিকতা, মানবিকতা ও দায়িত্ববোধের দীক্ষাও দিতে চায় সংগঠনটি। সাহিত্য সমাজের মনন গঠন করে, সংস্কৃতি জাতির পরিচয় বহন করে- এ দুইয়ের সমন্বয়ে গড়ে ওঠে এক সভ্য ও সুস্থ সমাজ। তাই ঝিকুট ফাউন্ডেশন নিয়মিত আয়োজন করছে-

১। সাহিত্যপাঠ, আলোচনা ও সেমিনার।
২। নতুন লেখকদের জন্য ওয়ার্কশপ ও মঞ্চ।
৩। কবিতা, গল্প, নাটকসহ সাহিত্য-সংস্কৃতির বহুরূপী চর্চা।

৪। স্থানীয় শিল্পী, লেখক ও সাহিত্যপ্রেমীদের নিয়ে উন্মুক্ত সাহিত্যসভা। এ অঞ্চলের সাহিত্য ও সংস্কৃতির পরিমণ্ডল যে ক্রমে সমৃদ্ধ হচ্ছে, তার পেছনে ঝিকুট ফাউন্ডেশনের ভূমিকা অনস্বীকার্য। এখানে সাহিত্য শুধুই শব্দের খেলা নয়, এটি সমাজ সচেতনতার এক অব্যাহত আন্দোলন। ঝিকুট ফাউন্ডেশনের পরিচয় কেবল শিক্ষায় সীমাবদ্ধ নয়। এটি অগ্রসর হয়েছে মানবিকতার বিস্তীর্ণ অঙ্গনে। মানুষের দুঃখ-কষ্ট, বিপদ-আপদ, দারিদ্র‍্য-অসহায়ত্বের মুহূর্তে পাশে দাঁড়ানোই সংগঠনটির প্রকৃত শক্তি।এ লক্ষ্যে আমাদের উল্লেখযোগ্য সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রম-

১। রক্তদান কর্মসূচি, যা অসংখ্য মানুষের জীবন বাঁচিয়েছে।
২। ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, যেখানে সাধারণ মানুষ পায় বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ।
৩। অসহায়, বৃদ্ধ, দুস্থ মানুষের খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা ও আর্থিক সহায়তা।
৪। পরিবেশ, কৃষিজমি ও ফসল রক্ষায় মানববন্ধন ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম।
মানুষ মানুষের জন্য- এই বার্তাই ঝিকুট ফাউন্ডেশনের প্রতিটি উদ্যোগে প্রতিফলিত হয়। মানবিকতার এ দৃষ্টান্ত আজ সমাজে আস্থা ও বিশ্বাসের নতুন অধ্যায় রচনা করছে।
সমন্বিত উন্নয়ন- বদ্ধমূল সীমাবদ্ধতা ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার প্রয়াস
একটি অঞ্চল তখনই উন্নত হয়, যখন সেই এলাকার জ্ঞানী, শিক্ষিত ও দক্ষ মানুষরা একমঞ্চে এসে কাজ করেন। ঝিকুট ফাউন্ডেশন সেই আন্তরিক প্রচেষ্টায় যুক্ত করেছে- শিক্ষক, কবি, সাহিত্যিক, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, পেশাজীবি, জজ, এডভোকেট, সরকারি প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং দেশের বিভিন্ন খাতে সফল ও প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিবর্গকে।
তাদের অভিজ্ঞতা, জ্ঞান, নীতি, পরামর্শ ও সামাজিক দিকনির্দেশনাকে ভিত্তি করে গড়ে উঠছে একটি সার্বিক উন্নয়ন-পরিকল্পনা। আগামী দিনের প্রজন্ম যাতে সঠিক পথ খুঁজে পায় সেজন্য ঝিকুট ফাউন্ডেশনের এ উদ্যোগ নিঃসন্দেহে সময়োপযোগী এবং ভবিষ্যতমুখী।
এক ঝাক মেধাবী, শিক্ষিত, ভদ্র, দক্ষ, প্রতিভাবান, অভিজ্ঞ, পরিশ্রমী এবং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ তরুণ লোকের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে ঝিকুট ফাউন্ডেশন।
ঝিকুট ফাউন্ডেশন এক নতুন ভোরের প্রতিশ্রুতি
ঝিকুট ফাউন্ডেশন হলো- একটি চেতনা, একটি স্বপ্ন, একটি নির্মল মানবিক প্রতিজ্ঞা। এটি শিক্ষিত সমাজের নির্মাণ, সাহিত্য-সংস্কৃতির বিকাশ, মানবতার উন্নয়ন এবং আগামী দিনের সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার এক মহৎ প্রয়াস। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সংগঠনটি এগোচ্ছে সুস্পষ্ট লক্ষ্য নিয়ে- একটি সচেতন, শিক্ষিত, মানবিক ও আলোকিত সমাজ গড়ে তোলা।

ঝিকুট ফাউন্ডেশনের পথচলা তাই থেমে থাকা নয়। এটি চলমান, বিকাশমান, ভবিষ্যৎ নির্মাণের এক স্বপ্নময় অঙ্গীকার।

জ্ঞান, নৈতিকতা, সাহিত্যমনা মনন, সাংস্কৃতিক বিকাশ ও মানবিকতার সমন্বয়ে ঝিকুট ফাউন্ডেশন আজ এ অঞ্চলের এক অনুপ্রেরণার নাম। এর প্রতিটি কার্যক্রম নির্মাণ করে নতুন সম্ভাবনা, নতুন দৃষ্টিভঙ্গি এবং নতুন ভবিষ্যতের পথরেখা।

মানবতার এই অগ্রযাত্রা আরও সুদূরপ্রসারী হবে- এই আমাদের প্রত্যাশা। ঝিকুট ফাউন্ডেশন হবে আলোকিত সমাজের স্থপতি, মানবিকতার অগ্রদূত ও অগ্রগামী প্রজন্মের পথপ্রদর্শক।

লেখক: সভাপতি ঝিকুট ফাউন্ডেশন কেন্দ্রীয় পরিষদ।

কমেন্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *