কানাইঘাটে ট্রাক বোঝাই বই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৭ টন বই আটক

146 total views, 1 views today

নিজস্ব প্রতিনিধি::সিলেটের কানাইঘাটে ট্রাক বোঝাই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৭ টন বই আটক করা হয়েছে। গত বুধবার বিকাল ৫ টায় একটি চক্র বিভিন্ন গোডাউনে এসব বই স্টক রেখে গোপনে বিক্রি করতে গিয়ে ট্রাকে লোড করার সময় ধর পড়ে স্থানীয় লোকদের হাতে। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া সুলতানার নির্দেশে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লুসি কান্ত হাজং এ বই গুলো আটক করেন।

জানা যায় গত ২৬ সেপ্টেম্বর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (চঃদাঃ) মোঃ ওবায়দুল্লাহ সিলেট জেলার ১১টি উপজেলার ২০১৬ শিক্ষা বর্ষের প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরের বাংলা ভার্সন ও ইংরেজি ভার্সন উদ্বৃত্ত (পুরাতন-অব্যবহৃত) পাঠ্য পুস্তক সর্বমোট ৮৪২৯ কেজি বই প্রকাশ্য নিলাম করেন। এতে নিলামে প্রতি কেজি বইয়ের মূল্য হয় ১৮ টাকা ২৫ পয়সা। এর মধ্যে কানাইঘাট উপজেলা শিক্ষা অফিসের গোডাউনের হিসাব মতে ৭৫০ কেজি রক্ষিত বই নিলামে বিক্রি হয়। উক্ত নিলাম কৃত বই বুধবার সকাল ১১টায় কানাইঘাট উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের গোডাউন থেকে নিতে আসেন সিলেট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের অফিস সহকারী অলক কুমার দাস। এসময় তিনি কানাইঘাট উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের অফিস সহায়ক আব্দুল আজাদ, নৈশ প্রহরী হোসেন আহমদ ও টিলাবাড়ী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এনাম উদ্দিনের সহযোগীতায় প্রায় ১৫ জন শ্রমিক লাগিয়ে ট্রাকে বই তুলতে শুরু করেন। কিন্তু যেখানে ৭৫০ কেজি ২০১৬ সালের বই নেওয়ার কথা সেখানে ২০১৭ সালের বই সহ ২টি ট্রাকে প্রায় ৭ টন বই লোড করেন।

এসময় স্থানীয় লোকজনের সন্দেহ হলে তারা অলক কুমার দাসের কাছে নিলাম বিজ্ঞপ্তির সিডিউল দেখতে চান। এসময় অলক কুমার দাস কানাইঘাট উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য ইকবাল হোসেন ও উপজেলা শ্রমিকলীগের সাধারণ সম্পাদক জুনেদ হাসান জিবানের কাছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (চঃদাঃ) মোঃ ওবায়দুল্লাহ’র স্বাক্ষর বিহীন একটি চিটি উপস্থাপন করেন। উক্ত চিটিতে ৭৫০ কেজি ২০১৬ সালের অযোগ্য ও বাতিলকৃত বই নিলামে বিক্রয় করা হয়েছে বলে উল্লেখ ছিল। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া সুলতানা উপজেলার রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকদের নিয়ে গোডাউনে উপস্থিত হয়ে পুরো বিষয়টি তদন্ত করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন কানাইঘাট পৌর আওয়ামীলীগের আহবায়ক জামাল উদ্দিন, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক কেএইচএম আব্দুল্লাহ, উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম আহবায়ক রিংকু চক্রবর্তী, উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য ইকবাল হোসেন, উপজেলা শ্রমিকলীগের সভাপতি জসিম উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক জুনেদ হাসান জিবান, উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আলিম উদ্দিন আলিম, কানাইঘাট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন, উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মুমিন রশিদ, প্রমূখ।

তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গোডাউন তদন্ত শেষে সবাইকে নিয়ে তার কাযালয়ে আসেন। সেখানে নির্বাহী কর্মকর্তা তাদের কাছে এত বই লোড করার কারন জানতে চাইলে তারা কোন সদোত্তর দিতে পারেনি। এ বিষয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া সুলতানা জানান সরকারী বই গুলো গোপনে এভাবে কেন বিক্রয় করা হচ্ছে এবং এ ঘটনায় কারা জড়িত রয়েছে তা তদন্ত করতে উপজেলা সহকারী কমিশনার ভুমি লুসিকান্ত হাজং ও কানাইঘাট থানার এসআই সনজিত রায়কে দিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এবং সিলেটের জেলা প্রশাসকের সাথে আলাপ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

কমেন্ট
শেয়ার করুন
  • 16
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    16
    Shares