সিসিক নির্বাচন : আজ মধ্যরাতে বন্ধ হচ্ছে প্রচারণা

106 total views, 4 views today

সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রচারণা। আগামী সোমবার সিলেট সিটিতে ভোট হবে। সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের প্রচার প্রচারণার শেষ দিনে নগরীর পাড়া মহল্লা, অলিগলি মুখরিত মাইকিং, পোষ্টার আর ব্যানারে। রৌদ্রের তাপদাহ আর গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি উপেক্ষা করে চলছে প্রার্থীদের গণসংযোগ প্রচার প্রচারণা। তবে আজ রাত ১২টার পর এবারের মতো শেষ হবে সকল প্রকার প্রচার প্রচারণা। নগরীর বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় ভোটারদের মাঝেও বিরাজ করছে নির্বাচনী উৎসবের আমেজ।

সিলেটবাসীর প্রত্যাশা গতবছরের ন্যায় এবারো অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যোগ্য নগরপিতা নির্বাচিত হবেন। তবে এবার জাতীয় নির্বাচনের আগে সিলেটে ভোটের মাঠকে সেমিফাইনাল হিসেবে দেখছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। সিটি নির্বাচনে নৌকাকে হারিয়ে সরকারকে পরিবর্তনের বার্তা দিতে চায় বিএনপি।

আবার অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের ওপর পূর্ণ আস্থার কথা বলছে সতন্ত্রপ্রার্থীরা। সিলেট সিটিতে মেয়র পদে ৭ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও লড়াই হবে আওয়ামী লীগের বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, জামায়াতের এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের ও বিএনপির আরিফুল হক চৌধুরীর মধ্যে।

সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আনুষ্ঠানিকভাবে আজ শনিবার মধ্যরাত থেকে বন্ধ হচ্ছে নির্বাচনের সব ধরনের প্রচারকাজ। এছাড়া ভোট সুষ্ঠু করতে গতকাল শুক্রবার রাত ১২টা থেকে বহিরাগতদের সিটি এলাকা ছাড়তে নির্দেশ দিয়েছে ইসি। এছাড়া ভোটের তিন দিন আগে থেকে ভোটের পরবর্তী তিন দিন পর্যন্ত লাইসেন্সধারী অস্ত্র বহনও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

জানতে চাইলে সিলেট আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা প্রলয় কুমার সাহা বলেন, ‘একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অবাধ নির্বাচন করতে চায় নির্বাচন কমিশন। এজন্য প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থাই গ্রহণ করা হচ্ছে। নিরাপত্তা যাতে বজায় থাকে, সে জন্য র‌্যাব, পুলিশ, বিজিবি, আনসার মিলে দায়িত্ব পালন করবে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে মাঠে থাকবেন ম্যাজিস্ট্রেটগণও।

নির্বাচন নির্বিঘ্ন করতে এবং সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে সিলেট সিটি নির্বাচনে ৯ জন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং ৯ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চারদিন দায়িত্ব পালন করবেন। ভোট গ্রহণের আগের দিন (২৯ জুলাই), ভোটের দিন এবং পরবর্তী দুই দিন এরা মাঠে থাকবেন।

ফলে সিলেটের ভোটার নন এমন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতারা সেখানে অবস্থান করতে পারবেন না। এদিকে নির্বাচনী এলাকার নিরাপত্তায় গতকাল শুক্রবার থেকে মাঠে নেমেছে অতিরিক্তসংখ্যক পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি। আর এখন চলছে শেষ মুহূর্তের প্রচারণা।

আজ আওয়ামী লীগের মনোনীথ প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী, জামায়াতের প্রার্থী এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী ডা. মুয়াজ্জেম হোসেন খান, সতন্ত্র মেয়র প্রার্থী মো. এহসানুল হক তাহের এবং সিপিবি বাসদের প্রার্থী আবু জাফর নেতাকর্মীদের নিয়ে সিটি কর্পোরেশন এলাকায় শেষবারের মতো আজ প্রচারকাজে যোগ দেবেন।

এবার সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে কেন্দ্র রয়েছে ১৩৪ টি। তন্মধ্যে ৮০টি কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ। এ কেন্দ্রগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় থাকবে প্রশাসনের অধিক নজরদারী। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে যাতে কোনো ধরণের সহিংসতা বা কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সে জন্য র‌্যাব, পুলিশ ও বিজিবি’র টহল সার্বক্ষনিক থাকবে।

