কানাইঘাটে ভাগ্নার হাতে মামা খুন: ঘাতক গ্রেফতার

71 total views, 1 views today

নিউজ ডেক্স:: কানাইঘাটে ভাগ্নার দায়ের উপর্যুপরি কোপে নির্মম ভাবে খুন হয়েছেন মামা নাজিম উদ্দিন (৩৫)। গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় উপজেলার বড়চতুল ইউপির চতুল বাজারে ঘটনাটি ঘটেছে। জানা যায়, দীর্ঘদিন থেকে রতনপুর গ্রামে মামার বাড়ীর পাশের নিজস্ব বাড়ী ঘর তৈরি করে ছিলেন বড়চতুল গ্রামের রফিকুল হক।পৈত্রিক সূত্রে পুত্র আলমাছ উদ্দিন বসবাস করছেন মামার বাড়ীর পাশের রতনপুর গ্রামে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তারা উভয় স্থানীয় চতুল বাজারের ব্যবসায়ী। তার একমাত্র মামা তিন সন্তানের জনক নাজিম উদ্দিন শারীরিক প্রতিবন্ধী। তিনি ভাগ্নের দোকানের পাশের্^ একটি সোকেসে পান সুপারির ব্যবসা করতেন। আলমাছ উদ্দিন দীর্ঘদিন থেকে লোকমুখে বলে আসছে তার মামা তাকে হত্যা করার জন্য জাদু টোনা করেছেন। এজন্য সে মামাকে খুন করতে বেপরোয়া হয়ে উঠে। এরই প্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার বাজার থেকে নতুন একটি দা কিনে লোকজন কিছু বুঝে উঠার পূর্বেই পানের দোকানে থাকা অবস্থায় মামার উপর উপর্যুপরি দা দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত আহত করে।

এ সময় বাজারের লোকজন এগিয়ে এসে ঘাতক আলমাছ উদ্দিনকে আটক করে থানায় খবর দেন এবং মামা নাজিম উদ্দিনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে সিওমেক হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ১১টায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন বলে খবর পাওয়া যায়।

ঘটনার সংবাদ পেয়ে তাৎক্ষণিক কানাইঘাট থানার এস.আই আবু কাউসার, মোঃ ইসমাইল, সনজিত কুমার রায় একদল পুলিশ নিয়ে জনতার হাতে আটককৃত ঘাতক আলমাছকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসেন।  এ ব্যাপারে নিহতের মা আফিয়া বেগম জানান, তার পরিবারে একমাত্র উপার্জনকারী ছেলে ঘাতক আলমাছের হাতে খুন হওয়ায় তার পরিবার নিঃস্ব অসহায় হয়ে পড়েছেন। এছাড়াও তিনি কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, তার ভয়ে তারই আপন মা ও স্ত্রী গত এক সপ্তাহ ধরে বাড়ী থেকে পালিয়ে অন্যত্র চলে গেছেন। কারন হিসাবে জানা যায়, গত ২২ মার্চ বৃহস্পতিবার অনুরূপভাবে সে একটি নতুন দা কিনে বাড়ীতে তার নিজের স্ত্রী ও মাকে খুন করতে এসেছিল।

পরে আত্মীয় স্বজন তার কাছ থেকে দা টি উদ্ধার করেন। এর পরদিন শুক্রবার থেকে সে রাগ করে বাড়ী ছেড়ে চলে যায়। গত বৃহস্পতিবার তার নির্মম দায়ের কোপে মামা নাজিম উদ্দিন খুন হন। গ্রেফতারকৃত আলমাছ উদ্দিনকে শুক্রবার আদালতে প্রেরন করেছে পুলিশ।

কমেন্ট
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •