আমার ইচ্ছা ছিলো হাজার হাজার দর্শকদের সামনে আমি গান গাইবো: মিতালী দাস

বিনোদন প্রতিবেদক- শরীফ গাজী –

বাংলা গান নিয়ে ক্যাপশন হলো এমন ছোট, আকর্ষণীয় লেখা যা কোনো ছবি বা ভিডিওর সাথে যুক্ত করা হয়, যেখানে মূল বিষয়বস্তু থাকে গান বা সঙ্গীতের প্রতি অনুভূতি। এটি হতে পারে কোনো গানের লিরিক্সের একটি অংশ, যা আপনার বর্তমান মেজাজ বা পরিস্থিতি তুলে ধরছে, অথবা সঙ্গীতের প্রতি আপনার ভালো লাগা বা নস্টালজিয়া প্রকাশ করছে-ঠিক তেমনি মানুষ ভালোবাসা প্রকাশের সঙ্গে গানের যেন গভীর সম্পর্ক। গান ভালোবাসার শক্তি জোগায়,গানে মনের মানুকে ভালোবাসা প্রকাশ পায়, যে গান মানুষকে প্রেমের ভুবনে নিয়ে যেতে পারে,আর একজন অমানুষকে ভালো হতে সাহায্য করে,একজন ভালো শিল্পী হতে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে,সে জন্য প্রয়োজন একটি যাদুর কাঠি হচ্ছে কন্ঠ । যার গলায় যাদু আছে বলেই কন্ঠে সুর উঠে। এমন একজন নিজেই গীতিকার আবার সুরকার হতে পারে অবাস্তবকে বাস্তব করে তুলতে আর সেই যাদুর কাঠি সুরকার, গীতিকার ও কন্ঠ শিল্পী।

“যাকে সবাই এক নামে চেনেন মিতালী দাস  কন্ঠ শিল্পী, যার কন্ঠে আছে সুরের যাদু,গান শুনলে মনে হয় মনে প্রাণে শান্তি পায়-সেই শিল্পী বর্তমানে সিলেটের গর্ব করে বলতে হয় সুন্দর মনের মানুষ, কথা ও গানে  সুরে ফুটিয়ে তুলে শুনলে প্রাণ জুড়িয়ে যায়।

আসুন কন্ঠ শিল্পী মুখ থেকে শুনা যাক-

গানের শুরু গল্পটা জানতে চাই,ঠিক কতবছর বয়স থেকে চর্চা শুরু?

আমি ৩ বছর বয়স থেকে আমার গানের চর্চা শুরু হয়, আমার বাবা ভীষণ ভালো গান করেন।বাবা মায়ের কাছ থেকেই গানের প্রতি এত উৎসাহ পেয়েছি। আমারও গানের প্রতি ভীষণ ভালোলাগা সেই ছোট’বেলা থেকেই । সবার উপরে আমি গানকে প্রায়োরিটি দেই।পরিবারের সবাই গান করে। কিন্তু কাজের ব্যস্ততার মাঝে সবার গান আস্তে আস্তে হারিয়ে গেলেও আমি গানকে ছাড়া এক মুহূর্তও চলতে পারি না।

 

তোমার ওস্তাদজিদের নাম-

আমার গানের হাতেখড়ি শুরু হয়েছিলো সিলেট ললিতকলা একাডেমির টিচার রুমা কর ম্যাম এর মাধ্যমে । উনার কাছে গান শিখেছি almost 5 years.বাংলাদেশ শিশু একাডেমি-শিল্পকলাতে গানের কোর্স শেষ করেছি।

আমাদের প্রায়ই ইন্ডিয়া যাওয়া হতো ফ্যামিলি গত  কারণে, এখনও হয়। সেই সুবাদে আমি পন্ডিত বলরাম দাস এর কাছে গান শিখেছি।
সিলেটে উচ্চাঙ্গসংগীত এর তালিম নিয়েছি বিপ্রদাস ভট্টাচার্য স্যার এর কাছে ৭ বছর।

তারপর স্টেজে গান করার জন্য সেরকম কষ্ট করতে হয়নি আমার। আমি সব সময় বিভিন্ন প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করতাম, আর স্টেজ প্রোগ্রাম ২/৩ টা গান ছোট থেকেই করতাম।

আমার গান ভীষণ পছন্দ করে আমার মামি (ছবি দেবনাথ),- উনি আমাকে বলেছেন গানটা প্রফেশনালি করো। তখন আমি ক্লাস  6  এ পড়ি, তখন  আমিও ভাবলাম করাই যায়!

