হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার ৭ নম্বর বানিয়াচং ইউনিয়নে, আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে কিশোর গ্যাংয়ে ষর দৌরাত্ম্য। ধারালোঅস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্যে মহড়া, স্কুল কলেজগামী ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত, মাদক সেবন, চুরি -ছিনতাই ও সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ছে ১৫ থেকে ২০ বছর বয়সী কিশোর গ্যাংয়ের দল।
এতে অভিভাবক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বাড়ছে । পুলিশের অভিযানে সম্প্রতি কিশোর
গ্যাংয়ের তিন সদস্যকে আটক করা হয়েছে । এদিকে বানিয়াচংয়ের সর্বস্তরের মানষু কিশোর গ্যাং নির্মূল করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছে ।
সম্প্রতি বক্তারপুর আবুল খায়ের উচ্চ বিদ্যালয়, মহিলা কলেজ ও বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন এলাকায় ২০-২৫ জনের একটি
কিশোর দল ধারালো চাপাতি ও চায়নিজ কুড়াল হাতে প্রকাশ্যে মহড়া দেয়।
এক পর্যায়ে তারা অস্ত্র হাতে ভিডিও ধারণ করে তা ছড়িয়ে দেয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে , যা মহুূর্তে ই ভাইরাল হয় এবং শহরে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করে ।
একইভাবে বিসিক শিল্পনগরী এলাকায়ও ১০-১২ জনের একটি কিশোর গ্যাং দেশি অস্ত্র নিয়ে মোটরসাইকেলে শোডাউন করে ।
স্থানীয়রা জানায়, চলতি মাসের ১ তারিখ রবিবার রাতে, তারাবি নামাজের সময় কিশোর গ্যাংয়ের দইু গ্রুপের সদস্যরা বাইবাস সড়কে অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেয়। এ সময় দইু গ্রুপে র সদস্যরা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় লিপ্ত হয়। এতে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে ।
কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলার প্রতিটি থানার ওসিদের নির্দেশনা দিয়েছে জেলা পুলিশ।
থানা পুলিশ কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে সম্প্রতি অভিযান জোরদার করেছে । এরই অংশ হিসেবে বানিয়াচং এলাকা থেকে কিশোর
গ্যাংয়ের তিন সদস্যকে আটক করা হয়েছে ।
হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মোছা. ইয়াসমিন খাতুন বলেন, ‘কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে পুলিশ। তাদের চিহ্নিত করার
প্রক্রিয়া চলমান। কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িতদের তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি আইনাগত ব্যবস্থা গ্রহণে আমরা কাজ করছি ।’’
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, কিশোর গ্যাংয়ের মলূ নেতৃত্বে রয়েছেন বানিয়াচং উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক সৈকত
হোসেন খান। তিনি হবিগঞ্জ ২ আসনের বর্তমান এমপি ড: আবু মনসুর সাখাওয়াত হাসান এর আত্মীয় পরিচয় ব্যবহার করে সৈকত অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে । এ প্রসঙ্গে সৈকত হোসেন খান এর সাথে যোগাযোগ করলে বলেন, এসব আমার প্রতিপক্ষের অপ্রচার। আগামী জেলা ছাত্রদলের কমিটিতে যেন আমি কোন পদ না পেতে পারি এই জন্যই এরা আমার বিরুদ্ধে অপবাদ দিচ্ছে । এমপি
ড: আবু মনসুর সাখাওয়াত হাসান বলেন, আমি কাউকে শেল্টার দেই না। আমার এসবের প্রয়োজন নেই। জনগণ আমার সাথে আছে ।


