ডলারের দুর্বলতা এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু হওয়ার সম্ভাবনায় বেড়েছে স্বর্ণের দাম। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) স্বর্ণের দাম প্রায় দেড় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে এনিয়ে টানা চতুর্থ দিনের মতো বেড়েছে মূল্যবান ধাতুটির দাম।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এদিন বাংলাদেশ সময় বেলা ১২টা ৩৬ মিনিটে স্পট গোল্ডের দাম ০.২ শতাংশ বেড়ে যায়। এতে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৪,২৫৪.৯৮ ডলারে দাঁড়ায়। দিনের শুরুতে এটি ১৮ জুনের পর সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছে।
এর আগে গতকাল বুধবার স্বর্ণের দাম ফেব্রুয়ারির পর একদিনে সবচেয়ে বড় উল্লম্ফন দেখেছিল। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণের ফিউচার ০.২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪,৩১২.৮০ ডলারে ওঠে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক অগ্রগতির সম্ভাবনা এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু হওয়ার আশা বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে মার্কিন ডলারের দুর্বলতাও স্বর্ণের দামে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
বাজার বিশ্লেষণা প্রতিষ্ঠান আইজি-এর বিশ্লেষক টনি সাইকামোর বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য কূটনৈতিক সমাধানের আশায় তেলের দামের ওপর চাপ কমতে পারে। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সুদের হার বাড়ানোর প্রয়োজনও কমবে, যা স্বর্ণের জন্য ইতিবাচক।
তবে রয়টার্স জানিয়েছে, ইরান ও ওমানের মধ্যে প্রস্তাবিত একটি চুক্তির অগ্রগতি হয়েছে। এটি হলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে উপসাগরে প্রবেশকারী জাহাজের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করবে ইরান। এই চুক্তির লক্ষ্য পাঁচ মাস ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের অবসান ঘটানো।
তবে বিনিয়োগকারীদের নজর এখন শুক্রবার প্রকাশিতব্য যুক্তরাষ্ট্রের জুলাই মাসের নন-ফার্ম পেরোলস (কর্মসংস্থান) প্রতিবেদনের দিকে। এর আগে প্রকাশিত এডিপি প্রতিবেদনে দেখা গেছে, জুলাইয়ে বেসরকারি খাতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির গতি কমেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, কর্মসংস্থানের তথ্য প্রত্যাশার চেয়ে দুর্বল হলে স্বর্ণের দাম আরও বাড়তে পারে। তবে শক্তিশালী কর্মসংস্থানের তথ্য এলে সুদের হার নিয়ে বাজারের প্রত্যাশা বদলাতে পারে, যা স্বল্পমেয়াদে স্বর্ণের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে রূপার দাম ০.৫ শতাংশ কমেছে। এতে প্রতি আউন্স ৬১.৭৮ ডলারে নেমেছে। প্লাটিনাম ০.৮ শতাংশ বেড়ে ১,৭৫৫.১৮ ডলারে পৌঁছেছে। যা জুনের পর সর্বোচ্চ। আর প্যালাডিয়াম টানা তৃতীয় দিনের মতো বেড়ে ০.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১,৭৪৮.০৮ ডলারে লেনদেন হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কমলে এবং হরমুজে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হলে মূল্যবান ধাতুগুলোর দামে আরও প্রভাব পড়বে।


