নিউজ ডেস্ক:: মাদারীপুরে সদর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে ঘুষ ছাড়া দলিল হয় না। দলিল লেখক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সিন্ডিকেটের কারণে বাড়তি অর্থ গুনতে হচ্ছে সেবাগ্রহীতাদের। বছরের পর বছর এ অবস্থা চললেও প্রতিকার পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী ও সচেতন নাগরিক সমাজের। তবে এর সঙ্গে জড়িতরা বিষয়টি অস্বীকার করলেও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন জেলা রেজিস্ট্রার।
মাদারীপুর শহরের জিরো পয়েন্ট এলাকার জেলা রেজিস্ট্রার অফিসের নিচতলায় সদর সাব-রেজিস্ট্রার অফিস। তার পূর্ব পাশের টিনশেড ঘরে চলে দলিল লেখক সমিতির কার্যক্রম। সদর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে সেবা নিতে আসাদের সরকারি নির্ধারিত ফির চেয়ে গুনতে হচ্ছে বাড়তি অর্থ। দলিল লেখক, মহুরি, কর্মকর্তাসহ পদে পদে হাজার হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয় বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। বছরের পর বছর সিন্ডিকেট করে এ অবস্থা চললেও প্রতিকার মিলছে না।
ভুক্তভোগীরা জানান, মহুরি বা কর্মকর্তারা সরকারি নির্ধারিত ফির চেয়ে বাড়তি অর্থ দাবি করে।
মাদারীপুর সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি খান মোহাম্মদ শহীদ বলেন, মানুষ যে হয়রানির স্বীকার হচ্ছে, মূলত তারা এর প্রতিকার চায়।
তবে বিষয়টি অস্বীকার করে দলিল লেখক সমিতির সভাপতি মো. দিদার হোসেন জানান, অফিসে রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার পরে আমরা পাঁচ লাখ টাকার একটা দলিল লেখলে হয়তো ২ থেকে ১ হাজার টাকা দিয়ে যায়, এভাবেই চলতে হয়।
এ বিষয়ে সদর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের কর্মকর্তা সর্মিলা আহম্মেদ সম্পা বলেন, আমাদের কাছে কেউ অভিযোগ দিলে আমরা এর যথাযথ ব্যবস্থা নেব। তবে এখন পর্যন্ত আমরা কোনো অভিযোগ পাইনি।
মানুষের হয়রানির কথা স্বীকার করে জেলা রেজিস্ট্রার মো. রুহুল কুদ্দুস জানান, অনলাইন রেজিস্ট্রেশন সেবা চালু হলেই কমে যাবে ভোগান্তি।
একটি পৌরসভা ও ১৫টি ইউনিয়নের সব কয়েকটি মৌজার সদর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে দলিল রেজিস্ট্রি হয়। এখানে প্রতি মাসে গড়ে ৭০০ দলিল লেখা হয়।