সিলেট উইমেন চেম্বারে পাকিস্তান হাইকমিশনার দু-দেশের বাণিজ্য জোরদারে নতুন দিগন্তের আশা

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি, পর্যটন খাতের বিকাশ এবং বিশেষ করে নারী উদ্যোক্তাদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের এক নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সিলেটে নারী উদ্যোক্তাদের তৈরি হস্তশিল্প ও ঐতিহ্যবাহী পণ্যের ভূয়সী প্রশংসা করে দু-দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাই কমিশনার ইমরান হায়দার।

রবিবার (১৭ মে) বিকাল সাড়ে ৩ টায় সিলেট উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালনা পর্ষদের সাথে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ ও উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন। হাই কমিশনার চেম্বার কার্যালয়ে পৌঁছালে তাকে পরিচালনা পরিষদের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়।

পরিদর্শনকালে হাই কমিশনার ইমরান হায়দার সিলেট উইমেন চেম্বারের উদ্যোক্তাদের নিজস্ব তত্ত্বাবধানে তৈরি বিভিন্ন হস্তশিল্প ও ঐতিহ্যবাহী পণ্যসামগ্রী ঘুরে দেখেন। বিশেষ করে সিলেটের ঐতিহ্যবাহী মনিপুরী শাড়ি, জামদানি এবং নারী উদ্যোক্তাদের হাতের নিখুঁত কারুকাজে তৈরি বিভিন্ন সামগ্রী দেখে তিনি অভিভূত হন। ঐতিহ্য ও আধুনিকতার সংমিশ্রণে তৈরি এসব পণ্যের গুণগত মানের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি নারী উদ্যোক্তাদের সৃজনশীলতা ও ব্যবসায়িক দক্ষতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

চেম্বারের সভাপতি লুবানা ইয়াসমিন শম্পার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পরবর্তী দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে পাকিস্তানের হাই কমিশনার বলেন, আজকের এই বৈঠকটি কেবল একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়, বরং এটি দুই দেশের বাণিজ্য, ব্যবসায়িক সহযোগিতা এবং নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নসহ পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার একটি কার্যকর মাধ্যম।”

উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে যৌথ বাণিজ্য মেলা ও প্রদর্শনী আয়োজনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন হাই কমিশনার। তিনি জানান, এমন আয়োজনের মাধ্যমে দু-দেশের উদ্যোক্তারা তাদের পণ্য প্রদর্শন, ব্যবসায়িক ধারণা বিনিময় এবং দীর্ঘমেয়াদী টেকসই অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার সুবর্ণ সুযোগ পাবেন।

হাই কমিশনার ইমরান হায়দার স্পষ্ট করেন যে, পাকিস্তানের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পণ্যের ব্যাপক চাহিদা ও সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে,নারী উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত বৈচিত্র্যময় পণ্য ও হস্তশিল্প,উন্নত মানের তৈরি পোশাক ও চামড়াজাত পণ্য, বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী চা ও কৃষিভিত্তিক পণ্য

তিনি আশ্বস্ত করেন, পাকিস্তানি ও বাংলাদেশী ব্যবসায়ীদের মধ্যে যোগাযোগ সহজতর করতে এবং এই রপ্তানি বাজারকে আরও সম্প্রসারিত করতে পাকিস্তান হাইকমিশন সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করবে।

বৈঠকে সিলেট উইমেন চেম্বারের সভাপতি লুবানা ইয়াসমিন শম্পা আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকার জন্য পণ্যের গুণগত মান, উন্নত প্যাকেজিং ও ব্র্যান্ডিংয়ের ওপর জোর দেন। এই লক্ষ্য অর্জনে দু-দেশের মধ্যে জ্ঞান বিনিময় ও যৌথ প্রশিক্ষণের আহ্বান জানান তিনি।

নারী নেতৃত্বকে বিশ্বমঞ্চে এগিয়ে নিতে তিনি একটি চমৎকার প্রস্তাব পেশ করে বলেন, উভয় দেশের নারী ব্যবসায়িক নেতাদের অংশগ্রহণে একটি “নারী উদ্যোক্তা শীর্ষ সম্মেলন” আয়োজন করা যেতে পারে। এই উদ্যোগ নারী উদ্যোক্তাদের নেটওয়ার্কিং, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনাকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবে।

বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ ছিল সিলেটের পর্যটন শিল্প। সিলেটের নৈসর্গিক প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, বিস্তীর্ণ চা বাগান, ইকো-ট্যুরিজম এবং সমৃদ্ধ আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যকে পাকিস্তানের পর্যটকদের কাছে তুলে ধরার আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা একমত হন যে, পর্যটন খাতের যৌথ সহযোগিতা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচি দু-দেশের জনগণের মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্ককে (People-to-People Connectivity) আরও গভীর ও অর্থবহ করে তুলবে।

বৈঠক শেষে উইমেন চেম্বারের পক্ষ থেকে হাই কমিশনারকে ধন্যবাদ জানিয়ে আশা প্রকাশ করা হয় যে, এই ফলপ্রসূ আলোচনার সূত্র ধরে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, পর্যটন এবং নারী-নেতৃত্বাধীন ব্যবসা উন্নয়নে সহযোগিতার এক নতুন দ্বার উন্মোচন হবে।

বৈঠকে এসময় উপস্থিত ছিলেন. চেম্বারের পরিচালক সামা হক চৌধুরী, সাইমা সুলতানা চৌধুরী,রেহানা আফরোজ,রেহানা ফারুক শিরিন, আসমা উল হাসনা খান,জাকিরা ফাতেমা লিমি চৌধুরী, শাহানা আক্তার ও তাহমিনা হাসান চৌধুরী।

সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছেন, পাকিস্তানের হাই কমিশনারের এই সিলেট সফর এবং নারী উদ্যোক্তাদের প্রতি তার এই ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি আগামী দিনে দু-দেশের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

কমেন্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *