গত ৩০ জানুয়ারি সিলেটের অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে ৫টি মামলায় সাবেক কাউন্সিলর রেজওয়ান আহমদ ও তার ভাই কামরান আহমদের জামিন পাওয়ার পর থেকে সিলেটজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা চলছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ফ্যাসিজমের দোসররা যেভাবে একের পর এক জামিন পাচ্ছেন, তা সত্যিই দুঃখজনক। এতে করে সাধারণ মানুষের মাঝে বিরুপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। মানুষের মনে সংশয় তৈরি হয়েছে যে, গণহত্যাকারী এবং তাদের দোসরদের যথাযথ বিচার হবে কী? আপনারা জানেন, জিআর মামলা পরিচালনার দায়িত্বে থাকে পুলিশ, আসামী জামিন চাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত বিষয়টি আদালতের পিপি’র জানার কোনো সুযোগ থাকে না। ঐদিনেও রেজওয়ান ও তার ভাই ৫টি মামলায় জামিন চাওয়ার খবর জানার সাথে সাথে আদালতের পিপিগণ জামিনের আপত্তি করেন এবং বিএনপির কোন আইনজীবী আসামীদের পক্ষে দাঁড়ান নি।
পরবর্তীতে বিষয়টি জানাজানি হলে আদালত প্রাঙ্গণে বিপুল সংখ্যক সংক্ষুব্ধ জনতা জড়ো হন, তারা পাঁচটি মামলায় জামিনের প্রতিবাদ করে বিক্ষোভ করতে থাকেন। এসময় আইনজীবী সহকারী সমিতির নির্বাচন পরিদর্শণের দরুণ আলালতে পূর্ব থেকে অবস্থান করা সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী ও সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী সংক্ষুব্ধ জনগণকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। একথা দিবালোকের মতো স্পষ্ট যে, তারা যদি সেসময় বিক্ষুব্ধ জনতাকে শান্ত করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ না করতেন তাহলে আদালত প্রাঙ্গনে যে কোনো ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারতো। সেটা হলে সিলেটের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হতো।
এক সঙ্গে পাঁচটি মামলায় জামিন পাওয়া নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারকের সঙ্গে দেখা করে সাথে সাথে প্রতিবাদ জানানো হয়। পরবর্তীতে পিপি অফিসে এক সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, ফ্যাসিজমের দোসরদের পাওয়া জামিন আইনিভাবে বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। এ বিষয়ে সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতের পিপি ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছেন।
আমরা আপনাদের মাধ্যমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও প্রশাসনে থাকা সকল কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের বলতে চাই আপনাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করুন। যদি দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হন তাহলে সিলেটের মানুষ আপনাদের ক্ষমা করবে না এবং যেকোন অপ্রীতিকর ঘটনার দায়ভার আপনাদের নিতে হবে। বিএনপি এর দায়ভার কোনভাবেই গ্রহণ করবে না।
পরিশেষে আমাদের আমন্ত্রণে আপনারা কষ্ট করে আসার জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি। সবাই ভালো ও সুস্থ থাকবেন। আল্লাহ হাফেজ।
সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট এমরান আহমদের পরিচালনায় সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী।
উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি ডাঃ নাজমুল ইসলাম, ডাঃ আশরাফ আলী, রহিম মল্লিক, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট হাসান আহমদ পাটোয়ারী রিপন, সিদ্দিকুর রহমান পাপলু, আনোয়ার হোসেন মানিক, মামুনুর রশীদ মামুন, মহানগর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াহিদ সুহেল, নাদির খান, মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ সাফেক মাহবুব,রফিকুল ইসলাম রফিক, জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক এডভোকেট সাঈদ আহমদ, মহানগর বিএনপির দপ্তর সম্পাদক তারেক আহমদ খান, জেলা বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট বদরুল ইসলাম, মহানগর বিএনপির শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক সাঈদুর রহমান হিরু, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক লুৎফুর রহমান মোহন, স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল ইসলাম খায়ের, জেলা বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক অর্জুন ঘোষ, আহাদ চৌধুরী শামীম, মহানগর বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ রহিম আলী রাসু, শফিক নূর, জেলা বিএনপির সহ দপ্তর সম্পাদক মাহবুব আলম,মহানগর বিএনপির সহ দপ্তর সম্পাদক আব্দুল মালেক, জেলা বিএনপির সহ ক্রীড়া সম্পাদক সুমেল আহমদ চৌধুরী, জেলা বিএনপির সহ মানবাধিকার সম্পাদক মিনহাজ উদ্দিন চৌধুরী, মহানগর বিএনপির সদস্য আব্দুল মুনিম, মোঃ হারুনুর রশিদ, জাকির হোসেন পারভেজ, জেলা উলামা দলের আহবায়ক মৌলানা নুরুল ইসলাম প্রমুখ।


