১১ দফা দাবিতে সিসিক প্রশাসক বরাবর রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়নের স্মারকলিপি

সিলেটে আটককৃত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাগুলো মালিকদের কাছে দ্রুত হস্তান্তর এবং চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছে রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়ন। রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুরে নগর ভবনে এই স্মারকলিপি পেশ করা হয়।
স্মারকলিপিতে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন, সিলেট নগরের প্রায় ৩০ হাজার রিকশা শ্রমিকের কর্মসংস্থানের যোগান দেয় এই অটোরিকশা। মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতের অন্যতম প্রধান বাহন হিসেবে এটি দেশের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে আটককৃত যানবাহন ফিরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি যেসব গ্যারেজের বৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে, সেগুলো পুনরায় চালুর দাবি জানান।
স্মারকলিপিতে উল্লিখিত ১১ দফার মূল দাবিগুলো হলো, বিআরটিএ কর্তৃক নীতিমালা প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত নগরীর গলি ও প্রয়োজনীয় সড়কে চলাচলের অনুমতি প্রদান। রিকশা, সিএনজি, বাস মালিক-শ্রমিক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে ‘সড়ক ব্যবস্থাপনা ও পরিকল্পনা কমিটি’ গঠন। জরিপের মাধ্যমে অটোরিকশার সংখ্যা ও মালিকানা নির্ধারণ করে রুট নিশ্চিত করা। নতুন বাহন বৃদ্ধি রোধে শ্রমিক সংগঠনের সমন্বয়ে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ। শ্রমিকদের ওপর দায়েরকৃত সকল মামলা প্রত্যাহার। বাহনসমূহের আধুনিকায়ন ও বাহন বিনিময় নীতিতে শ্রমিক প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। অবৈধ কার্ড বা টোকেন বাণিজ্যের নামে চাঁদাবাজি ও জুলুম বন্ধ করা। অটোরিকশা গ্যারেজের ট্রেড লাইসেন্স প্রদান করা। সকল সড়কে পর্যায়ক্রমে সার্ভিস লেন নির্মাণ ও নির্ধারিত স্ট্যান্ড চালু করা। র‌্যাকার বিল কমিয়ে যৌক্তিক করা এবং ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন। শ্রম সংস্কার কমিশনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন ও শ্রমিকদের সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করা।
স্মারকলিপি প্রদানের সময় উপস্থিত ছিলেন রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়ন সিলেট জেলার উপদেষ্টা এডভোকেট আনোয়ার হোসেন সুমন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাশরুখ জলিল, শ্রমিক নেতা ইবরাহিম খলিল, মোহাম্মদ সবুজ এবং শহিদুল ইসলামসহ অন্যান্য শ্রমিক নেতৃবৃন্দ।
স্মারকলিপি প্রদানকালে নেতৃবৃন্দ বলেন, মানবিক দিক এবং দেশের অর্থনীতির কথা বিবেচনা করে ব্যাটারিচালিত যানবাহনের পুঁজিকে নিরাপদ করা জরুরি। একইসাথে প্যাডেল চালিত যানবাহনের অমানবিক ‘পশু শ্রম’ থেকে মানুষকে মুক্ত করে এই বাহনের আধুনিকায়ন ত্বরান্বিত করার দাবি জানান তারা।

কমেন্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *