আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: দুই সপ্তাহ আগে মরক্কোতে শিশু রায়ানের মৃত্যু বিশ্ববাসীকে নাড়া দেয়। এবার আফগানিস্তানে ঠিক একই ঘটনা ঘটল।
মঙ্গলবার আফগানিস্তানের খরা বিধ্বস্ত জাবুল প্রদেশে হায়াদার নামে এক শিশু (৫) গভীর কুয়ায় পড়ে যায়। শিশুটিকে বাঁচাতে উদ্ধারকর্মীরা টানা তিন দিন চেষ্টা চালান। কিন্তু তাকে বাঁচানো যায়নি।
শুক্রবার সকাল পর্যন্ত শিশুটি বেঁচে ছিল বলে কর্মকর্তারা জানান। কিন্তু পরবর্তীতে তারা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তালেবান শাসিত সরকারের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা আনাস হাক্কানি এক টুইট বার্তায় বলেন, অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, হায়দার আমাদের ছেড়ে চিরতরে চলে গেছে।
শিশুটিকে মৃত ঘোষণার পূর্বে জাবুল প্রদেশ পুলিশে মুখপাত্র জাবিউল্লাহ জাওয়ার বলেন, উদ্ধারকারীরা নতুন বাধার সম্মুখীন হয়েছে। পাথরের কারণে তারা মাটি খুড়তে পারছে না। ধূলা ও মাটির কণা পড়ার ফলে শিশুটির মৃত্যু হতে পারে আশঙ্কা করে তিনি জানিয়েছিলেন, তারা সতর্কভাবে কাজ করছেন।
শিশুটির দাদা হাজি আব্দুল হাদি এএফপি নিউজ এজেন্সিকে বলেন, শিশু হায়দার শুষ্ক মাটিতে গর্ত খুড়তে সহায়তা করার একপর্যায়ে কুয়ায় পড়ে যায়।
কর্মকর্তারা জানান, শিশুটি ৮০ মিটার গভীর কুয়ায় পড়ে যান। দড়ির সাহয্যে তাকে ১০ মিটার উপরে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু এরপর আর আনা সম্ভব হয়নি।
বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ারকৃত ভিডিওতে দেখা যায়, কুয়ার ভেতর শিশু হায়দার আটকা পড়েছে। শিশুটির দুই বাহু ও শরীরের ওপরের অংশ নড়াচড়া করতে দেখা যায়।
ভিডিওতে শিশুটির বাবাকে বলতে শোনা যায়, তুমি ঠিক আছো? আমার সঙ্গে কথা বল এবং কান্না করো না। তোমাকে বের করে আনার জন্য আমরা কাজ করছি। ভেতর থেকে শিশুটি কান্নাজড়িত কণ্ঠে—‘ আমি কথা বলব’ বলতে শোনা যায়। উদ্ধারকারীরা কুয়ার ভেতর রশি ফেলে ক্যামেরা দিয়ে এই ভিডিও ধারণ করেন।
গত ৫ ফেব্রুয়ারি মরক্কোতে রায়ান নামে ৫ বছরের এক শিশু ১০৫ ফুট (৩২ মিটার) গভীর কুয়ায় পড়ে যান। টানা পাঁচ দিন উদ্ধার অভিযান শেষে উদ্ধারকারী তাকে উদ্ধার করেন। কিন্তু ততক্ষণে শিশু রায়ান মৃত। বিশ্বের কোটি মানুষের হৃদয় ছুয়ে যায় শিশু রায়ানের মৃত্যু। বিশ্ববিখ্যাত ফুটবলার, টিম, এবং ধারা ভাষ্যকাররাও শিশুটির করুণ মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন।


