শায়েস্তাগঞ্জে বিএনপির ৭৩ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

128 total views, 1 views today

সিলেট নিউজ টাইমস্  ডেস্ক :: শায়েস্তাগঞ্জের পুটিয়া গ্রামে পুলিশকে কিলঘুষি মেরে ও হামলা চালিয়ে পুলিশের সরকারি ক্যামেরা ছিনতাই চেষ্টার অভিযোগে বিএনপি যুবদল ছাত্রদলসহ অঙ্গ-সংগঠনের ৭৩ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাত আরও ৫০/৬০ জনকে আসামী করা হয়।

শুক্রবার দিবাগত রাত ১১টায় শায়েস্তাগঞ্জ থানার এসআই কমলা কান্ত বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়- গত ১৯ ডিসেম্বর শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার পুটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছে হবিগঞ্জ-৩ (সদর-লাখাই-শায়েস্তাগঞ্জ) আসনে বিএনপি মনোনীত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী জি কে গউছের নির্বাচনী প্রচারের সময় তাঁর নিরাপত্তার জন্য মামলার বাদী এসআই কমলা কান্তসহ একদল পুলিশ দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ সময় সরকারি ক্যামেরা দ্বারা পুলিশ কনস্টেবল রায়েল মিয়া অনুষ্ঠানস্থল ও আশপাশের দৃশ্য ভিডিওতে ধারণ করছিলেন।

এ সময় জেলা যুবদল সভাপতি মিয়া মো. ইলিয়াছ উত্তেজিত হয়ে ভিডিও ধারণে বাঁধা প্রদান করেন। এক পর্যায়ে মিয়া মো. ইলিয়াছ কনস্টেবল রায়েলের সাথে তর্কবিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় মামলার বাদী এসআই কমলা কান্তসহ অন্যান্য পুলিশ সদস্য এ ঘটনার প্রতিবাদ করলে মিয়া মো. ইলিয়াছ অন্য আসামীদের বলেন ‘পুলিশকে ভিডিও করার মজা দেখিয়ে দে’। একথা বলার সাথে সাথে ৫০/৬০ জন আসামী ‘ধানের শীষ’ ‘ধানের শীষ’ বলে শ্লোগান দিয়ে পুলিশকে ঘেরাও করে ফেলে এবং আসামীরা এলোপাতাড়িভাবে কিলঘুষি ধাক্কাধাক্কি শুরু করে পুলিশের ভিডিও ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে।

আসামীদের কিলঘুষি ধাক্কাধাক্কিতে মামলার বাদীসহ এএসআই বিধান রায়, কনস্টেবল সালেহ আহমেদ, ঝমুন তালুকদার, সাদেক আহমেদ গং শরীরের বিভিন্ন স্থানে লীলাফুলা জখমপ্রাপ্ত হন। বিশেষ করে আসামীদের কিলঘুষিতে কনেস্টেবল রায়েল মিয়ার বাম চোখের নিচে জখমপ্রাপ্ত হয়। তাদেরকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে চিকিৎসা প্রদান করা হয়। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে বিএনপি নেতাকর্মীরা ধানের শীষ শ্লোগান দিতে দিতে গ্রামের ভেতর দিয়ে চলে যায়।

হবিগঞ্জ জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক রিচি ইউপি চেয়ারম্যান মিয়া মোহাম্মদ ইলিয়াসকে প্রধান আসামী করে দায়ের করা মামলার উল্লেখযোগ্য অন্য আসামীরা হলেন- জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ইসলাম তরফদার তনু, জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আজিজুর রহমান কাজল, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক জালাল আহমেদ, সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাহবুবুল রহমান আউয়াল, শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র ফরিদ আহমেদ অলি, হবিগঞ্জ পৌর বিএনপির আহ্বায়ক পৌর কাউন্সিলর আবুল হাসিম, যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুবুল হক হেলাল, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি তাজুল ইসলাম চৌধুরী ফরিদ, বর্তমান সভাপতি এমদাদুল হক ইমরান, সাধারণ রুবেল আহমেদ চৌধুরী, জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক হাফিজুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক রাজিব আহমেদ রিংগন, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক শফিকুর রহমান সিতু, যুগ্ম আহ্বায়ক মোর্শেদ আলম সাজন, শেখ মামুন, জেলা যুবদল নেতা অলিউর রহমান, শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম শানু, পাথারিয়া গ্রামের বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম, চাঁনপুর গ্রামের মমিন মিয়া, সূচিউড়া গ্রামের মনির মিয়া, অলিপুরের নাছির উদ্দিন, শ্রমিকদল নেতা সোহেল চৌধুরী, ছাত্রদল নেতা সাইফুল ইসলাম রানা।

কমেন্ট
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •