শৈশবের যে কথা বলতে গিয়ে চোখ ভিজে গেল আমিরের

বিনোদন ডেস্ক :: বলিউডের ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’ আমির খান সাফল্যের চূড়ায় এসে অতীত থেকে আজও শিক্ষা নেন।

অভাব-অনটনের দিনগুলো ভুলতে পারেনি।বাবা-মা ঋণে জর্জরিত। চার ভাইবোনে স্কুলের বেতন দিতে পারছিলেন না। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বড় আমির খান।

ছোটবেলাটা অভাব অনটনেই কেটেছে এ বলিউড সুপারস্টারের।তিনি এখনও ভোলেননি সেসব দিনের কথা।খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ফিরে দেখলেন নিজের শিকড়। জানালেন, স্কুলে যেতেই ভয় লাগত। অধ্যক্ষ সবার সামনে নাম ধরে ডেকে মনে করিয়ে দিতেন কত মাসের স্কুল ফি বাকি!

এখনকার সময়ে দাঁড়িয়ে সেই অর্থ সামান্য মনে হতে পারে, কিন্তু তখন সেটুকু জোগাড় করতেই কালঘাম ছুটেছিল চলচ্চিত্র প্রযোজক তাহির হুসেন এবং তার স্ত্রী জিনাত হুসেনের।

তাদেরই ছেলে আমির জানান, ৮ বছর ধরে পারিবারিক দৈন্যের মুখোমুখি হয়েছেন। ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়তেন যখন, মাইনে ছিল ৬টাকা। সপ্তম শ্রেণিতে ৭টাকা। সেটুকুও আমির ও তার ভাইবোনেরা দিতে পারতেন না।

আমির বলেন, আমরা সব সময় দেরিতে মাইনে দিতাম। সবার সামনে নাম ধরে ধরে ডাকা হত আমাদের- বলতে বলতে চোখ ভিজে যায় আমিরের।

‘ইয়াদোঁ কি বরাত’ (১৯৭৩) ছবিতে শিশু অভিনেতা হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন আমির। যৌবন পার হতে নায়ক হিসাবে জুহি চাওলার বিপরীতে ‘কেয়ামত সে কেয়ামত তক’ (১৯৮৮)-এ সাড়া ফেলেছিলেন। তার পর আর পিছে ফিরে তাকাতে হয়নি, একে একে সফল ছবির বন্যা।

‘রাখ’ (১৯৮৯), ‘দিল’ (১৯৯০), ‘রাজা হিন্দুস্তানি’ (১৯৯৬), ‘সরফরোশ’ (১৯৯৯), ‘লগান’ (২০০১), ‘রং দে বাসন্তী’ (২০০৬), ‘তারে জমিন পর’ (২০০৭) থেকে শুরু করে ‘দঙ্গল’ (২০১৬) হয়ে বর্তমানে ‘লাল সিং চড্ডা’-য় পৌঁছে গিয়েছেন আমির।

দীর্ঘ যাত্রাপথে ভক্তদের হৃদয়ে তিনি পাকাপাকি আসন জিতে নিয়েছেন। তবু অতীতকে অস্বীকার করেননি, শিক্ষা নিয়েছেন প্রতিনিয়ত। তাই তিনি মনেপ্রাণে আমির!

কমেন্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published.