সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জোরপূর্বক পৈতৃক সম্পত্তি ও ভোগদখলীয় জমি জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতাসহ একদল সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে। উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের ১ম খণ্ড মৌজায় এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে ভুক্তভোগী পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কামাল উদ্দিন বাদী হয়ে গোয়াইনঘাট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন, ফতেহপুর ১ম খন্ডের মৃত সফর আলীর ছেলে শহিদ মিয়া, শহীদ মিয়ার ছেলে ইসলাম উদ্দিন, মাতাব উদ্দিন ও মারুফ আহমদ এবং স্ত্রী মায়ারুন নেছা, ফতেহপুর ৪র্থ খন্ডের মৃত মঈন উদ্দিনের ছেলে হেলাল উদ্দিন, মৃত জমসিদ আলীর ছেলে এনামুল হক ও আশরাফুল আলম, মুছা মিয়ার ছেলে মন্তাজ আলী ও আফতাব মিয়া এবং ইলিয়াস আলীর ছেলে বাবুল মিয়া।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিরোধপূর্ণ ওই জমি নিয়ে সিলেট যুগ্ম জেলা জজ ১ম আদালতে একটি দেওয়ানি মামলা (নং- ৭/২০২৩ ইং) বিচারাধীন রয়েছে। এর প্রেক্ষিতে জেলা জজ আদালত ওই ভূমিতে বিবাদী পক্ষের প্রবেশের ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। কিন্তু আদালতের সেই আদেশ তোয়াক্কা না করে গত ১৩ আগস্ট সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে ফতেহপুর ইউনিনের বাবুল মিয়া, এনামুল হক ও আশরাফুল আলমের নেতৃতে বিবাদীগণ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ওই জমিতে অনধিকার প্রবেশ করেন এবং জোরপূর্বক হাল চাষ করে চারা রোপণের চেষ্টা চালান।
ভুক্তভোগী কামাল উদ্দিন জানান, মামলার প্রথম পাঁচজন আসামি শহীদুল মিয়া, ইসলাম উদ্দিন, মাতাব উদ্দিন, মারুফ আহমদ ও মায়ারণ নেছার সরাসরি নির্দেশনায় এই জমি দখলের চেষ্টা চালানো হয়। স্থানীয় কুখ্যাত সন্ত্রাসী বাবুল মিয়া, এনামুল হক ও আশরাফুল আলমের নেতৃত্বে একদল ভাড়াটে সন্ত্রাসী এই তান্ডব চালায়। এর মধ্যে অন্যতম অভিযুক্ত বাবুল মিয়া বর্তমানে নিজেকে স্থানীয় বিএনপি নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে এলাকায় এই ধরনের নানা অপকর্ম ও সাধারণ মানুষের জমি জবরদখল করে বেড়াচ্ছেন। জমিতে চারা রোপণে বাধা দিলে সন্ত্রাসীরা ভুক্তভোগী পরিবারকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে এবং মারধরের জন্য অস্ত্র উঁচিয়ে তাড়া করে। বর্তমানে বিবাদীগণের অব্যাহত হুমকি-ধমকির মুখে পরিবারটি চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও দাঙ্গা-হাঙ্গামার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক মোড়ল জানান, “অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আদালতের আদেশের কপি এবং পুরো বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


