মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘নিহিত আগুনদিন’ নিয়ে পাঠ-পরবর্তী আলোচনা

সিলেট নগরের পূর্ব জিন্দাবাজার এলাকার গ্রন্থবিপণি বাতিঘরে লেখক স্মৃতি ভদ্র রচিত উপন্যাস ‘নিহিত আগুনদিন’-এর পাঠ-পরবর্তী আলোচনা অনুষ্ঠান হয়েছে। সোমবার (৩০ মার্চ) সন্ধ্যা ৭টায় এ আয়োজন শুরু হয়। অনুষ্ঠানে উপন্যাসটি নিয়ে একক বক্তব্য দেন কবি ও গবেষক ড. মোস্তাক আহমাদ দীন। তিনি মুক্তিযুদ্ধ ও দেশাত্মবোধের চেতনায় নির্মিত উপন্যাসটির মনস্তাত্ত্বিক পটভূমি বিশ্লেষণ করে উপন্যাসটির মূল চরিত্র লক্ষীর জীবনপ্রবাহের একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র তভর বক্তব্যে তুলে ধরেন। পাশাপাশি উপন্যাসটির বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা করেন। এ সময় তিনি এ উপন্যাসের চিত্রকল্পে স্বাধীনতাকামী মানুষের মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসা, স্মৃতি-বিস্মৃতি ও অনুভূতির বিষয়গুলোও তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন নাট্যব্যক্তিত্ব মু. আনোয়ার হোসেন রনি। স্বাগত বক্তব্য দেন আমেরিকা প্রবাসী সাংস্কৃতিক সংগঠক আনোয়ারুল হক লাভলু। তিনি ‘নিহিত আগুনদিন’ গন্থটির লেখিকা স্মৃতি ভদ্রের ‘রসুইঘরের রোয়াক’সহ অন্যান্য লেখা নিয়েও সংক্ষিপ্ত  আলোচনা করেন। লেখিকাকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রবাসে থেকেও দেশের সাহিত্য-সংস্কৃতিতে তার অবদান প্রশংসনীয়। তার লেখায় স্বাধীনতাকামী মানুষের অনুভূতির প্রকাশ অত্যন্ত শক্তিশালী ও ব্যতিক্রমধর্মী।’
এ ছাড়াও অনুষ্ঠানে আলোচনায় অংশ নিয়ে একাধিক বক্তা বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও স্বাধীনতার ইতিহাসকে কেন্দ্র করে রচিত এ উপন্যাস বর্তমান প্রজন্মের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের স্বল্পদৈর্ঘ্য কনটেন্টের এই সময়ে এমন একটি বই তরুণদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা জাগ্রত করতে ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।’
অনুষ্ঠানে অনান্যদের মধ্যে অলোচনায় অংশগ্রহণ করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শিশুসাহিত্যিক তুষার কর,গবেষক ও কবি ড. আবুল ফতেহ ফাত্তাহ, সম্মিলিত নাট্য পরিষদ সিলেটের সাবেক প্রধান পরিচালক অরিন্দম দত্ত চন্দন, বর্তমান প্রধান পরিচালক শামসুল বাসিত শেরো, পরিচালক মঞ্জুর আহমদ চৌধুরী, নাট্যব্যক্তিত্ব আমিরুল ইসলাম চৌধুরী বাবু ও নাট্যাভিনেতা নীলাঞ্জন দাশ টুকু, অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মুহিবুর রহমান বুলবুল, লেখক বিধুভূষণ ভট্টাচার্য ও রণদীপম বসু, কবি পুলিন রায়, কবি সুমন বনিক, কবি প্রণবকান্তি দেব এবং উপস্থাপক কুমকুম হাজেরা মারুফা প্রমুখ। আবৃত্তি করেন আনোয়ারুল হক লাভলু ও জিল্লুর রহমান জয়। অনুষ্ঠানে সিলেটের সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সাংবাদিকতাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রায় শতাধিক প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

কমেন্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *