নিজামপুর ইউনিয়নের  কাজীর বিরুদ্ধে ২২ লাখ  টাকা দুর্নীতির অভিযোগে  মামলা দায়ের

62 total views, 1 views today

আজিজুল ইসলাম সজীব :: একই সাথে সরকারের ২টি পদ ব্যবহার করে দুর্নীতি করায় হবিগঞ্জ সদর উপজেলার ৯নং নিজামপুর ইউনিয়নের নিকাহ রেজিষ্টার শাহ শামসুল আলমের বিরুদ্ধে ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ এর ঘ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। গতকাল মামলা দায়ের করার পর হবিগঞ্জের দায়রা জজ (স্পেশাল জজ) মোঃ আমজাদ হোসেন দুর্নীতি দমন কমিশন এর হবিগঞ্জ সমন্বয় কার্যালয়কে মামলাটির তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন।

জানা যায়, নিজামপুর ইউনিয়নের নিকাহ রেজিষ্টার শাহ শামসুল আলম হবিগঞ্জ সদর উপজেলার উচাইল শাহ মজলিশ আমিন সু্িন্নয়া দাখিল মাদ্রাসার সহকারী মৌলভী। মাদ্রাসার সহকারী মৌলভী হিসাবে ২০০০ সালে তিনি এমপিওভুক্ত হন। তার এমপিওভুক্তির ইনডেক্স নাম্বার ৩২০৪২৮, পে-স্কেল কোড নং ১০। এমপিওভুক্ত কোনো শিক্ষক সরকারী বেতন ভোগী কর্মচারী হিসাবে গণ্য।

এ তথ্য গোপন করে শাহ শামসুল আলম নিজামপুর ইউনিয়নের নিকাহ রেজিষ্ট্রার পদের জন্য আবেদন করেন। বাংলাদেশ সরকারের আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিচার শাখা-৭ হতে গত ২৬/৭/২০০৫ ইং তারিখে স্মারক নং বিচার-৭/২এন-৭৩/২০০২ (অংশ)/৬৫৭ মূলে শাহ শামসুল আলম হবিগঞ্জ সদর উপজেলার ৯নং নিজামপুর ইউনিয়নের নিকাহ রেজিষ্ট্রার হিসাবে লাইসেন্স প্রাপ্ত হন। এরপর থেকে ১০৮ মাস ১৫ দিনে প্রতিমাসে গড়ে ১০টি নিকাহ রেজিষ্ট্রার সম্পাদন করেন তিনি। প্রতিটি নিকাহ রেজিষ্ট্রারে তিনি গড়ে ২ হাজার টাকা করে আদায় করেন। এই হিসাবে শাহ শামসুল আলম ২১ লাখ ৭০ হাজার টাকা দুর্নীতির মাধ্যমে আত্মসাত করেছেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। একই সাথে শাহ শামসুল আলম মাদ্রাসার শিক্ষক হিসাবে গত ১৮ বছরে অন্তত ৩০ লাখ টাকা সরকারী বেতন ভাতা উত্তোলন করেন। একসাথে সরকারের দুই পদ ব্যবহারের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ কর্তৃক প্রণীত বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০১৮ এর ১১.১০(ক) বিধান মোতাবেক “বেতন-ভাতাদির সরকারী অংশ প্রাপ্তির জন্য আবেদনকারী শিক্ষক-কর্মচারীগণ একই সাথে একাধিক পদে চাকুরীতে বা আর্থিক লাভজনক কোনো পদে নিয়োজিত থাকতে পারবেন না”। দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭ এর সরকারী কর্মচারী সংজ্ঞার ১২তম বিধান মোতাবেক একজন এমপিওভূক্ত শিক্ষক সরকারী কর্মচারী, একই বিধান মোতাবেক কমিশন আকারে পারিশ্রমিক গ্রহণ করায় নিকাহ রেজিষ্ট্রার পদও সরকারী কর্মচারী হিসাবে গণ্য। তাছাড়া ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে সন্নিবেশিত মহামান্য উচ্চ আদালতের কতিপয় সিদ্ধান্তের ১৪ নং কলামে বলা হয়েছে “একজন নিকাহ রেজিষ্ট্রার সরকারী কর্মচারী হিসাবে গণ্য”।

বাদী তার মামলায় উল্লেখ করেন-শাহ শামসুল আলম নিজামপুর ইউনিয়নের নিকাহ রেজিষ্ট্রার হওয়ায় ওই ইউনিয়নের যোগ্য অনেক ব্যক্তি তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। একইভাবে উচাইল শাহ মজলিশ আমিন দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক পদে নিযুক্ত থাকায় ওই মাদ্রাসার সহকারী মৌলভী পদে চাকুরী করতে আগ্রহীদের অনেকেই তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

কমেন্ট
শেয়ার করুন
  • 17
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    17
    Shares