এবং আমার ইচ্ছা ছিলো হাজার হাজার দর্শকদের  সামনে আমি গান গাইবো। আমার মামি এবং আমার মা দুজনে মিলে বললেন ঠিক আছে এখন থেকে প্রফেশনালি শো করো।

প্রফেশনালি করার জন্য আমার নিজেরও প্রস্তুতির দরকার ছিল। আমাকে ভীষণ সাহায্য করেছিলেন সিলেটের বিখ্যাত গীটারিস্ট এবং পরিচিতো মুখ কন্ঠ শিল্পী  সুমন বড়ুয়া মামা, এবং সিলেটের জনপ্রিয় প্যাডিস্ট বাপ্পা সেন জয়দা।

 

“প্রথম মৌলিক গানের একটা গল্প থাকে-সেই গল্পটা জানতে চাই”-

আমার প্রথম মৌলিক গান “দুনিয়াটা টাকার খেলা ” করেছিলাম ২০১৯ সালে, কথা ও সুর ছিল রতন দেবনাথ এর।

সিলেটের জনপ্রিয় গীটারিস্ট এবং সংগীতশিল্পী সুমন বড়ুয়া মামার স্টুডিও ছিল,বড়ুয়া স্টুডিও।সেখানে আমি প্রায়ই যেতাম-প্র্যাকটিস করতাম।

তখনই গীতিকার এবং সুরকার রতন দেবনাথ মামার সাথে পরিচয় হয়। আমার গান শুনে উনি বলেছিলেন, মিতালী তুমি আমার একটা গান করো,এটা হবে তুমার মৌলিক গান।একজন শিল্পীর মৌলিক গান থাকাটা জরুরি।সেই গানটাই আমার প্রথম গান।

 

এরপর থেকে অনেক গান করেছি,আমার প্রিয়া যায়,চোখেতে চোখ,বৈশাখেতে দেখা হলো,নেশাভরা তর ঐ দুচোখে, বড় একলা একলা লাগে, আদর করমু কোলেতে লইয়া,গলার কাটা,প্রাণ বন্ধুর পিড়িতে আমার অন্তর হইলো কালা,রঙ্গীন বাইদ্যানি, শ্যামা মায়ের চরণ তলে,বাংলাদেশের সেনাবাহিনী সহ আরো অনেক মৌলিক গান করেছি আমি।

তার মধ্যে অভি মঈনুদ্দিন এর লিখা ও সুর করা,চোখেতে চোখ আমার ভীষণ প্রিয় গান।
সিলেটি নাটক, শর্ট ফিল্ম এ অনেক গান গেয়েছি। এগুলো সহ কাউন্ট করলে ২৫ টা মৌলিক গান আছে। আরও অনেক গুলো গান খুব তাড়াতাড়ি আসছে, আর নতুন গানের কাজ চলছে।

 

“গান নিয়ে আপনার আগামীর ভাবনা” নিজেকে কোথায় দেখতে চান?

গান নিয়ে অনেক দূর যেতে চাই।পৃথিবীর সবাই আমাকে চিনবে,জানবে, গানের মাধ্যমে।এটা আমার স্বপ্ন ও  ইচ্ছা। স্টেজ শো’ পাশাপাশি মৌলিক গানের অনেক কাজ করতে চাই। আমি তো  সাধারণত আধুনিক গানটাই বেশি করি, স্টেজের জন্য লোক গান’টাকে প্রাধান্য দেই।

সিলেট অঞ্চলের গান,লোক গান এগুলো নিয়েও বিশাল লম্বা প্ল্যান করে বসে আছি ।আস্তে আস্তে বাস্তবায়ন করবো।

আমাকে একজন ভালো মানুষ হিসেবে,শিল্পী হিসেবে চিনুক সেটা আমি চাই।গান নিয়েই সবার কাছে আমি আর্শিবাদ ও দোওয়া চাই যাতে  অনেক দূর এগিয়ে যেতে চাই।

 

তবে গান গেয়েছেন এ কন্ঠ শিল্পী আর মিউজিক ভিডিও বাস্তব জীবনের চরিত্র নিয়ে মডেল হিসেবে কাজ করেছেন নিজের গানের মধ্যে, যার দর্শকমহলের প্রিয় মুখ সিলেটের  কন্ঠ শিল্পী  হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেন ।

গানের কথার সাথে বাস্তবতার মিল রেখে মানব’জীবনের বিভিন্ন মুহুর্তের অবহেলা ও নিপিড়নের চিত্র তুলে ধরেন।  জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী ও গীতিকারদের গানের সুর মিলিয়ে গান করেছি,বাংলা গান আমার ভালোলাগার ভালোবাসার, গান জীবনের সাথে মিশে আছে।

আর গানের মাধ্যমাে মানুষকে কখনো বুঝানো হয়েছে, কখনো কাউকে অযোগ্য বলে অবহেলা করা ঠিক না। আমাদের ভেবে দেখতে হবে আমরাও কারো না কারো কাছে অযোগ্য। কেউ কারো যোগ্য নয়,যোগ্য বিবেচনা করে নিতে হয়।,

মানুষকে মানুষত্ব্য দিয়ে কাছে টেনে নিতে হয়। আমি যেখানে থাকি না কেনো আগে নিজের দেশকে প্রাধান্য দেই, তাই আগে দেশের গান এবং দেশকে ভালোবাসি আমার সোনার বাংলাকে,তাই বাংলা গান গাই সব সময়,গানের মধ্যে নিজেকে নিজেই খুঁজি।

কমেন্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *