আসিফ বাধন : নবম শ্রেণীতে পড়ার সময় থেকেই আমার লেখালেখির প্রতি গভীর আগ্রহ জন্ম নিয়েছিল। একদিন স্কুলের ইভেন্টের খবর নিয়ে লিখতে ইচ্ছে হলো। কিন্তু পত্রিকায় যারা লিখতেন, তাদের সঙ্গে আমার কোনো যোগাযোগ ছিল না। ভয় থাকলেও সাহস করে আমি নিজেই একটি পত্রিকা বানালাম। নাম দিলাম “সিরাজদিখানের দৈনিক সময়ের পাতা”। সেই দিনই ইভেন্টের একটি বিষয় নিয়ে আমার প্রথম লেখা সাজালাম।
খুব স্পষ্ট মনে আছে, নিউজ কিভাবে লিখতে হয় আমি জানতাম না। নিজের মতো করে লিখতে গিয়ে অনেক ভুল-ত্রুটি হয়ে গিয়েছিল। সেই ভুল-ত্রুটি লক্ষ্য করেছিলেন আমার শ্রদ্ধেয় প্রধান শিক্ষক নিরোদ রঞ্জন রায়।
পরদিন স্কুলে আসতেই ক্লাস থেকে ডাকা হলো আমাকে। ভয়, অনিশ্চয়তা আর উত্তেজনা সব মিলিয়ে মনে হচ্ছিল, আল্লাহ জানেন আজকে আমার কি হবে। অফিস রুমে প্রবেশ করতেই হেড স্যার সকল স্যার-ম্যাডামের সামনে আমাকে কঠোরভাবে শাসন করলেন। নির্দেশ দিলেন, বাসায় ফিরে ফেসবুক থেকে নিউজটি ডিলিট করতে হবে। ভয় এবং লজ্জার মধ্যেও, আমার ভেতরে এক অদ্ভুত আগ্রহ জেগে উঠল লিখতে আমি থামব না।
সেই দিন থেকে আমি ভাবতে লাগলাম, কখন সেই দিন আসবে যখন নিজের লেখা নিয়ে হেড স্যারের সামনে আত্মবিশ্বাসীভাবে দাঁড়াতে পারব।
এরপর ওস্তাদ আশরাফ ইকবাল-এর হাত ধরে আমি ধীরে ধীরে সংবাদ মাধ্যমে লেখালেখি শুরু করলাম। দীর্ঘ সাড়ে তিন বছর পর, আমার একটি ছোট্ট গল্প সৈয়দ মাহমুদ হাসান মুকুট-এর সম্পাদনায় মাসিক বিক্রমপুর ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হলো।
আমি আনন্দের সঙ্গে সেই কপি তুলে দিলাম আমার শ্রদ্ধেয় প্রধান শিক্ষক নীরোদ রঞ্জন রায়-এর হাতে।
তাঁরা ছিলেন আমার প্রথম প্রেরণা, আমার সৃজনের পথপ্রদর্শক। একইভাবে, ওস্তাদ আশরাফ ইকবাল এবং সৈয়দ মাহমুদ হাসান মুকুট ভাই-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই, যাদের নির্দেশনা, সহায়তা এবং বিশ্বাস আমাকে আজকের লেখালেখির জগতে নিয়ে এসেছে।
(তারিখ : ১৮.০৯.২০২৫
লেখক : নির্বাহী সম্পাদক, এটিভি নিউজ ২৪)


