বদরুল হোসেন খান কামরান::আজ ২১ আগষ্ট। বাংলাদেশের ইতিহাসে এই দিনটি আর অন্যান্য দিনের মত সাধারণ দিন নয়, এক বিভীষিকাময় কলংকিত দিন। সে দিনের গ্রেনেড হামলা, দানবীয় সন্ত্রাস,নারকীয় জঘন্যতম হত্যাজজ্ঞ অবলোকন করে সারা পৃথিবীর বিবেক স্তব্ধ বাকরুদ্ধ হয়ে যায়। বিশ্ব রাজনীতিবৃন্দ এই বীভৎস হত্যাকান্ডের হোতা ঘাতকদের প্রতি ঘৃণা ধিক্ষার জানালেন। কিন্তু কিছু হিংস্র জানোয়ার, কিছু অমানুষ এই ভয়াল দৃশ্য উপভোগ করলো প্রেক্ষাগৃহে ছবি দেখার মত নীরব দর্শক হয়ে। তারা আর কেউ নয়, বি এন পি নামের এ দেশেরই একটি রাজনৈতিক দল, আর এ দেশেই জন্ম নেয়া কুলাঙ্গার কিছু বেজন্মা দেশের স্বাধীনতার শত্রু কিছু ইসলামী সংগঠন। কোনো দেশের কোনো রাজনৈতিক দল তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিরোধী দলকে খুন করে হত্যা করে সমূলে উৎখাত করে দিতে বার বার পরিকল্পিতভাবে হত্যাজজ্ঞ চালিয়েছে এমন প্রমাণ পৃথিবীর ইতিহাসে কয়টি আছে আমার জানার নেই।
ঘাতকেরা শুধু প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকেই নিশ্চিহ্ন করে দিতে চেয়েছিল ভাবলে ভুল হবে, তারা একটি আদর্শ একটি চেতনাকে ধ্বংস করে দিতে চেয়েছিল। এর আগে তারা সেই চেষ্টাই করেছিল স্বাধীনতার স্তপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করে।
সে দিন ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পরিকল্পনায় সমর্থন দিয়েছিলেন বি এন পি’র প্রতিষ্ঠাতা মেজর জিয়াউর রহমান, আর ২০০৪ সালের ২১ আগষ্টের নারকীয় হত্যাজজ্ঞের পরিকল্পনা করা হয়েছিল তারই পুত্র তারেক জিয়ার হাওয়া ভবনে বসে। আওয়ামী লীগকে দুনিয়া থেকে বিলীন করে দিতে বিএনপি পরামর্শ করলো একাত্তরের ঘাতক মুজাহিদ, ইসলামী জঙ্গী সংগঠনের খুনীদের সাথে। মুফতি হান্নান পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে কারা কারা এই হত্যাপরিকল্পনায় ছিলেন
২১ আগষ্টের গ্রেনেড হামলায় আহত শতাধিক আওয়ামী লীগ কর্মী-সমর্থক শতশত বিষাক্ত স্প্লিন্টার দেহে বহন করে অসহ্য যন্ত্রনা নিয়ে দূর্বিষহ দিন কাটাচ্ছেন। অনেকেই জীবনের তরে পঙ্গু হয়ে গেছেন। তারা বলছেন যারা মরে গেছে তারাই বেঁচে গেছে, মৃত্যু বেদনা নিয়ে এ বাঁচার চেয়ে মরাটাই শ্রেয় ছিল। অথচ ঘাতকদের অনেকেই আজও মুক্ত স্বাধীন জীবন যাপন করছে।
মহান মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ-চেতনা বাঁচিয়ে রাখার লক্ষ্যে, অসাম্প্রদায়ীক বাংলাদেশ, সুষ্ট গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মানবতা বিরোধী এ হত্যাজজ্ঞের বিচার হচ্ছে। বছর ঘুরে আগষ্ট আসলেই আমাদের মনটা আতংকিত হয়, বুকটা ভয়ে ধুরুধুরু করে, ১৫ আগষ্ট, ১৭ আগষ্ট, ২১ আগষ্ট দেখেছি, না জানি এই আগষ্টে কী হয়। এই দিনগুলোর ইতিহাস জানার ও আমাদের নতুন প্রজন্মকে জানানোর প্রয়োজন আছে, দেশের স্বার্থে, জাতির স্বার্থে মানবতার স্বার্থে।
লেখকঃবদরুল হোসেন খান কামরান
যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক
সিলেট মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ।


