আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরান যুদ্ধ চলতে থাকলে তা বিস্তৃত বৈশ্বিক সংকটে রূপ নিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তুরস্কের গোয়েন্দা প্রধান ইব্রাহিম কালিন। এর খেসারত পুরো পৃথিবীকে দিতে হবে বলে মনে করেন তিনি।
শনিবার ইস্তাম্বুলে ‘স্ট্র্যাটকম সামিটে’ তিনি এই শঙ্কার কথা জানান বলে আনাদোলু এজেন্সির খবরে বলা হয়েছে।
তুরস্কের ‘ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স অর্গানাইজেশনের’ প্রধান কালিন মনে করেন, কোভিড মহামারীর পর থেকে বিশ্ব নানা ধরনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত, সংকট ও ভাঙনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, পাঁচ বছরে গড়ানো রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ কবে শেষ হবে, তা এখনও অস্পষ্ট। ২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে শুরু হওয়া যুদ্ধ এখনো ভোগাচ্ছে। গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা চলছে ঠিকই, কিন্তু সেখানে ইসরাইলের দখলদারিত্ব ও আইন লঙ্ঘন অব্যাহত রয়েছে।
কালিন মনে করেন, বর্তমান ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপট তৈরি হয় গত বছরের জুনে।
ওই সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ১২ দিন যুদ্ধ চলে ইরানের। এরপর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে নতুন করে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল।
তুরস্কের গোয়েন্দা প্রধান বলেন, বর্তমানে এক মাস ধরে যে যুদ্ধ চলছে, আমরা তার মাঝামাঝি অবস্থায় রয়েছি।
তার দাবি, ইরানে হামলা ঠেকাতে এবং যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়া রোধে তুরস্ক জোরালো কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়েছে।
তুর্কি প্রেসিডেন্টের সতর্কবার্তার মতোই ইসরাইলের শুরু করা আঞ্চলিক যুদ্ধ দ্রুত বৈশ্বিক সংকটে পরিণত হচ্ছে। এটি এমন এক যুদ্ধ হয়ে উঠতে পারে, যার মূল্য ৮০০ পৃথিবীর কোটি মানুষকেই দিতে হবে।
তিনি বলেন, আমাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা হচ্ছে এই যুদ্ধ যেন যত দ্রুত সম্ভব শেষ হয়।
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে বৈধ নয় বলে মনে করেন তুরস্কের গোয়েন্দা প্রধান। মধ্যপ্রাচ্যে ‘জোর করে নতুন বাস্তবতা তৈরির চেষ্টা চলছে’ বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, আমরা খুব ভালো করেই জানি, যারা এই যুদ্ধ বাধিয়েছে, তারা ধ্বংস ও দখলদারিত্বের নীতির মাধ্যমে লেবানন, সিরিয়া, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড এবং অন্যান্য স্থানে নতুন বাস্তবতা তৈরির চেষ্টা করছে।
কালিনের অভিযোগ, ইসরাইল সংলাপের পথ খোলার প্রচেষ্টাকে দুর্বল করে দিয়েছে।


