‘মোঃবদরুল হোসেন খান কামরান’:: শুকিয়ে গেছে রক্তের দাগ, শুকায়নি চোখের পানি। তাই তো আগস্ট এলেই ভেসে উঠে এই রক্তের ছাপ। কেননা এই আগস্টেই কাল সাপের ছোবলে প্রাণ যায় জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানের। এ মাসেই হত্যার চেষ্টা করা হয় তার কন্যা শেখ হাসিনাকে। আর দেশের ৬৩ জেলায় একযোগে বোমা বিস্ফোরণের দৃশ্যও এ মাসেই দেখে গোটা জাতি। কালের সাক্ষী হয়ে রইলো রক্তে লেখা আগস্ট।
১৯৭৫ সালের এ মাসেই বাঙালি হারিয়েছে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। ২০০৪ সালের ২১আগস্ট এই মাসেই গ্রেনেড ছুঁড়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল জাতির জনকের কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে।
সেদিন ভাগ্যক্রমে বেঁচে গিয়েছিলেন তিনি। ওই ঘটনায় সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমানের সহধর্মিনী, আওয়ামী লীগের সেই সময়ের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত এবং পাঁচ শতাধিক নেতা-কর্মী আহত হন।
শুধু তাই নয় এই আগস্ট মাসে সারা দেশে সিরিজ বোমা হামলা চালিয়েছিল জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি)। ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট একযোগে কেঁপে উঠেছিল সারা দেশ। সেদিন সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা ১২টার মধ্যে মুন্সীগঞ্জ ছাড়া দেশের ৬৩ জেলার ৪৫০ স্থানে পাঁচ শতাধিক বোমার বিম্ফোরণ ঘটায় জেএমবি। এতে মারা যায় দু’জন, আহত হয় আরো শতাধিক মানুষ।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালরাতে ঘাতকরা শুধু বঙ্গবন্ধুকেই হত্যা করেনি, তাদের হাতে একে একে প্রাণ দিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিনী বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, বঙ্গবন্ধুর সন্তান শেখ কামাল, শেখ জামাল, শিশু শেখ রাসেলসহ পুত্রবধু সুলতানা কামাল ও রোজি জামাল।
পৃথিবীর এই ঘৃণ্যতম হত্যাকাণ্ড থেকে বাঁচতে পারেননি বঙ্গবন্ধুর সহোদর শেখ নাসের, ভগ্নিপতি আব্দুর রব সেরনিয়াবাত, ভাগ্নে যুবনেতা ও সাংবাদিক শেখ ফজলুল হক মনি, তার সহধর্মিনী আরজু মনি ও কর্নেল জামিলসহ পরিবারের ১৬ জন সদস্য ও আত্মীয়-স্বজন।
সেনাবাহিনীর কিছুসংখ্যক বিপথগামী সদস্য স্বপরিবারে জাতির জনককে হত্যা করার পর গোটা বিশ্বে নেমে আসে তীব্র শোকের ছায়া এবং ছড়িয়ে পড়ে ঘৃণার বিষবাষ্প। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর নোবেল জয়ী পশ্চিম জার্মানীর নেতা উইলি ব্রানডিট বলেছিলেন, ‘মুজিবকে হত্যার পর বাঙালিদের আর বিশ্বাস করা যায় না। যে বাঙালি শেখ মুজিবকে হত্যা করতে পারে তারা যে কোন জঘন্য কাজ করতে পারে।’
ভারত বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক ও বিশিষ্ট সাহিত্যিক নীরদ সি চৌধুরী বাঙালিদের ‘বিশ্বাসঘাতক’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেছেন, ‘বাঙালি জাতির স্বপ্নদ্রষ্টা শেখ মুজিবকে হত্যার মধ্য দিয়ে বিশ্বের মানুষের কাছে নিজেদের আত্মঘাতী চরিত্রই তুলে ধরেছে।’
দ্য টাইমস অব লন্ডন’র ১৯৭৫ সালের ১৬ আগস্ট সংখ্যায় উল্লেখ বলা হয়, ‘সবকিছু সত্ত্বেও বঙ্গবন্ধুকে সবসময় স্মরণ করা হবে। কারণ তাকে ছাড়া বাংলাদেশের বাস্তব কোন অস্তিত্ব নেই।’ একই দিন লন্ডন থেকে প্রকাশিত ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকায় বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশের লাখ লাখ লোক শেখ মুজিবের জঘন্য হত্যাকাণ্ডকে অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে বিবেচনা করে।
টেলিগ্রাফ পত্রিকাটি সেদিন সুদূরপ্রসারী মন্তব্য করেছিল। দেশের মানুষ এখন অনুধাবন করতে পারে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে নস্যাৎ করে দেশে পাকিস্তানি ভাবধারা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই স্বাধীনতার বিরোধীতাকারী এবং দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছিল।’
লেখকঃবদরুল হোসেন খান কামরান
যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক স্বেচ্ছাসেবক লীগ, সিলেট মহানগর।


