যুদ্ধবিরতি বিরোধিতাকারীদের আবেদন খারিজ করল ইসরাইলি আদালত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ১৬ জানুয়ারি যুদ্ধবিরতির বিরুদ্ধে নেতানিয়াহুর কার্যালয়ের বাইরে ইসরাইলিদের মিছিল। ছবি সংগৃহীত।

হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি মুক্তি চুক্তি বাস্তবায়নের বিরুদ্ধে দায়ের করা পিটিশন খারিজ করে দিয়েছে ইসরাইলের উচ্চ আদালত। ১৫ মাস ধরে গাজায় নিরলস হামলা চালিয়ে গাজাকে মৃত্যু উপত্যকা বানিয়েছে ইসরাইল। কট্টর ডানপন্থি অনেক ইসরাইলিদের আশঙ্কা, এই যুদ্ধবিরতি হামাসের কাছে আত্মসমর্পণের শামিল।

রোববার (১৯ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ খবর দিয়েছে টাইমস অব ইসরাইল।

নিয়ম অনুযায়ী, কোনো চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য শুরুতে নিরাপত্তাসংক্রান্ত মন্ত্রিসভায় পাশ হতে হয়। এরপর সংসদে সেটা ঘোষণা হবে। একইসঙ্গে সংবিধানে চুক্তির বিরোধিতাকারীদের আদালতের কাছে দ্বারস্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

আজ রোববার স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩০ মিনিট থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। কট্টর ডানপন্থিদের অনেকে সরকারি সিদ্ধান্ত ঠেকাতে আদালতে পিটিশন দায়ের করে। তবে এই আবেদন খারিজ হওয়ায় আর কোনো বিতর্ক থাকছে না।

তবে শনিবার রাতে যুদ্ধবিরতির পক্ষে-বিপক্ষে তেল আবিবের রাস্তায় বিক্ষোভ করেছেন শত শত ইসরাইলি।

আলোচিত এই চুক্তি নিয়ে আদালত বলেছে, এমন ধরনের বিষয়ের মধ্যে আদালতের হস্তক্ষেপ করা আমাদের দায়িত্ব বা রীতি নয়, যেখানে বিচারিক পর্যালোচনার ক্ষেত্র অত্যন্ত সংকীর্ণ।

গাজা যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপে ৩৩ জিম্মিকে মুক্তি দেওয়ার বিনিময়ে ১ হাজার ৮৯০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি বন্দিকে ছেড়ে দেবে ইসরাইল। যুদ্ধবিরতির অন্যতম মধ্যস্থতাকারী দেশ মিসর গতকাল শনিবার এই তথ্য জানিয়েছে।

মিসরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপ হবে ৪২ দিনের, যা গাজার স্থানীয় সময় আজ রোববার সকাল ৮টা ৩০ মিনিট থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে।

যুদ্ধবিরতির আরেক মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতারও প্রথম ধাপে গাজায় হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর হাতে থাকা ৩৩ জিম্মিকে ছেড়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে।

চুক্তির অনুমোদনের পর, যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান আলোচক ব্রেট ম্যাকগার্ক বলেন, চুক্তি পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোচ্ছে। হোয়াইট হাউস আশা করছে, যুদ্ধবিরতি রোববার সকালে শুরু হবে।

এই চুক্তি কার্যকর হলে ছয় সপ্তাহে তিন ধাপে জিম্মি বিনিময় হবে, যা গাজার পরিস্থিতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

কমেন্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *