শিক্ষাখাতে বরাদ্দ কমানোর প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল

প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ কমানোর প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট সিলেট নগর শাখা। আজ বিকাল ৪:৩০টায় সিলেট শহীদ মিনারে বিক্ষোভ সমাবেশ ও পরবর্তীতে নগরে একটি মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের নগর সভাপতি সঞ্জয় কান্ত দাসের সভাপতিত্বে ও সদস্য সুমিত কান্তি দাস পিনাক,
 পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট সিলেট নগর সাধারণ সম্পাদক সাদিয়া নোশিন তাসনিম, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সংগঠক বুশরা সোহাইল,বালুচর আঞ্চলিক কমিটির আহ্বায়ক দোয়েল রায় প্রমুখ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, “সরকার মুখে উন্নয়নের কথা বলছে,স্মার্ট বাংলাদেশ নির্মাণের কথা বলছে কিন্তু শিক্ষাখাতে বাজেটে বরাদ্দ কমিয়েছে। এবারের বাজেটে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ করেছে জিডিপির মাত্র ১.৭৬শতাংশ। চলতি বাজেটে বরাদ্দ ছিল ১.৮৩শতাংশ আর তার পূর্বের বাজেটে ছিল ২.০৮শতাংশ। অর্থাৎ বাজেটে বরাদ্দ ক্রমাগত কমছে। আমরা জানি,ইউনেস্কোর ঘোষণা অনুযায়ী জিডিপির ৬ভাগ শিক্ষাখাতে বরাদ্দ করা অঙ্গিকার করেছিল সরকার। অথচ বাজেটে বরাদ্দ কমানো হচ্ছে। এ মধ্যে আবার ফাঁকিও আছে। শিক্ষাখাতের সাথে প্রযুক্তিকেও যুক্ত করা হয়েছে। ফলে বাজেটে যেটুকু বরাদ্দ করা হয়েছে,সেটাও শুধু শিক্ষাখাতের জন্য নয়। এদিকে সরকার জাতীয় শিক্ষাক্রম -২০২১চালু করেছে। আর বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে স্মার্ট করার কথা বলছে। সরকারের এ দুটি চিন্তাকেও যদি কর্যকর করতে হয় তাহলেও এ বরাদ্দ অপ্রতুল। জাতীয় শিক্ষাক্রমের জন্য যে ধরণে স্কুল,অবকাঠামো, শিক্ষক ও প্রশিক্ষণ দরকার তাঁর জন্য প্রচুর অর্থ বরাদ্দ দরকার। আবার এ শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের নতুন করে হাজার হাজার স্কুল নির্মান করতে হবে। স্মার্ট শিক্ষাঙ্গনের অন্যতম শর্ত হলো স্মার্ট ক্যাম্পাস,স্মার্ট ল্যাব ইত্যাদি। কিন্তু বাংলাদেশের ক্যাম্পাস গুলি সে রকম নয়। সেগুলিকে যদি সরকার ঘোষিত স্মার্ট প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হয় তাহলেও জাতীয় বাজেটের ২৫ভাগ শিক্ষাখাতে বরাদ্দ জরুরি। আমরা এ দাবিটি নতুন করে করছি না। এটা এদের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনেরই দাবি ছিল। শাসকরা যাকে বারবার অস্বীকার করছে। একদিকে সরকার বাজেটে বরাদ্দ কমাচ্ছে অন্যদিকে নতুন শিক্ষাক্রম বা স্মার্ট শিক্ষাঙ্গনের কথা বলছে। তাহলে এ বিপরীত মুখি অবস্থানের মানে একটাই শিক্ষাকে বাণিজ্যিকীকরণ করা। শিক্ষার ব্যায় জনগনের মাথার উপর চাপানো।
সিলেটে মাধ্যমিক পর্যায়ে মাত্র ৪টি সরকারি স্কুল আছে যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ডে এখনও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মাণ হয়নি। সিলেটের চা বাগানগুলির একটিতেও সরকারি প্রথমিক বিদ্যালয় নেই। স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের শিক্ষার সমস্যা সমাধান করতে হলেও বাজেটে বরাদ্দ বাড়ানো দরকার।”
বক্তারা শিক্ষাখাতে জাতীয় বাজেটের ২৫ভাগ বরাদ্দের দাবিতে আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।প্রেস বিজ্ঞপ্তি
কমেন্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *