ভাবতে লজ্জা হয়, মানুষ হিসেবে আমাদের মানবিক মূল্যবোধ আজ শূন্যের কোটায়।
মাইলস্টোন স্কুল এন্ড কলেজে পরিকল্পিত বিমান হামলার পর, যারা উদ্ধার কাজ করতে গিয়েছিলেন, একদিকে আগুনের তাপ, তার উপর মানুষের চাপ।তাই প্রচণ্ড গরমে কলেজের ক্যান্টিনে, তাদের পানি কিনতে বাধ্য করা হয় অতিরিক্ত দামে। মানুষের চাপ বাড়লে মাইলস্টোন কলেজের ঐ ক্যান্টিন বন্ধ করে দেয়া হয়। যখন সবচেয়ে বেশি পানির প্রয়োজন। তারা এমন আচরণ করবে না কেন, এই স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বানিজ্যিক উদ্দেশ্য নিয়ে। এখানে মানবিকতা মানবতা বলতে কোন শব্দ নেই।
বিমান হামলার পর, ছোট ছোট বাচ্চারা যখন পোড়া শরীর নিয়ে বের হয়েছিল, তখন তাদেরকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে না দিয়ে, উৎসুক মানুষ নামের অমানুষের দল, মোবাইলে ভিডিও ধারণে ব্যস্ত ছিল। কারণ, ভিডিওতে যত বেশি ভিউ হবে, তত বেশি ডলার ইনকাম হবে। ডলারের নেশায় মানবিক চেতনা বিলুপ্ত।
আগুনের পোড়া ঝলসে যাওয়া শরীর নিয়ে যখন, শিশু কিশোর গুলো দিকবিদিগ ছুটছে। তাদেরকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার মতো কোন যানবাহন সিএনজি বা রিকশা রাজি হচ্ছে না, তাদের চিন্তা ভাড়া দিবে কে। কাছাকাছি অনেক প্রাইভেট কারকেও সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসতে দেখা যায় নি। কারণ পোড়া শিশু-কিশোর গুলো, কেউ তাদের নিজের সন্তান নয়।
মাইলস্টোন স্কুল এন্ড কলেজ থেকে উত্তরা আধুনিক হাসপাতালে যেতে সিএনজি দিয়ে ভাড়া লাগে ১০০থেকে ১৫০ টাকা। সেখানে ভাড়া দিতে হয়েছে ১০০০ টাকা, অথচ দূরত্ব সর্বোচ্চ তিন কিলোমিটার মত হবে।
চিন্তা করা যায়, উত্তরা-উত্তর মেট্রো রেল স্টেশন এর নিচ থেকে মনসুর আলী মেডিকেলে কলেজে রিকসা দিয়ে আসতেও ভাড়া দিতে হয়েছে ১০০ টাকা। সিএনজি তো আরও চারগুণ বেশি।
মাইলস্টোন স্কুল এন্ড কলেজের ছাত্র ছাত্রীদের, অনেকগুলো আইডি কার্ডের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম প্রকাশ পেয়েছে। ছাত্র ছাত্রীরা হয়তো তেমন আহত হয় নি, কিন্তু শিশুগুলো এতটাই আতঙ্কিত হয়েছে যে, তারা তাদের বাসার ঠিকানা বা অভিভাবকদের মোবাইল/ফোন নাম্বার বলতে পারছে না। কিন্তু কোন আইডি কার্ডেই অভিভাবকদের মোবাইল/ফোন নাম্বার, স্টুডেন্টদের রক্তের গ্রুপ, যোগাযোগ করার কিছুই নাই। অথচ এটা একটা আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান!
এই প্রতিষ্ঠানের লক্ষ একটাই শুধু টাকা, শিক্ষা মানে ব্যবসা। সরকার বাহাদুর তো এসব বিষয়ে নিরব। দেশে বৈষম্য মুলক শিক্ষা ব্যবস্থা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সরকার শিক্ষার দিকে নজর দেওয়ার সুযোগ নেই। সরকার আছে তার বানিজ্যিক ধান্দা নিয়ে। আর লাশের পরিসংখ্যান ও তথ্য ধামাচাপা দেয়ার চিন্তায়।
আর বিমান এর প্রশিক্ষণ তা আবার যুদ্ধ বিমান প্রশিক্ষণ কত টা গুরুত্বপূর্ণ, সেটা তাদের বুজার ক্ষমতা নেই। যে প্রশিক্ষণ বিমান দিয়ে হামলা করা হয়েছে, যা দুর্ঘটনা বলে চালনা হয়েছে, সেটি ১৯৭৬ সালের মডেলের। যাতে জনগণ বুজে পুরানো মডেলের বিমান তাই এ.দুঘটনা। এখন কি করতে হবে। নতুন বিমান কিনতে হবে। সেটা আরও বড় বানিজ্যিক চিন্তা।
এতগুলো ছাত্র ছাত্রীদের জীবন গেল। সরকার এর কিছু যায় আসে না। কারণ এখানে তাদের ছেলে মেয়ে আগুনে পুড়ে মরে নি। উল্টা সরকার ছাত্রদের উপর আর্মি ও পুলিশ দিয়ে পাঠিয়েছে।
সর্বশেষ বলতে চাই, মানবিক সমাজ বিনির্মান করতে হলে, শিক্ষা নিয়ে বানিজ্যিক চিন্তা ধারা বাদ দিতে হবে। বৈষম্যমুলক শিক্ষা ব্যবস্থা বিলুপ্ত করতে হবে।
আর নিহত ও আহতদের সর্বোচ্চ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং আহতদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি বিমান হামলায় জড়িত সকল মাস্টার মাইন্ডদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।
লেখক- মোহাম্মদ বাদশা গাজী, সাংবাদিক, সাহিত্যিক ও সংগঠক।
২৩|০৭|২০২৫ইং


