হোটেল সেক্টরে সরকার ঘোষিত নি¤œতম মজুরি, ৮ ঘণ্টা কাজ, সাপ্তাহিক ছুটি, নিয়োগপত্র পরিচয়পত্র প্রদানসহ শ্রম আইন বাস্তবায়ন ও সর্বস্তরে রেশনিং ব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়ে ২৪ জুন বিকেল ৪টায় সিলেট জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত।
ইউনিয়নের সভাপতি মো. ছাদেক মিয়া’র সভাপতিত্বে এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন’র পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় মীর মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন’কে আহবায়ক ও ইমান আলী, মো. সুনু মিয়া সাগর’কে যুগ্ন আহবায়ক করে ১১-তম জেলা সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি গঠন করা হয়। সভায় অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ সিলেট জেলা ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, বাংলাদেশ স’মিল শ্রমিক ফেডারেশন (রেজিঃ নং বি-২২০০)-এর সহ-সাধারণ সম্পাদক শ্রমিকনেতা রুহুল আমিন, জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট সিলেট জেলা কমিটির দপ্তর সম্পাদক রমজান আলী পটু। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন সিলেট জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়ন মহানগর কমিটির সাবেক সভাপতি বদরুল ইসলাম (কালা মিয়া), উপদেষ্টা আনু মিয়া, সহ-সভাপতি ও জিন্দাবাজার আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি মো. আলমাছ মিয়া, সাবেক সহ-সভাপতি মীর মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইমান আলী, শাহপরান থানা কমিটির সহ-সভাপতি মো.আলীম উদ্দিন, বন্দরবাজার আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি সাহাব উদ্দিন, দরগা গেইট আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি মো. আবজাল হোসেন বোরহান, আম্বরখানা আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি রাশেদ আহমদ ভূইয়া, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক সুনু মিয়া সাগর, জেলা কমিটির অন্যতম নেতা ও বাবনা আঞ্চলিক কমিটির সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন, মেডিকেল আঞ্চলিক কমিটির আহবায়ক মো. শাহজাহান মিয়া, জিন্দাবাজার আঞ্চলিক কমিটির প্রচার সম্পাদক মো. নাঈমসহ প্রমুখ।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন হোটেল সেক্টরের শ্রমিকদের যেমন নেই চাকরির নিশ্চয়তা, তেমনি নেই জীবনের নিরাপত্তা। হোটেল-রেস্টুরেন্ট মালিকরা দেশে প্রচলিত শ্রমআইনের তোয়াক্কা না করে তাদের মনগড়া ইচ্ছামাফিক স্বেচ্ছাচারী কায়দায় প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন। দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন উর্দ্ধগতির বাজারে শ্রমিকরা যে বেতন পায় তা দিয়ে মাসের ১০ দিন চলাও কঠিন। হোটেল-রেস্টুরেন্ট সেক্টরের শ্রমিকদের বাঁচার মত মজুরি, শ্রমআইন অনুযায়ী প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা আদায়ের সংগ্রামের পাশাপাশি শ্রমিক শ্রেণির সার্বিক মুক্তির লক্ষ্যে হোটেল-রেস্টুরেন্ট শ্রমিকদেরকে দেশের অপরাপর সেক্টরের শ্রমিকদের ও জনগণের আন্দোলন-সংগ্রামে একাতœ হতে হবে। সেই সাথে শ্রমিক-কৃষক-জনগণের সাম্রাজ্যবাদ-সামন্তবাদ বিরোধী জাতীয় গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে অগ্রসর করা ছাড়া হোটেল-শ্রমিকসহ শ্রমিক-কৃষক-জনগণের সার্বিক মুক্তি অর্জনের বিকল্প নেই। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে বৃহত্তর আন্দোলন-সংগ্রাম গড়ে তোলার আহবান জানান।
সভায় কোষাধ্যক্ষ মহিদুল ইসলাম ১ জানুয়ারি ২০২৫ হতে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত সংগঠনের আয়-ব্যয় হিসেব উত্থাপন করেন যা আলোচনা পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হয়।
সভা থেকে জেলা কমিটির অবগতি ব্যতিত অনিয়মতান্ত্রিকভাবে গঠিত গত ২৮ মার্চ ২০২৬ তারিখে সিলেট জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়ন দক্ষিণ সুরমা উপজেলা সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি বাতিল করে দক্ষিণ সুরমা উপজেলা কমিটির সকল কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয় এবং জেলা কমিটির সিদ্ধান্তের আলোকে গত ১২ জুন কর্মীসভার মধ্য দিয়ে আনোয়ার হোসেন’কে আহবায়ক ও মো. জিতু মিয়াকে যুগ্ন আহবায়ক করে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি গঠন ও তা সম্পন্ন করার দায়িত্ব প্রদান করা হয়।
সিলেট জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত
কমেন্ট
