২০২৬-২৭ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেটের মাধ্যমে জনগণের উপর করের বোঝা চাপিয়ে সাম্রাজ্যবাদের স্বার্থ রক্ষা করা হয়েছে। বিগত সময়ে ক্ষমতাসীন সাম্রাজ্যবাদের দালাল সরকারগুলোর মতই বর্তমান সরকারও সাম্রাজ্যবাদ বিশেষত মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের স্বার্থ রক্ষা করছে।
১৪ জুন বিকেল ৪টায় সুরমা পয়েন্টে গতানুগতিক ঋণনির্ভর বাজেটকে গণবিরোধী বলে সমাবেশ করে জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট সিলেট জেলা। জেলা কমিটির অন্যতম নেতা রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে এবং দপ্তর সম্পাদক রমজান আলী পটুর পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট সিলেট জেলা কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. ছাদেক মিয়া, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ সিলেট জেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সরকার, জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এনডিএফ) শাহপরান থানা কমিটির সভাপতি খোকন আহমদ,সিলেট জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়ন বন্দর বাজার আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি সাহাবউদ্দিন, আম্বরখানা আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি রাশেদ আহমদ, কোষাধ্যক্ষ মুহিদুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন, সিদ্দেক আহমদসহ প্রমুখ।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন প্রচলিত নয়াঔপনিবেশিক ও আধাসামন্তবাদী রাষ্ট্রব্যবস্থায় সকল সরকারের বাজেটই জাতীয় ও জনস্বার্থবিরোধী হয়েছে। নির্বাচিত বা অনির্বাচিত সকল দালাল সরকারগুলিই বাজেট প্রণয়নের মাধ্যমে সাম্রাজ্যবাদ ও আমলা-মুৎসুদ্দি পুঁজিপতি শ্রেণীর স্বার্থ রক্ষা করেছে। এসব বাজেট শোষণ-লুণ্ঠনের দলিল হওয়ায় এসব বাজেট জাতীয় ও জনস্বার্থ উপেক্ষিত হয়ে শ্রমিক-কৃষক-জনগণের জীবন কঠিন থেকে কঠিনতর করে তুলেছে। বাজেটে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের জন্য কৃষি ভিত্তিক শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারেও কোন সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা নেই। কৃষি খাতে যে অবৈধ মজুতদারি, বিপননে কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি তা মোকাবেলা কোন কার্যকর পদক্ষেপ নেই। বাজেটের আকার বৃদ্ধির সঙ্গে এবং বাজেটের ভর্তুকি কমাতে মধ্যবিত্ত, নি¤œ-মধ্যবিত্ত দরিদ্র জণগনের উপর ভ্যাট-ট্যাক্সসহ বিভিন্ন ধরনের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর আদায়ের চাপ বাড়বে। শিক্ষা উপকরণ, গৃহস্থলির সামগ্রী, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী সহ জিনিসপত্রের দাম বাড়ানো হবে, যা ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য বৃদ্ধি পেয়ে সামাজিক অস্থিরতাকে আরো বাড়িয়ে তুলবে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, প্রতিবারই লুটপাটের স্বার্থে বাজেটে ক্রমাগতভাবে ভ্যাট-ট্যাক্সসহ করের জাল বৃদ্ধি করা হয়। সাম্রাজ্যবাদ ও তার বিশ্বসংস্থা আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের নীতি নির্দেশে বাজেটে সাম্রাজ্যবাদী লগ্নিপুঁজির সর্বোচ্চ মুনাফা ও লুটপাটের স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। সাম্রাজ্যবাদের দালাল ক্ষমতাসীন বর্তমান সরকারের প্রণীত বাজেটও পূর্বের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে জনগণের উপর করের বোঝা আরও বৃদ্ধি করেছে। অপরদিকে সাম্রাজ্যবাদীদের বিশ্বযুদ্ধ প্রস্তুতির প্রেক্ষিতে বিভিন্ন উদ্যোগ বাজেট পরিকল্পনায় প্রতীয়মান হয়েছে। ৯ লক্ষ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত এ বাজেটের ঘাটতি মেটাতে দেশী-বিদেশী মাধ্যম থেকে প্রায় আড়াই লক্ষ কোটি টাকার বেশি ঋণ এবং অনুদান নিতে হবে। এই ঋণ ও ঋণের সুদ শেষ পর্যন্ত জনগণকেই বহন করতে হয়।
সমাবেশ থেকে এ বাজেটকে গনবিরোধী বলে উল্লেখ করে প্রত্যাখান করেন এবং ছাত্র-কৃষক, শ্রমিক-শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণে গণমুখী বাজেট কার্যকর করার দাবি জানান।
কমেন্ট

