সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ হওয়ার পর সরদার প্রার্থিতা বহাল

119 total views, 1 views today

নিউজ ডেস্ক:: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-২ আসনের নির্বাচনী হলফনামায় তথ্য গোপনের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী ঘরানার হিসেবে পরিচিত অধ্যক্ষ ড. এনামুল হক সরদারের প্রার্থিতা বহাল রয়েছে।

অথচ একই অভিযোগে অভিযুক্ত ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী নিখোঁজ বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনার প্রার্থিতা স্থগিত করা হয়েছে।

অধ্যক্ষ ড. এনামুল হক সরদার সরাসরি একটি সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ হওয়ার পরও তার প্রার্থিতা বহাল এবং তাহসিনা রুশদীর লুনা সরকারি প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে কর্মরত না থেকেও তার প্রার্থিতা স্থগিত হওয়ায় এ-নিয়ে জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। লুনার প্রার্থিতা স্থগিত করার বিষয়টি একটি ষড়যন্ত্রের অংশ ও সরকারের হয়রানিমূলক প্রদক্ষেপ মনে করছে বিএনপি।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে ‘ধানের শীষ’ প্রতীক নিয়ে তাহসিনা রুশদীর লুনা আর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অধ্যক্ষ ড. এনামুল হক সরদার মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। মনোনয়ন দাখিলের পর রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লুনা ও সরদারের বিরুদ্ধে তথ্য গোপন করার অভিযোগ করেন এই আসনে মহাজোটের প্রার্থী ও জাপার বর্তমান এমপি ইয়াহ্ইয়া চৌধুরী এহিয়া।

অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন আরপিও অনুযায়ী সরকারি চাকরি থেকে অবসর নেয়ার তিন বছর পর সংসদ সদস্য পদে প্রার্থী হওয়ার বিধান থাকলেও তাহসিনা রুশদীর লুনা ৬ মাস আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার পদ থেকে অব্যাহতি নেন এবং অধ্যক্ষ ড. এনামুল হক সরদার জৈন্তাপুর ইমরান আহমদ মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে কর্মরত। তাই লুনা ও সরদার গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।

প্রাথমিক বাছাইয়ে এনামুল হক সর্দারের মনোনয়ন বাতিল হয়, পরে তিনি নির্বাচন কমিশনে আপিল করলে আপিলেও তার প্রার্থিতা বাতিল হয়। এরপর তিনি হাইকোর্টে আপিল করে আইনি লড়াই চালিয়ে প্রার্থিতা ফিরে পেয়ে মাঠে এখন সক্রিয়।

অন্যদিকে, জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রাথমিক বাছাইয়ের পর নির্বাচন কমিশনের আপিলে তাহসিনা রুশদীর লুনার মনোনয়ন বৈধ হলে তার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দায়ের করেন মহাজোট প্রার্থী ইয়াহ্ইয়া চৌধুরী। রিট পিটিশন শুনানির পর লুনার প্রার্থিতা স্থগিতের নির্দেশ দেন আদালত।

এদিকে, অধ্যক্ষ ড. এনামুল হক সরদার সরাসরি একটি সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ হয়েও আওয়ামী লীগ ঘরানার বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় তার প্রার্থিতা বহাল থাকায় এবং সরাসরি সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত না থেকেও তাহসিনা রুশদীর লুনার প্রার্থিতা স্থগিত হওয়ায় ক্ষোভ বিরাজ করছে বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে। তাদের অভিযোগ সরকার ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে লুনাকে নির্বাচন থেকে সরাতে চায়।

বিশ্বনাথ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক বশির আহমদ বলেন, ২০১৪ সালের মতো বিএনপিকে নির্বাচন থেকে সরিয়ে খালি মাঠে গোল দিতে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। ইয়াহই্য়া চৌধুরীর অভিযোগ মিথ্যা হওয়ায় নির্বাচন কমিশন লুনার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করলেও আদালত এই অভিযোগটি আমলে নিয়ে প্রার্থিতা স্থগিত করেন। অথচ সরাসরি একটি সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ হওয়ার কারণে এনামুল হক সরদারের প্রার্থিতা বাতিল করেন নির্বাচন কমিশন। কিন্ত তিনি আওয়ামী লীগের হওয়ায় তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। আইন সমানভাবে প্রয়োগ হলে এনামুল হক সরদারের প্রার্থিতাও বাতিল হওয়ার কথা।

কমেন্ট
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •