চাঁদপুর শহর রক্ষা বাঁধে ভয়াবহ ভাঙন

নিউজ ডেস্ক::  প্রমত্তা মেঘনার ভাঙন-ঝুঁকিতে এখন চাঁদপুর শহর রক্ষা বাঁধ। ইতোমধ্যে পুরানবাজার ও বড়স্টেশন এলাকার বিভিন্ন স্থানের সিসি ব্লক দেবে গেছে। এতে নদীর পারে বসবাসকারী লাখ লাখ মানুষ নদী ভাঙন আতঙ্কে রয়েছেন। তারা বলছেন, টেকসই ও মজবুত বাঁধ নির্মাণ করা না হলে যে কোনো সময় বিস্তীর্ণ এলাকা নদীতে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ভাঙন রোধে শহর সংরক্ষণ পুনর্বাসন প্রকল্প অনুমোদনের জন্যে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই স্থায়ী কাজ নির্মাণ করার কথা জানান পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী কর্মকর্তা।

চাঁদপুর শহরের নতুনবাজার ও পুরানবাজার শহর রক্ষা বাঁধের দৈর্ঘ্য ৩৩৬০ মিটার। ১৯৭২ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় এই বাঁধে ১৬৫ কোটি টাকা ব্যয় করেছে সরকার। বর্তমানে নদীর স্রোত ও পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বাঁধের বড়স্টেশন, চাঁদপুর লঞ্চঘাট সংলগ্ন টিলাবাড়ি, যমুনা ঘাট, পাইলট হাউজ, মোলহেড, খেয়াঘাট, মাছঘাট, পুরানবাজারের ব্যবসায়ী এলাকা, পশ্চিমবাজার ঠোঁডা, দেওয়ান ঘাট, হরিবিলাস সাহার বাড়ির দোল মন্দির, হরিসভা ও রনাগোয়াল স্থানের বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে।

৩ হাজার ৩৬০ মিটার শহর রক্ষা বাঁধের মধ্যে ১০৯ মিটার ঝুঁকিপূর্ণ বলে স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড কার্যালয় সূত্রে জানা যায়। এতে নদীর পারে বসবাসকারী মানুষের বাড়িঘর, মসজিদ-মন্দির, ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান, ইমারতসহ সাড়ে পাঁচ লক্ষাধিক লোক ভাঙন আতঙ্কে রয়েছেন। জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধের ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে বিস্তীর্ণ এলাকা নদীতে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন অনেকে। মেরামত নয়, সংস্কার নয়, টেকসই, মজবুত ও স্থায়ী বাঁধের দাবি নদী পারের মানুষের।

শহর রক্ষা বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত অংশটুকু পুনর্বাসনের জন্য ৩ হাজার ৪৩২ কোটি টাকার একটি ডিপিপি উন্নয়ন প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে দাখিল করা হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন পেলেই স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের কথা জানিয়েছেন চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম রেফাত জামিল।

কমেন্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published.