দলকে চাঙ্গা করতে বিএনপির সিনিয়র নেতারা কি ভাবছেন?

সিলেট নিউজ টাইমস্ ডেস্ক:: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরাজয়ের পর দুঃসময় পার করছে বিএনপি। রাজনীতির মারপ্যাঁচে বারবার ধরাশায়ী দলটি সাংগঠনিকভাবেও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তাই দলকে চাঙ্গা করতে পুরনোদের সরে গিয়ে কাউন্সিলের মাধ্যমে বিএনপিকে পুনর্গঠনেরও তাগিদ দিয়েছেন সিনিয়র নেতারা।

শুক্রবার বিকালে সুপ্রিমকোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন মিলনায়তনে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৮৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় অংশ নেন দলের সিনিয়র নেতারা। এসময় জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করার পাশাপাশি তারা কথা বলেন দলের ক্ষতিগ্রস্থ কর্মীদের পুনর্বাসন নিয়েও।

দলকে চাঙ্গা করতে নিজেদের করণীয় নিয়েও কথা বলেন সিনিয়র নেতারা। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে। অন্ধকার থেকে আলোতে উঠে আসতে হবে। এজন্য যুবকদের এগিয়ে আসতে হবে। দেশটা আপনাদের, আপনাদেরই রক্ষা করতে হব। জিয়াউর রহমান আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া শিখিয়েছেন। পরাজিত হওয়া যাবে না। পরাজিত বোধ করলেই পরাজিত।

তিনি বলেন, আমাদের যেসব ভাই পঙ্গু, ক্ষতিগ্রস্ত, কারারুদ্ধ এবং যারা নির্যাতিত হয়েছেন তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। আজ সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, আমাদের নেত্রী, গণতন্ত্রের মাতাকে কারাগার থেকে বের করে আনতে হবে। সেজন্য আমাদের এখন ঐক্যবদ্ধ হয়ে সমগ্র দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে দুর্বার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশনেত্রীকে মুক্ত করে আনতে হবে। আমাদের ভাইদের মুক্ত করতে হবে। মুক্ত করতে হবে গণতন্ত্রকে। এই শপথ নিয়ে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাব।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আওয়ামী লীগ হল সেই দল যারা যেনতেনভাবে ক্ষমতায় থাকতে চায়। গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রকে তারা ব্যবহার করে তাদের প্রয়োজনে। রাষ্ট্রকে তারা ধ্বংস করে দেয়। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ওপর তাদের রাগটা ওই জায়গায়, তিনি দেশকে বহুদলীয় গণতন্ত্র দিয়েছিলেন। কথা বলার স্বাধীনতা দিয়েছিলেন। সেজন্য জিয়াউর রহমান সম্পর্কে অপপ্রচার চালান। তবে তাতে কাজ হবে না। মানুষের হৃদয় থেকে তাকে মুছে ফেলা যাবে না।

সভায় কাউন্সিলের মাধ্যমে দলকে পুনর্গঠনের আহ্বান জানিয়ে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, ত্যাগী ও পরীক্ষিতদের নেতৃত্বে আনতে হবে। আমরা যারা ব্যর্থ তাদের পদ ছেড়ে দিতে হবে তরুণদের জন্য। তাহলেই বিএনপি ঘুরে দাঁড়াবে।

স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, দরকার হলে আমাদের যাদের বয়স হয়ে গেছে আমরা সরে যাব। তারপরেও এই দলটাকে তো রাখতে হবে। এর একমাত্র উপায় হল নতুন করে দলকে পুনর্গঠন করা। কাজটি কয়েক মাসের মধ্যেই করতে হবে। তাহলেই আমরা আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারব।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, যারা প্রার্থী ছিলেন তাদের নিজ নিজ এলাকার নেতাকর্মীদের মামলা থেকে পরিত্রাণ করা ও জেল থেকে মুক্ত করাতে হবে।

যেসব এলাকায় আমাদের প্রার্থী ছিল না সেখানে দলের মাধ্যমে নেতাকর্মীদের পুনর্বাসন করতে হবে। কাউন্সিলের মাধ্যমে দলকে পুনর্গঠন করতে হবে। নির্বাচনে পরীক্ষিতদের সামনে আনতে হবে।

ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, এখন আমাদের দুটি কাজ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একটি হল পুনর্বাসন আর অপরটি পুনর্গঠন। ক্ষতিগ্রস্ত লাখ লাখ নেতাকর্মীকে পুনর্বাসন আর ত্যাগীদের সামনে এনে দল পুনর্গঠন করতে হবে। তিনি বলেন, নির্বাচনে ৯৭ শতাংশ আসন মহাজোট পেয়েছে। আপনারা যদি নিউইয়র্ক টাইমস, ওয়াশিংটন পোস্ট, গার্ডিয়ান, লন্ডনের অবজারভার পড়েন, সারা দুনিয়ার কেউ বিশ্বাস করে না সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ ভোট হয়েছে। এটা ভোট চুরির নির্বাচন হয়েছে, জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেনি।

আলোচনা সভা যৌথভাবে পরিচালনা করেন প্রচার সম্পাদক শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানী ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ। সভায় বক্তব্য দেন- স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, ভাইস-চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, আবদুল মান্নান, ব্যারিস্টার শাজাহান ওমর, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, আহমেদ আযম খান প্রমুখ।

উপস্থিত ছিলেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূঁইয়া, আতাউর রহমান ঢালী, যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক খোন্দকার মাশুকুর রহমান, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মোহাম্মাদ রহমাতুল্লাহ প্রমুখ।

কমেন্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.