নবীগঞ্জে নিখোঁজের ৪ দিন পর মস্তকবিহীন  লাশ উদ্ধার:আটক ২

43 total views, 1 views today

নবীগঞ্জে নিখোঁজের ৪ দিন পর দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে কিশোরের আগুনে পোড়া মস্তকবিহীন লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শনিবার রাত ১০টার দিকে নিহত কিশোরের বাড়ি থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব দিকে পাহাড়ের ভেতর একটি ডোবা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায় মস্তকবিহীন লাশের মাথা এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তবে লাশের পরিচয় সনাক্ত করা হয়েছে। পুলিশ সন্দেহভাজন দুইজন কে আটক করেছে। এব্যাপারে নবীগঞ্জ থানায় মামলা হয়েছে।

জানা গেছে,যে লাশটি উদ্ধার করা হয়েছে তার নাম কাওছার মিয়া। সে পানিউমদা ইউনিয়নের চাতল গ্রামের হায়দর আলীর পুত্র। কাওছারের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ মে মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর কাওছার তাদের বাড়ির নিকটে বাড়ির পাশে একটি চা-দোকানে চা-খেতে যায়। সেখান থেকে রাত সাড়ে ১১টার দিকে একই এলাকার কাছুম আলীর ছেলে দুরুদ মিয়ার সঙ্গে বাড়ির ফেরার পথে নিখোঁজ হয় কাওছার। এরপর থেকে স্বজনরা খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। পরবর্তীতে কাওছারের পিতা নবীগঞ্জ থানায় একটি জিডি করেন। এরই মধ্যে গতকাল শনিবার রাতে যে ডোবা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়েছে এর পার্শ্ববর্তী স্থানে সন্ধ্যায় গরু আনতে গেলে স্থানীয় রাখালরা পঁচা দুর্গন্ধ পান। এ সময় ডোবার দিকে এগিয়ে গিয়ে মস্তকবিহীন লাশ ভাসমান অবস্থায় দেখতে পান।

পরে স্থানীয় লোকজন জড়ো হয়ে পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে নবীগঞ্জ থানার ওসি আতাউর রহমান একদল পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করেন। খবর পেয়ে কাওছারের স্বাজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তার জামাকাপড় দেখে লাশটি শনাক্ত করেন। কাওছারের শরীরে বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

এঘটনার পরপরই একই গ্রামের কাছুম আলীর পুত্র দুরুদ মিয়া ও পানিউমদা পানিউমদা গ্রামের সুফি মিয়ার পুত্র জগলু মিয়া (২৮)কে আটক করে পুলিশ। জগলু মিয়ার কাছ থেকে নিহত কাওছারের শার্ট উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় কাওছারের পিতা হায়দর আলী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ৫/৬ জনের নামে নবীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের করেছেন। কাওছারের পিতা হায়দর মিয়ার কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, পূর্ব বিরোধের জের ধরেই আমার ছেলেকে তারা এইরকম হত্যা করেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ এস.এম আতাউর রহমান বলেন, ৫দিন আগে নিখোঁজ হওয়ার পর তারা থানায় জিডি করে এবং পুলিশ এবিষয়ে তদন্তও করে। ৫দিন আগে হত্যাকান্ড হওয়ার ফলে লাশটি পঁচন ধরে গেছে। যেহেতু তাদের মধ্যে বিরোধ ছিল ধারণা করা হচ্ছে এটা পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকান্ড। তিনি বলেন আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এখনো কোন ক্লু পাওয়া যায়নি। লাশের মাথা উদ্ধারের জন্য বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে সহকারী পুলিশ সুপার পারভেজ আলম চৌধুরী বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে আমরা মাথাবিহীন লাশ উদ্ধার করেছি, ইতিমধ্যে আমারা সন্দেহভাজন হিসেবে একজনকে আটক করেছি, আশা করি শীঘ্রই এ হত্যাকান্ডের রহস্য উন্মোচন হবে।

কমেন্ট
শেয়ার করুন
  • 1
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    1
    Share