গত বুধবার বিকেলে সিলেট মেট্টোপলিটন পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য নিশ্চিত করেন এসএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার পরিতোষ ঘোষ। তিনি বলেন, আপনারা যেটাকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করেন, সেটাকে আমরা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করি। তবে ২৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলো প্রকাশ করেননি তিনি। সিলেট সিটি নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ করতে এসএমপি থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। নির্বাচনী পরিবেশ সুষ্ঠু ও সুন্দর রাখতে নগরীতে জুডিসিয়াল ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের সাথে র‌্যাবের ২৭টি এবং ১৪ প্লাটুন বিজিবি কাজ করবে বলেও জানা গেছে।

সিলেট নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৩০ জন সদস্য নিয়ে একটি করে মোবাইল ফোর্স থাকবে বলে সিলেট আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে। প্রতি তিনটি ওয়ার্ড মিলিয়ে থাকবে ১০ জনের একটি স্ট্রাইকিং ফোর্স। নগরীর ২৭টি ওয়ার্ডে র‌্যাবের ২৭টি টিম দায়িত্ব পালন করবে।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, সিসিক নির্বাচনে ২৭টি ওয়ার্ডে ১৩৪টি ভোটকেন্দ্রে ৯২৬টি ভোটকক্ষ রয়েছে। এসব ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ‘সাধারণ’ তালিকায় থাকা কেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ২২ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। অন্যদিকে ২৪ জন সদস্য ‘গুরুত্বপূর্ণ’ তালিকায় থাকা কেন্দ্রে কড়া নজরদারিতে থাকবেন। মূলত ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোকেই গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে ধরা হয়। তবে এখনও সিসিকের গুরুত্বপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র কতোটি তা ইসি থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ইসি সূত্রে জানা যায়, নগরীর ২৭টি ওয়ার্ডে ২৭টি মোবাইল ফোর্স থাকবে। পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যের সমন্বয়ে এর প্রতিটিতে সদস্য থাকবে ৩০ জন। এছাড়া প্রতি তিনটি ওয়ার্ডে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১০ জন সদস্য নিয়ে থাকবে স্ট্রাইকিং ফোর্স। নগরীর ২৭টি ওয়ার্ডে স্ট্রাইকিং ফোর্সের সংখ্যা থাকবে ৯টি। কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে সাথে সাথে এই স্ট্রাইকিং ফোর্স দ্রুত তারা এ্যাকশনে যাবে। এর বাইরে প্রতি দুই ওয়ার্ড মিলিয়ে এক প্লাটুন বিজিবি মাঠে টহলে থাকবে। ভোটকেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে এবং ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেন, তা দেখাশুনা করবে বিজিবি। এছাড়া নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে টহল দেবে র‌্যাবের একটি করে টিম।

সিলেট আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা প্রলয় কুমার সাহা বলেন, ‘একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অবাধ নির্বাচন করতে চায় নির্বাচন কমিশন। এজন্য প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থাই গ্রহণ করা হচ্ছে। নিরাপত্তা যাতে বজায় থাকে, সে জন্য র‌্যাব, পুলিশ, বিজিবি, আনসার মিলে দায়িত্ব পালন করবে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে মাঠে থাকবেন ম্যাজিস্ট্রেটগণও।

সিলেটের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও সিটি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আলীমুজ্জামান সিসিক নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।’ নির্বাচনী সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে নগরীতে র‌্যাবের ২৭টি এবং ১৪ প্লাটুন বিজিবি কাজ করবে। থাকছেন জুডিসিয়াল ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরাও।

সিলেট আঞ্চলিক নির্বাচনী কার্যালয়ের তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা প্রলয় কুমার সাহা জানিয়েছেন, নির্বাচনকে ঘিরে ইতোমধ্যে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কাছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংখ্যা কেমন হবে সেটা জানিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে যাতে সম্পন্ন হয় সে দিকে লক্ষ্য রেখে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মো. আজবাহার আলী শেখ বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে আমরা এখনো পর্যালোচনা করছি। গতকাল শুক্রবার সকাল থেকেই নগরীর প্রত্যেকটি সড়ক-মহাসড়কে পুলিশের তল্লাশি হচ্ছে। বহিরাগতদের ব্যাপারে কড়া নজরদারিতে রয়েছে পুলিশ সদস্যরা। গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর পাশাপাশি নগরীজুড়েই থাকবে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

কমেন্ট
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •